স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খড়কুটো’ (Khorkuto) আজও বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম প্রিয় পারিবারিক সিরিয়াল হিসেবে দর্শকদের মনে জায়গা করে রয়েছে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক প্রায় দু’বছর ধরে টেলিভিশনের পর্দায় সম্প্রচারিত হয়েছিল। গুনগুন এবং বাবিনের সম্পর্ক, একান্নবর্তী পরিবারের হাসি-কান্না, মান-অভিমান আর ভালোবাসার গল্প খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের ঘরের মানুষ করে তুলেছিল এই ধারাবাহিককে। তৃণা সাহা ও কৌশিক রায়ের জুটির পাশাপাশি প্রতিটি পার্শ্বচরিত্রও সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই কারণেই সম্প্রচার শেষ হওয়ার এত বছর পরেও ‘খড়কুটো’ নিয়ে নতুন কোনও পোস্ট সামনে এলেই নস্টালজিয়ায় ভেসে যান অনুরাগীরা। শুধু দর্শক নন, এই ধারাবাহিকের শিল্পীরাও এখনও নানান স্মৃতি ভাগ করে নেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই ধারাবাহিকে নায়ক সৌজন্যের দাদার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা ‘দেবওম মজুমদার’ (Debottam Majumdar)। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তিনি স্মরণ করেছেন ‘খড়কুটো’র অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্বের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে গুনগুন ও বাবিনের বিয়ের সেই জমজমাট দৃশ্য আজও তাঁর কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, “বাংলা সিরিয়ালে এমন বিয়ে বোধহয় দর্শককূল আগে কখনও দেখেননি। যেখানে হৈ হৈ পার্টি বরযাত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিয়ের কনে নাচতে নাচতে বরকে রিসিভ করতে আসে। জানি না খড়কুটোর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কিনা পরবর্তীকালে ফেসবুকে কিন্তু এমন ভিডিও দেখেছি যেখানে কনে বরযাত্রীর সঙ্গে পাল্লা নাচছে।” তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই আবারও সেই পর্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দর্শকমহলে।
দেবওম আরও জানিয়েছেন, পর্দায় যে কয়েক মিনিটের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, তার পিছনে ছিল দীর্ঘ পরিশ্রম। অভিনেতার কথায়, “শুটিং-এ আমরা দাপিয়ে নেচেছিলাম, এই ধরণের নাচের শুটিং কিন্তু একবারে হয়না। পুরো নাচতে নাচতে বিয়েবাড়ীতে ঢোকাটা মোট ৫ বার শুট হয়েছিল। ঘেমেনেয়ে একসা হয়েছিলাম আমরা কিন্তু প্রবল এনার্জি নিয়ে আনন্দ করে নেচেছিলাম | পুরো বরযাত্রী টিম, যেখানে প্রায় ৫০ এর ওপর জুনিয়ার আর্টিস্ট ছিলেন, তাঁরা যা নাচ নেচেছিলেন সেদিন তা আজও মনে আছে…কোনওদিনও ভুলবো না।” তাঁর এই স্মৃতিচারণ থেকে স্পষ্ট, শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত এখনও শিল্পীদের মনে একই রকম উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
শুধু অভিনেতা বা জুনিয়র আর্টিস্ট নন, গোটা ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সেই দৃশ্য এত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেছেন দেবওম। তিনি লিখেছেন, “ক্যামেরাম্যান মাধবদা শেষ শটটা নিয়েছিলেন কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে পিছন দিকে হাঁটতে হাঁটতে…খুবই কঠিন কাজ। ক্যামেরা কিন্তু খুব ভারী হয়…কয়েক কিলো। ক্যামেরার সামনে আমরা সবাই প্রত্যেকটা শটে প্রচন্ড আনন্দ করে জান লড়িয়ে নেচেছিলাম আপনারা টিভির পর্দায় দেখেছেন কিন্তু যেটা দেখেননি সেটা হল ক্যামেরার ওপারে…গোটা ইউনিট আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শট থেকেই প্রত্যেকবার তুমুল নেচেছিলেন। প্রথম শটে আমাদের নাচ দেখে সব টেকনিশায়নরা উত্তেজিত হয়ে পরেছিলেন।

ওনারা বাকি নাচের শুটিংটায় আমাদের অসাধারণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন।” পরিচালকের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। পোস্টের শেষদিকে তিনি লিখেছেন, “ডিরেক্টর স্নেহশিসদার অসাধারণ নির্দেশনায় সেই রাতে আমরা বাংলা সিরিয়ালের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার মত এমন একটা সিকুয়েন্স~এর শুটিং করেছিলাম যা আমরা যারা কাজটা করেছিলাম কোনওদিন ভুলতে পারব না | কার নাচ আপনাদের এখনও মনে আছে…গুনগুন না পটকা?” তাঁর এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক দর্শকই জানিয়েছেন, সেই বিয়ের পর্ব আজও তাঁদের কাছে বাংলা সিরিয়ালের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
আরও পড়ুনঃ “ধারাবাহিক তো এমনই হওয়া উচিত, যা শেষ হওয়ার পরেও বছরের পর বছর মনে থাকে!” “পল্লবী বেঁচে নেই, কিন্তু লুৎফা আজও আমাদের হৃদয়ে আছে!” শনের অভিনয় সিরাজকে জীবন্ত করে তুলেছিল, এত বছর পরেও আলোচনায় ‘আমি সিরাজের বেগম’! দর্শকদের মতে এমন ধারাবাহিক বারবার তৈরি হয় না, আপনারাও কি একমত?
কেউ গুনগুনের নাচের কথা মনে করেছেন, আবার কেউ পটকার প্রাণবন্ত উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন। একটি ধারাবাহিক শেষ হয়ে যাওয়ার বহু বছর পরেও যখন তার চরিত্র, সংলাপ কিংবা কোনও বিশেষ দৃশ্য নিয়ে এত আলোচনা হয়, তখনই বোঝা যায় সেই কাজ দর্শকের মনে কতটা গভীর ছাপ ফেলেছে। ‘খড়কুটো’ও ঠিক তেমনই একটি ধারাবাহিক, যার গল্পের পাশাপাশি প্রতিটি চরিত্র আজও দর্শকদের কাছে সমান প্রিয়। আর দেবওম মজুমদারের এই স্মৃতিচারণ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, শুধু দর্শকরাই নন, এই ধারাবাহিকের শিল্পীরাও আজও ভুলতে পারেননি সেই সুন্দর সময়গুলো। গুনগুন, বাবিন, পটকা কিংবা মুখার্জি পরিবারের প্রতিটি সদস্য এখনও বাংলা টেলিভিশনের নস্টালজিয়ার তালিকায় বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছেন।





