কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে এবং প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছে। ২০২৩ সালের সফল ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’-র গল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে এই নতুন ছবি। ছবিতে আবারও একসঙ্গে অভিনয় করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, জয়া আহসান, কৌশিক সেন সহ আরও অনেক পরিচিত শিল্পী। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ এবং জীবনের দ্বিতীয় সুযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। ছবির প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।
ছবির আলোচনা চলতে চলতেই উঠে আসে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম, বন্ধুত্ব এবং দীর্ঘ দাম্পত্যের নানা অজানা স্মৃতি। সেই কথোপকথনেই শোনা যায় তাঁদের প্রেমের শুরুর দিনের একাধিক মজার ঘটনা। আড্ডার এক পর্যায়ে তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে যদি কোনও দিন সিনেমা তৈরি হয়, তাহলে তার নাম কী হতে পারে, সেই প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সেই ছবির শুরু হবে বিয়ের পরের জীবন থেকে নয়, বরং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই। তাঁর কথায়, সেই সময়ের গল্প নিয়ে ছবি হলে তা হবে “সুপারহিট”। কারণ সেই সময়ে ছিল এক তরুণের একরোখা ভালোবাসা, অপেক্ষা আর চূর্ণীর কাছাকাছি থাকার প্রবল ইচ্ছা। নিজের মুখেই তিনি স্বীকার করেন, তখন তিনি ছিলেন একেবারে নাছোড়বান্দা।
আরও পড়ুন: “অভিনেতা হওয়ার আগে আমি রাস্তায় রাস্তায়…” আজ যখন হাসপাতালের বিছানায় লড়ছেন অসুস্থতার সঙ্গে, তখন প্রকাশ্যে তাঁর অজানা অতীত! কীভাবে একটা সময়ে সংসার চালিয়েছিলেন জেনেন? রাজেশ শর্মার জীবনযু’দ্ধ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়!
চূর্ণী কোথায় যাচ্ছেন, কোন বাসে উঠছেন কিংবা কোন লাইব্রেরিতে যাচ্ছেন, সব খবরই রাখতেন তিনি। আজকের দিনে যাকে অনেকেই “স্টকিং” বলবেন, তাঁদের সম্পর্কের শুরুতে সেই ঘটনাগুলিই ঘটেছিল বলে অকপটে জানান কৌশিক। চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ও সেই সময়ের কথা মনে করে হাসতে হাসতেই বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে গেলেই দেখতেন কৌশিক আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি যে বাসে উঠতেন, কৌশিকও সঙ্গে সঙ্গে বলতেন, “আমিও ওই দিকেই যাচ্ছি।” শুধু বাসযাত্রা নয়, ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিতে গেলেও কৌশিক তাঁর সঙ্গ ছাড়তেন না। চূর্ণী জানান, বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করা কৌশিকের সেখানে বিশেষ কোনও কাজই থাকত না।
তবুও শুধুমাত্র তাঁর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইব্রেরিতে বসে থাকতেন। চূর্ণী বেরিয়ে এলে আবার একসঙ্গে বাড়ি ফিরতেন। সেই সময়ের এই স্মৃতিগুলো এখনও তাঁদের কাছে সমানভাবে মূল্যবান। কৌশিকও চূর্ণীর কথার সঙ্গে একমত হয়ে জানান, তিনি সত্যিই লাইব্রেরিতে বসে থাকতেন যতক্ষণ না চূর্ণীর কাজ শেষ হচ্ছে। তাঁর কাছে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চূর্ণীর পাশে যতটা সম্ভব সময় কাটানো। তবে তাঁদের সম্পর্ক শুধু রোম্যান্টিক মুহূর্তেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ধীরে ধীরে দুই ভিন্ন স্বভাবের মানুষ একে অপরকে বুঝতে শিখেছিলেন। পাহাড়ি পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা শান্ত, কম কথা বলা চূর্ণীর সঙ্গে উত্তর কলকাতার প্রাণবন্ত এবং আড্ডাপ্রিয় কৌশিকের স্বভাবের অনেক পার্থক্য ছিল।
কিন্তু সেই ভিন্নতাই পরবর্তীকালে তাঁদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তোলে। একে অপরকে বুঝে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। বিয়ের পর সেই সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত হয়েছে বন্ধুত্বের মাধ্যমে। কৌশিক স্পষ্ট বলেন, তাঁদের সম্পর্কে স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ের থেকেও বন্ধুত্বের জায়গাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই কোনও বিষয় নিয়ে মতের অমিল হলেও তা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় না। অন্যদিকে চূর্ণীও বলেন, কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে কাউকে নিজের মতো করে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। বরং মানুষকে যেমন তিনি, ঠিক তেমনভাবেই গ্রহণ করতে পারলে সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়। তাঁদের মতে, পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং গ্রহণ করার মানসিকতাই দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের আসল ভিত্তি।
আজ তাঁদের ছেলে উজানও বড় হয়ে নিজের পরিচালনার পথচলা শুরু করেছেন। সংসার, কাজ, সন্তানকে বড় করে তোলা এবং ব্যস্ত জীবনের নানা দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে কেটে গিয়েছে বহু বছর। তবুও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করা দিনগুলোর কথা এখনও স্পষ্ট মনে আছে দুজনের। ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ যেখানে ভালোবাসার দ্বিতীয় অধ্যায়ের গল্প তুলে ধরে, সেখানে কৌশিক এবং চূর্ণীর বাস্তব জীবনও দীর্ঘ সম্পর্কের এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। কখনও বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা, কখনও লাইব্রেরিতে অকারণে বসে থাকা, কখনও শুধু পাশে থাকার জন্য নিজের সময় বিলিয়ে দেওয়া, এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিল তাঁদের সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে সেই প্রেম আজ পরিণত হয়েছে গভীর বন্ধুত্ব এবং দীর্ঘ দাম্পত্যের বন্ধনে।






“বিয়ে মানেই তো সিঁদুর-ফিদুর লেবড়ে-লুবড়ে…” বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতেই মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন কৌশিক সেন! ‘জীবনের ব্যাপ্তি শুধু লিভ ইন করলেই?’ ‘সত্যি কী ভাষা আপনার, ছিঃ!’ ‘পাবলিক ফিগার বলেই কি যা খুশি বলবেন?’ যারা শাঁখা-সিঁদুর পরে তাদের অপমানে, অভিনেতাকে ধুয়ে দিলেন ক্ষু’ব্ধ নেটিজেনরা!