বিনোদন জগতে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে ঘিরে কটাক্ষ নতুন কিছু নয়। তাঁদের সম্পর্ক, বিয়ে থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন বিভিন্ন বিষয় নিয়েই মাঝেমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে নানা মন্তব্য, আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে কাঞ্চনের বয়স, তাঁদের দাম্পত্য এবং পরিবার নিয়ে নেটিজেনদের একাংশের মন্তব্য বারবারই চর্চায় আসে। তবে এবার সেই কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন শ্রীময়ী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ভয়ে তিনি কমেন্ট বক্স বন্ধ করবেন না। বরং তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যারা অশালীন মন্তব্য করছেন, তাঁদেরই নিজেদের মন্তব্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবা উচিত।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার মা হন শ্রীময়ী চট্টরাজ। কাঞ্চন ও শ্রীময়ীর পরিবারে আসে পুত্রসন্তান কৃষিভ। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর ফের তাঁদের নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। বিশেষ করে কাঞ্চন মল্লিকের বয়স, এত বয়সে বাবা হওয়া এবং তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনদের একাংশ। পাশাপাশি শ্রীময়ীর বয়স ও মাতৃত্ব নিয়েও নানা কটাক্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন ও কুরুচিকর বলেই দাবি করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
শ্রীময়ী জানান, এই ধরনের কটাক্ষের কারণে তিনি কোনওভাবেই কমেন্ট বক্স বন্ধ করতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “আমি কোনওদিন কমেন্ট বক্স অফ করব না। প্রথমত, আমি কারও বাচ্চা আনিনি, হাসপাতাল থেকে বাচ্চা চুরি করেও আনিনি বা বাচ্চা পাচার করিনি।” কাঞ্চনকে নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী আরও বলেন, “কাঞ্চনের কঞ্চির জোর আছে।” তাঁর দাবি, অনেকেই কাঞ্চনের শরীর ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এমনভাবে আলোচনা করেন, যেন তাঁরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সবকিছু জানেন। শ্রীময়ীর বক্তব্য, অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতটা আগ্রহ দেখানোর কোনও কারণ নেই। বরং নিজের পরিবার ও নিজের জীবন নিয়েই মানুষের বেশি ব্যস্ত থাকা উচিত।
এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে কটাক্ষকারীদের প্রোফাইল দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, অনেকের প্রোফাইলে স্ত্রী, সন্তান কিংবা পরিবারের সঙ্গে ছবি রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শ্রীময়ী প্রশ্ন তোলেন, “তাদের হয়তো ডিপিতে তাদের স্বামী, সন্তান বা কোনও মহিলার সঙ্গে ছবি রয়েছে। আমার খুব সন্দেহ হয়, সেটা হয়তো ভাড়া করা, নইলে অন্যের বরকে নিয়ে এত ওয়াকিবহাল তারা থাকত না।” কাঞ্চনের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গেও তাঁর বক্তব্য, “কাঞ্চনের বয়স নিয়ে আলোচনা করার দায়িত্ব তাদের কাঞ্চনের মা দিয়ে যাননি।” একইসঙ্গে কাঞ্চনের ব্যক্তিগত ও শারীরিক বিষয় নিয়ে যাঁরা অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি আরও কড়া মন্তব্য করেন। এমনকি তাঁদের গাইনোকোলজিস্ট দেখানোর পরামর্শও দেন শ্রীময়ী। তাঁর কথায়, “তারা হয়তো বিছানায় স্যাটিসফেকশন পায় না, তাই অন্যের বরকে নিয়ে এত আগ্রহ।”
আরও পড়ুনঃ “যেখানে আমি দায়িত্ব শেষ করলাম, সেখান থেকেই ও শুরু করল…” জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুর পর প্রাক্তন স্ত্রী অনন্যা ও বর্তমান স্ত্রী অঙ্কিতার মধ্যে কীভাবে তৈরি হল বন্ধুত্বের এমন সমীকরণ? বিচ্ছেদের পর যেখানে একে অপরের মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকে, সেখানে একে অপরের পাশে দু’জন! অতীত ভুলে কীভাবে হলেন পরস্পরের ভরসা?
শেষ পর্যন্ত কাঞ্চনকে নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত কৌতূহলকেও কটাক্ষ করেছেন শ্রীময়ী। বিশেষ করে কাঞ্চনের শরীরের নির্দিষ্ট অংশের মাপ নিয়ে যাঁরা আলোচনা করেন, তাঁদের মানসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি তাঁর দাবি, কাঞ্চন তাঁকে বিয়ে করার পর আরও বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন। ফলে তাঁদের নিয়ে যতই আলোচনা বা কটাক্ষ হোক, তাতে তাঁরা নিজেদের জীবনযাপন বা পরিবার নিয়ে পিছিয়ে আসবেন না বলেই বার্তা দিয়েছেন শ্রীময়ী। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর নতুন করে তৈরি হওয়া বিতর্কে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।






