মেকআপ করতে না ভালো লাগলেও রোজগারের তাগিদে করতে হয়েছিল! নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নয়, প্রতিটি কাজে নিজের সেরাটা দেন, মেকআপ আর্টিস্ট থেকে অভিনেতা অমিত সাহার সংগ্রাম আজ টলিউডে অনুপ্রেরণা!

টলিপাড়ায় আজ যে অমিত সাহাকে (Amit Saha) নিয়মিত দেখা যায়, তার পেছনে কোনও তৈরির গল্প নেই বরং আছে টুকরো টুকরো পরিশ্রম আর সুযোগ পেলেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিকতা। সিনেমা, নাটক, থিয়েটার মিলিয়ে তিনি নিজের জায়গা করে নিয়েছেন ধীরে ধীরে। ‘ভটভটি’, ‘বিরহী’, ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’, ‘লুটেরা’ ছবির পর মানুষ তাঁকে চেনা শুরু করেছে। তবে অমিতের নিজের মধ্যে এমন কোনও ভাব নেই যে তিনি কোথাও পৌঁছে গেছেন। তিনি বরং মনে করেন, গন্তব্য এখনও অস্পষ্ট আর তিনি শুধু স্রোতের মতো চলছেন।

অভিনয়কে তিনি খুব অল্প বয়স থেকেই ভালোবাসতেন, কিন্তু কখনও ভাবেননি যে এটাকেই পেশা করবেন। থিয়েটারের সঙ্গে তাঁর পথচলা দীর্ঘ, বরং পর্দায় তাঁর যাত্রা অনেক দেরিতে শুরু। প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয় করলেও অডিয়ো-ভিজ্যুয়ালের দুনিয়ায় তাঁর বয়স মাত্র এক দশকের একটু বেশি। তবুও থিয়েটারের সঙ্গে সম্পর্ক আজও একই রকম অটুট। আলো থেকে মেকআপ, মঞ্চের যাবতীয় কাজ তিনি শিখেছেন নিজের প্রয়োজনেই। কারণ কাজ করলে আয় হয় আর সেই আয়েই চলেছে দিন।

অমিতের অভিনয়ের যাত্রায় বড় ভূমিকা রয়েছে পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের। ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’-র সময় একজন অভিনেতা খোঁজা হচ্ছিল আর তখনই অডিশন দিয়ে সুযোগ পান অমিত। তার আগে ‘পিঙ্কি আই লাভ ইউ’-তেও তিনি যুক্ত ছিলেন। রূপকলা কেন্দ্রের কাজের সূত্রে ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গেও তাঁর আলাপ হয়। এসব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে পর্দায় অভিনয়ের রাস্তা তাঁর সামনে খুলে যেতে থাকে। যদিও তিনি নিজে খুব হিসেব করে চরিত্র বেছে নেন না। তাঁর কথায়, যাদের হাতে টাকার অভাব থাকে, তাদের বেছে নেওয়ার সুযোগও কম থাকে।

তাই কোনও কাজ পেলেই মন দিয়ে করেন। প্রসঙ্গত, জীবনে নানা সময় নানা রকম কাজ করেছেন তিনি। একসময় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন, সেটাও শিখেছিলেন থিয়েটারের প্রয়োজন থেকে। সাজাতে বিশেষ পছন্দ ছিল না, কিন্তু রোজগারের জন্য যা শিখতে হয় তিনি তা শিখেছেন। ছোটবেলা থেকেই নিজের খরচ নিজেই চালিয়েছেন, তাই কাজের প্রতি কোনও অহংকার নেই। তাঁর বিশ্বাস যে টাকা রোজগার করতে পারদর্শী তিনি আর অভিনয় না হলে অন্য কিছু করেও ঠিক চলতে পারতেন।

আরও পড়ুনঃ সম’কামী প্রেমে লিলি চক্রবর্তী! পর্দায় তীব্র সা’হসী চরিত্রে এবার বর্ষীয়ান অভিনেত্রী

দোকান চালানো থেকে শুরু করে যেকোনও পরিশ্রমের কাজ, সবকিছুর জন্যই তিনি প্রস্তুত ছিলেন। আজ যখন ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ছবিতে বীরেশ্বর চরিত্রে তাঁর অভিনয় নজর কাড়ছে, তখনও অমিত নিজের সাফল্য নিয়ে বেশি ভাবেন না। তিনি জানেন, তাঁর যাত্রা এখনও চলমান। বেছে-বেছে কাজ করার মতো স্থিরতা তাঁর নেই বলেই দাবি করেন তিনি, কিন্তু এর মাঝেই সত্যিকারের অভিনেতার মতো যে নিষ্ঠা দেখান, সেই জায়গাটাই তাঁকে আলাদা করে দেয়। অমিত সেই মানুষ, যিনি কোনও বড় স্বপ্ন নয় বরং কাজকেই বড় করে দেখতে চান। আর সেই কাজের মধ্যেই তাঁর জীবন এগিয়ে চলে।

You cannot copy content of this page