অফ-স্ক্রিন কিংবা পর্দার সামনে, ‘সব্যসাচী চক্রবর্তী’ (Sabyasachi Chakraborty) আজ এক পরিচিত নাম। তার ছোট ভাই ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) ভ্লগের সুবাদে কিছুটা আরও আলোচিত হলেও, তার নিজস্ব পরিচিতি এবং পেশা তাকে সমাজে আলাদা জায়গা দিয়েছে। সায়কের মতো ভ্লগার না হলেও, সব্যসাচী এই সময়ের সাংবাদিকতার জগতে বেশ প্রতিষ্ঠিত নাম। তার সাংবাদিকতা, মতামত ও সামাজিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি অনেকের কাছে প্রভাবিত, এবং এক ধরনের বিশ্বাসও অর্জন করেছেন। তবে, শুধু পেশাগত জীবন নয়, তার ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচ্য নয়।
গত বছর সব্যসাচীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ শোরগোল উঠেছিল। কিছুদিন আগেই আবার প্রাক্তন স্ত্রী সুস্মিতা রায় বিবাহবিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে একাধিক অভিযোগ আনেন। সুস্মিতা দাবি করেছিলেন, সব্যসাচী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সাথে যুক্ত ছিলেন, এমনকি একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। সমাজ মাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। যদিও বেশিরভাগ মানুষ সব্যসাচীর পক্ষ নিয়ে সুস্মিতার অভিযোগগুলিকে মিথ্যে বলে মত প্রকাশ করেন, তবুও বিতর্কের রেশ কমেনি। এসবের মধ্যে, সব্যসাচীর ব্যক্তিগত জীবন একটা কঠিন সময়ে পড়েছিল।
তবে, এর মাঝে অনেক কিছু বদলেছে। সবে একটা বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই, জীবনের একটি বড় ধাক্কা এসে পড়েছে সব্যসাচীর ওপর। সম্প্রতি, তার প্রিয় পোষ্য প্লু’র মৃত্যুতে তিনি ভেঙে পড়লেন। প্লু ছিল তার দীর্ঘ ১৪ বছরের সঙ্গী, তার প্রতিটি আনন্দ-বেদনাতে, একেবারে সঙ্গী। মৃত্যুর পর, সামাজিক মাধ্যমে এক হৃদয়বিদারক পোস্টে তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। লিখেন, “মৃত্যু কি সকালের রোদের মতো আসে? ঘুম ভাঙার আগেই যেভাবে রোদেলা আলো রাস্তা-গাছ- জানলা- রাত জাগা মাথা ছুঁয়ে ফেলে…ঠাকুর! ভালো থাকতে ভুলে যাচ্ছি তো এবার ?”
এই পোস্টে সব্যসাচী তার প্রিয় পোষ্যের সঙ্গে একটি ছবিও ভাগ করেছেন। এই মুহূর্ত তার জন্য তীব্র কষ্টের, যে সম্পর্কের তিনি একসাথে ছিলেন বছরের পর বছর, তার অবসান ঘটলো চিরতরে। এদিন, প্লুর স্মৃতি নিয়ে সব্যসাচী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার সময়, তিনি যেনো বুঝিয়েছেন যে কিছু স্মৃতি কখনোই মুছে যায় না। যেভাবে একটি প্রিয় পোষ্য তার জীবনে জায়গা করে নিয়েছিল, সেভাবেই তার অমলিন স্মৃতি আজও তার সাথে রয়ে গেছে। প্লু আর কখনো ফিরবে না, কিন্তু সেই সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্ত যেনো একটি অমূল্য ধন হয়ে থাকল। মৃত্যুর মাধুর্যও যেনো কখনো মুছে না যেতে পারে।
আরও পড়ুন: “বাচ্চা না হওয়া মহিলাদের কাছে আজও লজ্জার, নানান অত্যা’চারেরও শিকা’র হতে হয়…মা হওয়ায় কি নারীর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য?” তবে কি সম্পূর্ণ হয় একজন নারী? নিজের মা না হয়ে, মাতৃত্বের প্রচলিত ধারণাকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অপরাজিতা আঢ্য!
সেটাই তিনি একে একে তুলে ধরেছেন তার পোস্টে। এমন এই কঠিন সময়ে, যখন সব্যসাচী নিজের হৃদয়ের গভীরতম দিকটি সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন, তখন তার ভাষায় যেন প্রাকৃতিক এক নিঃসঙ্গতা ফুটে ওঠে। “বহু দিনের পরে প্লুর শরীরের ভার অনুভব করলাম,” এ কথার মধ্যে এক ধরনের কষ্ট, এক ধরনের শূন্যতার ছাপ রয়েছে। প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা কখনোই সহজে ভোলা যায় না, আর সব্যসাচী সেই বেদনায় একেবারে হারিয়ে গিয়েছিলেন।
তার পোস্টের প্রতিটি শব্দে সেই দুঃখের গভীরতা, এবং সেই সম্পর্কের নিরন্তর ভালোবাসার স্পর্শ। সম্ভবত, এটাই সব্যসাচীর জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যেখানে একদিকে আছে ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্কের চাপ, আর অন্যদিকে তার পোষ্য প্লু’র মতো অমূল্য সঙ্গীর অবসান। স্মৃতি, ভালোবাসা, আর সেই শূন্যতা তার জীবনে আজ চিরকালীন হয়ে রয়ে যাবে, এমনকি তা মানুষ হিসেবে তার মনের কোণে গভীরভাবে এক শক্তিশালী প্রভাব রেখে যাবে।






