ছোটপর্দার পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন বর্ণিনী চক্রবর্তী। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকদের নজরে এসেছেন নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কার কাছে কই মনের কথা’-তে ‘প্রিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। পাশাপাশি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ সিরিজেও তৃতীয় পর্বে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট সক্রিয় বর্ণিনী, যেখানে নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করেন তিনি। ধীরে ধীরে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যে নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছেন।
তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। আজ যাঁকে প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়, তাঁর জীবন কিন্তু সবসময় এতটা সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। পরিবারের অশান্তি, মানসিক চাপ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজের স্বপ্নকে ধরে রেখেছেন তিনি। এই অন্ধকার অধ্যায়গুলোই আজকের শক্ত বর্ণিনীকে তৈরি করেছে, যিনি নিজের জেদ ও পরিশ্রমে এগিয়ে চলেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা খোলাখুলি ভাবে জানান বর্ণিনী চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান ও আবৃত্তির প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল, যা মূলত তাঁর মায়ের অনুপ্রেরণায় শুরু। কিন্তু একসময় তাঁর বাবা হঠাৎই এইসবের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। তাঁর কথায়, “হঠাৎই বাবার মাথায় ঢুকেছিল যে মেয়েরা বাড়ির বাইরে কাজ করতে পারবে না।” সেই থেকেই বাড়িতে অশান্তি বাড়তে থাকে।
তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অশান্তি এতটাই বাড়ে যে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেই সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান করতে পারেননি। ধীরে ধীরে তাঁর মনে হয়, এই পরিস্থিতিতে থাকলে তাঁর সমস্ত স্বপ্ন থেমে যাবে। তাই একসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে মা ও বোনকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এমনকি বাবার অত্যাচারের বিরুদ্ধে থানায় যাওয়ার মতো কঠিন পদক্ষেপও নিতে হয়েছিল তাঁকে।
আরও পড়ুন: “মৃ’ত্যু কি সকালের রোদের মতো আসে?” “একের পর এক…ঠাকুর! ভালো থাকতে ভুলে যাচ্ছি এবার” বিচ্ছেদ বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রিয়জনের মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়লেন সব্যসাচী চক্রবর্তী! কাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ সায়কের দাদা?
বর্ণিনীর কথায়, “একটা সময় মনে হয়েছিল দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আর এইভাবে থাকলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।” সেই কঠিন সময় পেরিয়েই আজ তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। নতুন শহর, নতুন লড়াই, সবকিছু শুরু করেছিলেন শূন্য থেকে। বর্তমানে নিজের পরিশ্রম ও প্রতিভার জোরে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর এই সংগ্রামের গল্প অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে, আর দর্শকরাও অপেক্ষা করছেন ভবিষ্যতে তাঁকে আরও নতুন চরিত্রে দেখার জন্য।






