‘পাইলট বা নেভি হলেই কেউ ভদ্রলোক হয় না…পদবি মানুষ বানায় না, মানসিকতাই পরিচয়!’ দেবলীনার আত্ম’হন’নের চেষ্টার ঘটনায়, মানুষের পেশা, পরিচয় নিয়ে বড় মন্তব্য তিথি বসুর

বছরের প্রথম দিনেও সব কিছু ঠিক। গত পরশু রাতে গানের শো শেষ করে, ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) সেই লাইভ ভিডিওটি প্রথমে অনেকের কাছেই আর পাঁচটা পোস্টের মতোই মনে হয়েছিল। কিন্তু কিছু সময় গড়াতেই বোঝা যায়, ক্যামেরার সামনে থাকা মানুষটি গভীর মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন। বাইরে থেকে সাজানো-গোছানো সুখের ছবির আড়ালে যে কতটা অস্থিরতা লুকিয়ে থাকতে পারে, দেবলীনার কথাতেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে! তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এক ধরনের নীরব যন্ত্রণা, যেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে করতে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি।

এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে ছিল পেশা এবং দাম্পত্যের টানাপোড়েন। দেবলীনা জানান, শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর নিজের মাকে ঘিরে আপত্তি ও চাপ ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। একদিকে জন্মদাত্রী মা, অন্যদিকে জীবনসঙ্গীর মাঝে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় যে কতটা মানসিকভাবে ক্ষয় করে দিতে পারে, সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি ভাগ করে নেন। শেষ পর্যন্ত সেই মানসিক বিপর্যয়ই তাঁকে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার দিকে ঠেলে দেয়! যদিও আপনজন এবং চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন পড়ে যায় সমাজ মাধ্যমে। কারণ ২০২৪ সালে পাইলট পেশার প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের পর দেবলীনা-প্রবাহকে সবসময়ই হাসিখুশি, স্বাভাবিক দম্পতি হিসেবেই দেখা গিয়েছিল। একসঙ্গে তোলা ছবি, ভিডিও মিলিয়ে সম্পর্কের ভাঙনের কোনও ইঙ্গিত আগে পাওয়া যায়নি। তাই হঠাৎ এমন বাস্তব সামনে আসায় অনেকেই বিস্মিত, আবার অনেকেই নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন, ‘দাম্পত্য মানেই কি কেবল সামাজিকভাবে ‘ভালো’ দেখানো?’ এই কঠিন সময়ে দেবলীনাদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে অনেককেই।

তাদের মধ্যে অন্যতম, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘তিথি বসু’ (Tithi Basu)। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি খুব সরল ভাষায় কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলেন, আজকের দিনে বিয়ে মানে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং একজন বোঝার মানুষ খোঁজা। তিথির নিজের ভাষায়, “পাইলট বা নেভি হলেই কেউ ভদ্রলোক হয় না। ভদ্র হতে গেলে সংবেদনশীলতা থাকতে হয়।” তাঁর কথায় উঠে আসে, বিয়ের পর মেয়েদের জীবনের অগ্রাধিকার যেভাবে বদলে যায়, সেখানে সামান্য সংবেদনশীলতার অভাবও বড় ক্ষত তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ দেবলীনার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা ঘিরে, সায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ ফের আলোচনায়! বন্ধুত্বের সীমা কি ভাঙছিল কোথাও? অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কি দেবলীনার দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলেছিল? প্রশ্ন তুলছে নেটিজেনরা!

তাঁর এই মন্তব্যের পর সমাজ মাধ্যমে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, ‘বিয়ের সময় পয়সা বালা যোগ্য ছেলে খুঁজবে আর পরে এখন এসে নাটক দেখাবে।’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘টাকা থাকলেই কেউ মানুষ হয় না! মনমানসিকতার পাশাপাশি দরকার পারিবারিক শিক্ষাটাও।’ দেবলীনার ঘটনা আসলে কোনও একক ব্যক্তির গল্প নয়, এটি আমাদের চারপাশের বহু সম্পর্কেরই আয়না। বোঝাপড়া, সম্মান আর মানসিক সুস্থতা যে দাম্পত্যের সবচেয়ে জরুরি স্তম্ভ, সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল এই ঘটনা। এখন দেবলীনা চিকিৎসাধীন, আর সবাই চাইছেন তিনি নতুন জীবন শুরু করুন।

You cannot copy content of this page