সোমবার সকাল থেকেই রাজ্য জুড়ে ভোটগণনার উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কোথাও এগিয়ে বিজেপি, কোথাও আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই হঠাৎ নজর কাড়ে অভিনেতা জিতু কমলের একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট। সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বদলে তিনি সরাসরি বাংলা বিনোদন জগতের অন্দরের নানা অভিযোগ সামনে আনেন। জিতুর বক্তব্যে উঠে আসে দুর্নীতি, চাপ সৃষ্টি, শিল্পীদের প্রতি অবহেলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রসঙ্গ। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, সরকার বদল হলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিও নতুনভাবে এগোতে পারবে। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে তা নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা।
রাজনৈতিক ফলাফলের দিনের মধ্যেই বিনোদন জগতের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য অনেককেই চমকে দেয়। বিশেষ করে তিনি যে ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। জিতু পোস্টে লেখেন, “আশা করি ফাটকা বাজার থেকে এবার বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আবার ইন্ডাস্ট্রির তকমাটা ফিরে পাবে।” তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী মানুষ নিজেদের মধ্যে অশান্তি তৈরি করতেন, পরে সেই সমস্যা মেটানোর নাম করে টাকার দাবি করতেন। তিনি বলেন, “একে অপরের সঙ্গে সুক্ষভাবে ঝামেলা লাগিয়ে, সেই ঝামেলা মেটানোর নাম করে এক লাখ দু লাখ টাকা আন্ডার টেবিলে চাইতেন।”
অভিনেতার দাবি, এই ধরনের সংস্কৃতি বহুদিন ধরে চলেছে এবং এতে সাধারণ শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি নতুন নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ করেন, যেন এমন কাজ আর না হয়। তাঁর বক্তব্য, বাংলা বিনোদন জগৎকে সত্যিকারের শিল্পক্ষেত্র হিসেবে ফিরিয়ে আনতে হলে এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি। জিতুর এই মন্তব্য ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নতুন প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। শুধু দুর্নীতির অভিযোগই নয়, শিল্পী সংগঠন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন জিতু কমল। তিনি জানান, গত কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে সমস্যার মুখে পড়লেও কাউকে পাশে পাননি। তাঁর কথায়, “শিল্পী নেতা থেকে সমস্ত ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের কাছে ফোন করে, দিনের পর দিন এসএমএস করে প্রচুর কাকুতি মিনতি করেছি, কেউ এগিয়ে আসেনি।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট, শিল্পীদের সুরক্ষা বা ন্যায্যতার জায়গায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে শিল্পীদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। তাঁর ভাষায়, “মাথায় রাখবেন আপনি আমরাই পারি বদলাতে, আপনিই পারেন নিজের অধিকার বুঝে নিতে।” অর্থাৎ শুধুমাত্র নেতাদের দোষ দিয়ে নয়, নিজেদের অধিকার নিয়ে দাঁড়ানোর কথাও বলেছেন অভিনেতা। তাঁর পোস্টে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গোটা ইন্ডাস্ট্রির ছবি তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যায়। ভোটের ফল ঘিরে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে জিতু নতুন সরকারের কাছেও আবেদন জানান। তিনি লেখেন, “নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতি ঢুকতে দেবেন না দয়া করে।”
তাঁর মতে, বিনোদন জগতের কাজ শিল্পের জায়গা থেকে হওয়া উচিত, রাজনৈতিক প্রভাব থেকে নয়। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। অভিনেতার পোস্টে একদিকে যেমন পরিবর্তনের আশা রয়েছে, তেমনই রয়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের দিন এমন বক্তব্য প্রকাশ করে জিতু আসলে ইন্ডাস্ট্রির জমে থাকা সমস্যাগুলো সামনে আনতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেও দেখছেন। ফলে তাঁর পোস্ট ঘিরে মতভেদও তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল তাঁর হুমকির অভিযোগ। জিতু লেখেন, “চার তারিখের পর আমাকে বুঝে নেবেন এই কথাও আমার কানে এসেছে।”
আরও পড়ুন: “আমি দ্বিতীয়বার মা হলে অসুবিধা কোথায়?” অসমবয়সী প্রেম থেকে বিয়ে, ফের মা হচ্ছেন শ্রীময়ী? ভাইরাল প্রেগন্যান্সি গুঞ্জনে ক্ষু’ব্ধ কাঞ্চন-পত্নীর স্পষ্ট জবাব! ‘বাবা’ কাঞ্চনের কী প্রতিক্রিয়া?
এরপরই তিনি আরও কড়া ভাষায় জবাব দেন। তাঁর বক্তব্য, “সত্যি কথা বলব, চার তারিখের পর যদি আপনারা ক্ষমতাতেও আসতেন আমাকে আপনারা কিসুই বুঝতে পারতেন না। কারণ আমি আপনাদের মতো কাপুরুষ, বর্বর, মিথ্যাবাদী, পাল্টিবাজ নই।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমার কাজ খেতে পারেন, মূল্যবোধ নয়।” শেষে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “হ্যাঁ, আমি আমার ইন্ডাস্ট্রি নিয়েই বলবো। বলে এসছি, বলছি, ভবিষ্যতেও বলবো।” এই মন্তব্যে বোঝা যায়, চাপ বা ভয় দেখিয়ে তাঁকে থামানো যাবে না বলেই বার্তা দিতে চেয়েছেন অভিনেতা। তাঁর পোস্ট এখন রাজনীতি ও টলিপাড়া দুই মহলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।






