টলিউডে কাজ করা টেকনিশিয়ানদের পাশে থাকার কথা বহুবার বলেছেন অভিনেতা দেব, আর এবার সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ মিলল। নববর্ষের দিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর শেয়ার করেন তিনি, যা দ্রুতই সবার নজর কাড়ে। শ্যুটিংয়ের কাজে গিয়ে এক টেকনিশিয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেব। এই খবর সামনে আসতেই শিল্পী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, অনেকেই তাঁর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, শুধু পর্দার নায়ক নন, বাস্তব জীবনেও দায়িত্ব নিতে জানেন তিনি। টলিউডের কাজের পরিবেশ ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুলাই মাসে, যখন কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট গিল্ডের সদস্য রাজু মণ্ডল। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবার চরম সংকটে পড়ে যায়। সেই সময় তাঁর স্ত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা, ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সন্তানের জন্মের আগেই বাবাকে হারাতে হয় তাকে।
এই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছিল জরুরি। সেই সময়ই উদ্যোগ নেন দেব। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা করার চেষ্টা শুরু করেন। এই ঘটনার কথা দীর্ঘদিন পরে সামনে এলেও, সাহায্যের কাজ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট কাটাতে দেব যোগাযোগ করেন Cine Production Managers Association নামের একটি সংস্থার সঙ্গে। তিনি নিজেও এই সংস্থার সদস্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এই অর্থ পরিবারটির প্রাথমিক সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করে। শুধু একবারের সাহায্যে থেমে থাকেননি অভিনেতা, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও ভাবেন। তিনি নিশ্চিত করতে চান, পরিবারটি যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। এই উদ্যোগকে অনেকেই দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। রাজু মণ্ডলের ছোট ছেলে রিশানের ভবিষ্যতের কথাও বিশেষভাবে ভাবেন দেব। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় ৪ বছর, এবং তার পড়াশোনার দায়িত্বও নেন তিনি।
আরও পড়ুন: “আমি বাতিল হয়ে যাইনি, এখনও বেঁচে আছি” ভেজা চোখে, আবেগঘন বার্তা চন্দন সেনের! টাকা-পয়সা নয়, ক্যা’ন্সারকে হারিয়ে মানুষের ভালোবাসার শক্তিতেই টিকে আছেন তিনি! “যেদিন পাঁচটা মানুষের কাজে লাগতে পারব না…” জীবনের কোন গভীর উপলব্ধির কথা ভাগ করলেন অভিনেতা?
প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে তার জন্য। পাশাপাশি স্কুলের ফি, বইপত্র ও অন্যান্য পড়াশোনার খরচও বহন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বও ওই সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। এইভাবে এক শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার উদ্যোগ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। টলিউডে এমন উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না বলেই মত অনেকের। এই পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে Cine Production Managers Association-ই। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকেই জানা যায় দেবের এই উদ্যোগের কথা।

পরে সেই পোস্ট নিজের পেজেও শেয়ার করেন অভিনেতা এবং জানান যে তিনি সবসময় এই পরিবারের পাশে আছেন। শ্যুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়, প্রায়ই টেকনিশিয়ানরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুও আবার সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। এইসব ঘটনার পর টলিউডে নিরাপত্তা ও টেকনিশিয়ানদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার দাবি উঠছে। দেবের এই পদক্ষেপ সেই আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে।






