বিনোদন জগতে তারকাদের সম্পর্কের সমীকরণ অনেক সময়ই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ কিংবা নতুন সম্পর্ক তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে চর্চা চলতেই থাকে। অনেক সময় সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ্যে আসে, আবার কখনও সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব মুছে গিয়ে তৈরি হয় নতুন এক সমীকরণ। বিশেষ করে কোনও প্রিয় মানুষের কঠিন সময়ে পুরনো সম্পর্কের মানুষগুলো যখন একে অপরের পাশে দাঁড়ান, তখন সেই সম্পর্কের পরিণত রূপটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রয়াত অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তেমনই এক মানবিক ছবি দেখা গেল তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে।
অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল সম্পর্কের একাধিক অধ্যায়। জীবনে তিনি দু’বার বিয়ে করেছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয় স্ত্রী অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়ের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেকের জীবনই নিজের নিজের পথে এগিয়েছে। কিন্তু জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর পরিস্থিতি যেন তাঁদের সম্পর্ককে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো সম্মান জানাতে দু’জনকেই দেখা যায় পাশাপাশি। শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, জয়ের শেষকৃত্য এবং শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্বও তাঁরা একসঙ্গে সামলেছেন। অতীতের কোনও সমীকরণকে সামনে না এনে জয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধকেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
জয়ের প্রয়াণের সময় দুই স্ত্রীকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে দেখে অনেকেই বুঝতে পারেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্কটা শুধুমাত্র লোকদেখানো কোনও সমঝোতা নয়। বরং সময়ের সঙ্গে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং এক ধরনের মানবিক বন্ধন। সমাজে প্রাক্তন ও বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের ধারণা থাকলেও অনন্যা ও অঙ্কিতার আচরণ সেই চেনা ধারণাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। একজনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অন্যজন গ্রহণ করেছেন, আবার অন্যজনও সেই দায়িত্বকে সম্মান করেছেন। জয়ের চলে যাওয়ার মতো কঠিন সময়ে তাঁরা যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, সম্পর্কের পুরনো হিসেবের থেকেও কখনও কখনও একজন প্রিয় মানুষের প্রতি দায়িত্ব অনেক বড় হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই সম্পর্ক নিয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন জয়ের দুই স্ত্রী। অঙ্কিতা জানান, ২০২১ সালে জয় হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীনই তাঁর সঙ্গে অনন্যার প্রথম দেখা হয়েছিল। সেই সময় জয় ভীষণ অসুস্থ ছিলেন এবং অঙ্কিতা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রথম দেখায় অনন্যা তাঁকে মাস্ক খুলতে বলেছিলেন। সেই মুহূর্তের কথাও এখনও মনে রয়েছে অঙ্কিতার। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে এমন কোনও সমস্যা নেই, যদিও সমাজে নানা কথা উঠতেই পারে। আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের কাছ থেকেও কখনও কখনও বিভিন্ন কথা কানে এসেছে। কিন্তু তাঁরা দু’জনেই নিজেদের সম্পর্ককে সেই কথার প্রভাব থেকে দূরে রেখেছেন। অঙ্কিতার কথায়, তাঁদের মধ্যে ভালো বন্ডিং রয়েছে এবং সেটি কোনওভাবেই দেখানোর বিষয় নয়। পরিবারের কোনও মানুষের প্রয়োজন হলে তাঁরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ এতদিনের পরিশ্রমে গড়া ‘টলি কুইন’ ইমেজ, রাজনীতিতে পা রাখতেই ধূলিসাৎ! তৃণমূলের পতনের পর সাংসদ পদে ইস্তফা, কোয়েল মল্লিকের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ খুললেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু জিৎ! এই বিষয়ে দু’জনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, জানালেন তিনি?
এই সম্পর্কের সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি উঠে আসে যখন অঙ্কিতা বলেন, একেবারেই যে কোনও সমস্যা হয় না, তা নয়। তবে সময় অনেক কিছু ঠিক করে দেয়। তাঁর মতে, সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য দু’জন মানুষের ইচ্ছা, বোঝাপড়া এবং মানসিকতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। জয়ের জীবনে অনন্যা যে দায়িত্বের জায়গায় ছিলেন, কোনও এক সময় অঙ্কিতা সেই দায়িত্বের কিছুটা নিজের কাঁধে নিয়েছেন আবার জয়ের শেষ সময়ে অনন্যাও অঙ্কিতার পাশে থেকেছেন। রাজনীতি, সিনেমা কিংবা পারিবারিক জীবনের নানা টানাপোড়েনের বাইরে শেষ পর্যন্ত মানুষ হিসেবেই তাঁরা একে অপরকে বুঝেছেন। জয়ের চলে যাওয়ার পর দুই স্ত্রীর এই পরিণত সম্পর্ক তাই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং ভালোবাসা, সম্মান এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া সম্পর্কের এক মানবিক উদাহরণ হয়ে রইল।






