ছেলেবেলায় মাকে চোখের সামনে হারিয়েছেন, দু’র্ঘট’নায় হারিয়েছেন প্রথম স্বামীকেও! ‘কম্পাসে’র বড় বৌদি অন্বেষা রায় মুখোপাধ্যায়ের জীবনের গল্প চোখে জল আনবে আপনার

টলিপাড়ার ঝলমলে আলোয় আমরা যাদের দেখি সবসময় হাসিখুশি মুখে, সেই তারকারাই অনেক সময় বয়ে বেড়ান গভীর ব্যক্তিগত ব্যথা। জনপ্রিয় ধারাবাহিক কম্পাস–এর পরিচিত মুখ অন্বেষা রায় মুখোপাধ্যায়ও তার ব্যতিক্রম নন। পর্দায় শক্ত চরিত্র ফুটিয়ে তুললেও বাস্তব জীবনের লড়াই ছিল আরও কঠিন। বহু আঘাতের পরও তিনি যে ভাবে নিজেকে গুছিয়ে দাঁড় করিয়েছেন তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

অন্বেষার জীবনের প্রথম বড় ধাক্কা আসে ছোটবেলায় মাকে হারানোর মধ্য দিয়ে। কিডনি জনিত সমস্যায় মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছিলেন তিনি। এত অল্প বয়সে মাকে হারানোর যন্ত্রণা কতটা গভীর হতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই স্মৃতি আজও তাঁকে নাড়া দেয় এবং অন্বেষা মনে করেন এই কষ্টের অনুভব কেবল তাঁর মতো অভিজ্ঞতায় থাকা মানুষরাই সত্যি উপলব্ধি করতে পারেন।

মায়ের মৃত্যুর ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই আসে আরেক বড় ট্র্যাজেডি। প্রথম স্বামীকে হারাতে হয় এক আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল অন্বেষার। সেই মুহূর্ত আজও তাঁর স্মৃতিতে টাটকা। প্রিয় মানুষটিকে এতটা অপ্রত্যাশিতভাবে হারানোর যন্ত্রণা জীবনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সব ভেঙে পড়ার মাঝেও নিজেকে সামলে নিতে শিখেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ‘আমায় আশীর্বাদ করবেন…এটাই আমার শেষ কাজ’, জিতুর অপ্রত্যাশিত ঘোষণা! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর নতুন আর্য-অপর্ণা জুটির উত্তেজনার মাঝেই, ছোটপর্দা ছাড়ার সিদ্ধান্ত অভিনেতার! হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর কারণ কি আরও গভীরে লুকিয়ে?

তবুও জীবন থেমে থাকেনি। নিজের শক্তি ও সাহসকে হাতিয়ার করে আবার নতুনভাবে জীবন সাজিয়েছেন অন্বেষা। দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন এবং স্বামীর কর্মসূত্রে তিনি থাকেন সুইডেনে। অন্বেষা নিজের কাজের সুবিধার জন্য নিউটাউনে ফ্ল্যাটে থাকেন একা। কাজের ব্যস্ততা, নতুন সম্পর্কের উষ্ণতা এবং জীবনের প্রতি নতুন মনোভাব—সব মিলিয়ে তিনি এখন নিজের মতো করে সুখকে খুঁজে নিচ্ছেন।

অন্বেষার গল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতনের কথা নয়, বরং কঠিন সময়েও কীভাবে দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাস মানুষকে আবার নতুন করে শুরু করতে সাহায্য করে তারই প্রমাণ। গভীর দুঃখের মধ্য থেকেও তিনি যে ভাবে আলো খুঁজে পেয়েছেন তা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়।