দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। দীর্ঘ ২১ দিনের অনশনের মাঝেই শনিবার তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পরই অভিনেত্রী পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টে তিনি লেখেন, “আশা করি হাসপাতালের দেওয়ালের মধ্যে সোনম ওয়াংচুক নিরাপদ থাকবেন। আশা করি ওঁরা ওকে খু*ন করে দেবে না। আপনার সুরক্ষা ও লম্বা জীবনের জন্য প্রার্থনা করছি।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র আলোচনা।
পরমার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও, একাংশ বিজেপি সমর্থক কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। একজন মন্তব্য করেন, “তা হবে না। কারণ তিনি যদি হাসপাতালে বা হাসপাতালের বাইরে মারা যান, যেহেতু তিনি টানা বিশ দিনেরও বেশি সময় ধরে অনশন করছেন, তাহলে তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তাবে। কোনও সরকারই এমন ঝুঁকি নিতে চাইবে না, কোনও না কোনওভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করবেই। তবে এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সরকার কেউই তাঁর শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করেনি।” এই মন্তব্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট নজর কাড়ে।
আরও এক নেটিজেন পরমাকে কটাক্ষ করে লেখেন, “ম্যাম, এত বেশি ভাববেন না। একদিন দেখবেন, আপনার শাড়ির ব্যবসাটাও ওরা দখল করে নিয়েছে এমন অভিযোগও করবেন! চিন্তা করবেন না, ওরা ওঁর সঙ্গে ঠিক সেইভাবেই ব্যবহার করবে, যেভাবে আপনার কিছু ভক্ত আপনার অতিরিক্ত দামের পণ্য কিনে ফেলে।” অন্য এক ব্যক্তি আবার লেখেন, “না, সরকার তাঁকে মরতে দেবে না। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চাইছে, তাঁর মৃত্যু হোক।” ফলে একটি পোস্টকে ঘিরেই সামাজিক মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, জাতীয় স্তরের নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ২১তম দিনে, অর্থাৎ ১৮ জুলাই ২০২৬, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের ধর্নাস্থল ঘিরে ফেলে এবং তাঁকে সেখান থেকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে ৫৯ বছর বয়সী এই আন্দোলনকারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও অনশন ভাঙতে রাজি হননি। জানা গিয়েছে, তিনি কোনও স্যালাইন বা ওষুধও গ্রহণ করছেন না এবং নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “বিভিন্ন জায়গা থেকে লোন নিয়ে দু’জনে সংসার সামলেছি…কষ্টে ভেঙে পড়েছি, আবার সুখ এলে দু’জনকেই ছুঁয়েছে” অবশেষে নিজের স্বপ্নপূরণ করলেন অহনা দত্ত! স্বামী দীপঙ্কর ও মেয়েকে নিয়েই আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী, ভাগ করে নিলেন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখের মুহূর্ত!
এদিকে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না এবং তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি সোনমকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি আবেদনও করেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। নিজের এই আন্দোলনকে তিনি “দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন” বলেও উল্লেখ করেছেন।






