এবারের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহে অভিনেত্রী ‘রূপা গাঙ্গুলি’র (Rupa Ganguly) নাম উঠে এসেছে বিজেপির প্রার্থী তালিকায়, সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ের জন্য। খবরটি জানার পর তিনি নিজেই জানান, বিষয়টি তাঁর কাছে নতুন হলেও এটাকে তিনি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাজনীতির এই নতুন অধ্যায়ে কৌশল নিয়ে খুব বেশি জটিল চিন্তাভাবনা করতে চান না বলেই তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। বরং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাঁদের কথা শোনা এবং নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর দিকেই তিনি বেশি জোর দিতে চান। সোনারপুর-রাজপুর এলাকার সঙ্গে তাঁর পুরনো যোগসূত্রের কথাও উঠে আসে আলোচনায়। একসময় সেই অঞ্চলের বাসিন্দা এবং ভোটার হিসেবে কাটানো সময়, পরিবারের স্মৃতি মিলিয়ে এই কেন্দ্র তাঁর কাছে শুধুই রাজনৈতিক ময়দান নয়, ব্যক্তিগতভাবেও পরিচিত এক জায়গা।
এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে দেখেছেন। তাঁর মতে, শুধু নারী নয়, সাধারণ মানুষ হিসেবেই নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। রাজনৈতিক মতবিরোধ যে কখনও সহিংস রূপ নিচ্ছে, সেটাই বড় উদ্বেগের কারণ। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি তুলে ধরতে চান ভোটের ময়দানে।
তবে, দিনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘অভয়া’র মাকে ঘিরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আগেই নাকি তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং এবার তিনি নিজেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে অংশ নিতে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানান মহলে সমালোচনা শুরু হলেও, রূপা গাঙ্গুলির বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা সুরে। তিনি বলেন, “অনেক সাহস দরকার এরম একটা যুদ্ধের মধ্যেও তিনি যে ন্যায়ের পথে আসার চেষ্টা করছেন।
যেখানে উনি ভাবছেন যে কারণে মেয়েটার ব’ডি ঠিক করে পেলেনও না, তাড়াতাড়ি করে জ্বা*লিয়ে দেওয়া হলো। এটা নিয়ে তো সাধারন মানুষও কম আন্দোলন করেনি। কিন্তু রাতারাতি সব প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হয়। সেইসব তো উনি দেখেছেন। সেই অভিমান আর জেদ থেকেই মেয়ের জন্য বিচার চাইতে এই সিদ্ধান্ত। আমি কুর্নিশ জানাই। আমি মনে করি, উনি ঠিক দলের উপর ভরসা করেছেন। যদিও সিপিএমে যোগদান করলে আমি অসম্মান করতাম না।”
আরও পড়ুনঃ ‘গুড বয় ইমেজে কি ধরল চিরকালীন ফাটল?’ একের পর এক অভিযোগে চাপে সায়ক চক্রবর্তী! শিশুশিল্পীকে নি’র্যাতনের ইঙ্গিত থেকে স্যান্ডি সাহার যৌ*ন হে’নস্থার দাবি কি তবে সত্যি? সুস্মিতার ‘যৌ*নাঙ্গ ছিঁ’ড়ে ফেলার’ মন্তব্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া!
এক কথায় তাই এই নির্বাচনে রূপা গাঙ্গুলির ভূমিকা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে, তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট, তেমনই অন্যদিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ছাপও দেখা গেল। বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে তিনি কতটা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন, আর এই ধরনের ইস্যুগুলি ভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে? সেই দিকেই এখন নজর বিনোদন তথা রাজনৈতিক মহলের। আপনাদের কি মনে হয়, ‘অভয়া’র মা ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? অভিনেত্রী সঙ্গে কি আপনারাও সহমত?






