‘আমাদের ছোটবেলার ইমম্যাচিউরিটি, একটা পাগলামো…’ বিচ্ছেদ চাননি দেবশ্রী? তবু কেন মাত্র তিন বছরেই ভেঙেছিল প্রসেনজিৎ-দেবশ্রীর স্বপ্নের সংসার? আজ অভিনেতা জীবনে অনেকটা এগিয়ে গেলেও, অতীতের স্মৃতি বুকে নিয়েই একাকিত্বকে বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী! এত বছর পর সেই দাম্পত্য নিয়ে আবেগঘন স্বীকারোক্তি দেবশ্রী রায়ের!

বাংলা চলচ্চিত্রে কিছু জুটি শুধু পর্দাতেই নয়, দর্শকদের আবেগের সঙ্গেও চিরস্থায়ীভাবে জড়িয়ে থাকে। তাঁদের একসঙ্গে দেখার জন্য একসময় সিনেমা হলের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ত, নতুন ছবি মুক্তি পেলেই তৈরি হত আলাদা উন্মাদনা। এমন অনেক জুটির মতোই আশির দশকের শেষভাগ এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও আইকনিক জুটি ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং দেবশ্রী রায়। তাঁদের অনবদ্য রসায়ন, একের পর এক সুপারহিট ছবি এবং পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আজও বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। তাই এত বছর পরেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নতুন কোনও মন্তব্য সামনে এলেই তা ঘিরে নতুন করে শুরু হয় আলোচনা।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং দেবশ্রী রায় একসময় বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার সবচেয়ে সফল জুটিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিলেন। একসঙ্গে বহু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তাঁরা বক্স অফিসে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন। পর্দার প্রেম ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনেও জায়গা করে নেয়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ১৯৯২ সালে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই দুই তারকা। সেই সময় তাঁদের বিয়ে টলিউডের অন্যতম চর্চিত ঘটনা ছিল। দর্শকদের অনেকেই মনে করেছিলেন, পর্দার জনপ্রিয় জুটি বাস্তব জীবনেও সুখের সংসার গড়বেন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই, ১৯৯৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সেই সময় এই বিচ্ছেদ টলিউডে বড় চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। বিচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতেও দেখা যায়নি তাঁদের। অন্যদিকে প্রসেনজিৎ পরে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ একাধিক অভিনেত্রীর সঙ্গে নতুন জনপ্রিয় জুটি গড়ে তুললেও, দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে তাঁর সেই একসময়ের সুপারহিট জুটির আর প্রত্যাবর্তন ঘটেনি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে কৌতূহল বরাবরই দর্শকদের মধ্যে থেকে গিয়েছে।

এবার সেই পুরনো অধ্যায় নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি রিলকে ঘিরে। ওই রিলে দেবশ্রী রায়কে বলতে শোনা যায়, তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে অন্য কোনও বড় কারণ ছিল না, বরং ছোটবেলার অপরিণত মানসিকতাই ছিল মূল কারণ। অভিনেত্রীর কথায়, তখন দু’জনেই খুব কম বয়সী ছিলেন এবং অনেক বিষয়কে পরিণতভাবে বিচার করার মতো মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। সেই অপরিণত সিদ্ধান্ত ও আচরণই শেষ পর্যন্ত সম্পর্কটিকে ভেঙে দেয়। তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, এখন ফিরে তাকালে সেই সময়ের অনেক ঘটনাকেই তাঁর কাছে “পাগলামো” বলেই মনে হয়।

আরও পড়ুনঃ “আজকের দিনে হলে বিতর্কের কারণ হতো…” নাছোড়বান্দা অপেক্ষাতে শুরু হওয়া সম্পর্ক মোটেও রোমান্টিক ছিল না! তারপর কীভাবে তৈরি হয়েছিল একে অপরের প্রতি সেই টান, যা এতগুলো বছর একসঙ্গে কাটিয়েও এক ফোঁটা কমেনি? কৌশিক ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ভাগ করলেন সম্পর্কের অজানা গল্প!

দেবশ্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। বহু নেটিজেন মনে করছেন, এত বছর পর অভিনেত্রীর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি তাঁদের সম্পর্কের একটি অজানা দিক সামনে নিয়ে এসেছে। আবার অনেকে বলছেন, জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষকে অনেক বেশি পরিণত করে তোলে, তাই অতীতের ঘটনাকে আজ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন অভিনেত্রী। যদিও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবুও দেবশ্রী রায়ের এই বক্তব্য ঘিরে ফের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে টলিউডের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আলোচিত তারকা জুটি।

You cannot copy content of this page