“বোনটা আমার কাদঁছে, একটা ফোনও করে জানতে চায়নি বেঁচে আছে কিনা!” বিস্ফো’রক অভিযোগ দিদি শর্মিষ্ঠার! দেবলীনার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টার পর, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নীরবতা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি! সামনে এলো নির্মম বাস্তব

সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত মুখ সায়ক চক্রবর্তীর সঙ্গে গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandi) বন্ধুত্ব বহুদিনের। কাজের জগৎ থেকে ব্যক্তিগত মুহূর্ত, সবেতেই একে অন্যের পাশে থাকার ছবি বারবার ধরা পড়েছে। সেই কারণেই সায়কের শেয়ার করা একটি সাম্প্রতিক ছবি অনেককেই নাড়া দিয়েছে। হাসপাতালে শুয়ে থাকা দেবলীনার ছবির সঙ্গে ছোট্ট একটি বার্তা ছিল, যা স্বস্তির চেয়েও বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। কী এমন হলো, যার জন্য হঠাৎ করে এমন দৃশ্য দেখতে হল? এই কৌতূহল আর উদ্বেগ একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে গতকাল রাত থেকেই!

এর কিছুক্ষণ আগেই দেবলিনার নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি লাইভ ভিডিও ঘিরে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছিল। সেখানে তিনি নিজের কাজ, বিয়ের পরের চাপ আর মেয়েদের প্রতি সমাজের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছিলেন। নিজের স্বপ্ন আর পরিবার, এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে যে লড়াই, তার ভার যে কতটা গভীর হতে পারে, সেটাই যেন উঠে এসেছিল তাঁর কথায়। বিশেষ করে মাকে ঘিরে নানা মন্তব্য ও শর্তের কথা বলতে গিয়ে দেবলীনা ভেঙে পড়েন। সেই লাইভের পরেই পরিস্থিতি যে ভালো ছিল না, তা অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন!

এই ঘটনার পর দেবলীনা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন! যদিও ঠিক সময় তাঁকে রক্ষা করা গেছে, তবে উঠছে হাজার প্রশ্ন! কীকরে, বা কেন হলো সেই নিয়ে বোনের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়েছেন তাঁর দিদি শর্মিষ্ঠা। তিনি বলেছেন,”ছোটবেলা থেকেই দেবলীনার মা হচ্ছে ওর সাপোর্ট সিস্টেম। কোনদিনও ওর কোনও অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল না, যেখানে গিয়েছে শো করতে ব ফটোশুট করতে, সব সময় মা থাকত। মেয়ের কখন জল লাগবে, কখন খাতা লাগবে, এইসব কিছুই ওনার দায়িত্ব ছিল।

আজ দেবলীনা যে জায়গায় আছে, সবটাই ওর মায়ের অবদান। বিয়ের আগে কিন্তু প্রবাহ বা ওদের পরিবার জানত যে ওরা মা-মেয়ে কতটা ক্লোজ। তারপরেও ওদের কোনও আপত্তি ছিল না বিয়ে নিয়ে, আজ হঠাৎ করে কেন মা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে? বিয়ের পর থেকেই অনেক রকম সমস্যা চলছিল। তারপর যেটা হয়, একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়িতে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসাকে কেউ শুরুতেই সমর্থন করে না। তাই দেবলীনা নিজেকে শেষ পর্যন্ত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যতটা ভালোবাসা ও স্বামীকে দিয়েছে, তার এক শতাংশও পায়নি।

এটা বলতেও খুব খারাপ লাগছে যে এত বড় ঘটনা হয়ে গেল, সমাজ মাধ্যমে তোলপাড়! তাও দেবলীনার স্বামী বা শিশুরবাড়ির কেউ একটুও যোগাযোগ করেনি! দেখতে আসা তো দূরের কথা, একটা ফোনও করে জানতে চায়নি যে বেঁচে আছে কিনা! এখনও ওর দিকে তাকানো যাচ্ছে না। অনবরত কেঁদে চলেছে আর প্রত্যেকটা কথায় বলছে যে ‘একবার ফোনও করল না!’ এখনও আমার বোন শারীরিক বা মানসিক ভাবে সুস্থ নয়। বিপদটা হয়তো কেটে গেছে, কিন্তু দুই তিনদিন আরও থাকতে হবে হাসপাতালেই।”

আরও পড়ুনঃ ‘একে ধরে গ’ণধ’র্ষণ করা উচিত’— ভয়ংকর হুম’কির শিকার স্টার জলসার ‘মা’ ধারাবাহিক খ্যাত তিথি বসু! সমাজমাধ্যমে আসল ঘটনা প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী!

এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, সমস্যাটা হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মানসিক চাপ, মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আর প্রত্যাশার ভাঙন মিলিয়েই পরিস্থিতি এতদূর গিয়েছে। দেবলীনা এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন, বিপদের তীব্রতা কিছুটা কমলেও তিনি এখনও ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের কাছের মানুষদের সঙ্গ আর সময় এই মুহূর্তে তাঁর জন্য সবচেয়ে জরুরি। এই ঘটনাই আবারও মনে করিয়ে দিল যে, একার লড়াই কেমন পরিণতি পেতে পারে আর দেবলীনার মতো পরিচিত মুখের ক্ষেত্রেও সেই লড়াই যে কতটা নিঃশব্দ, সেটাই সামনে এসেছে।

You cannot copy content of this page