জন্মদিন মানেই আনন্দ, আয়োজন আর প্রিয় খাবারের উৎসব। কিন্তু সব সময় জীবন সেই সুযোগ দেয় না। দোলনের জন্মদিন ঘিরেও এ বছর তেমনই এক আবেগঘন পরিস্থিতি। কাঁকড়া তাঁর ভীষণ প্রিয়, তাই প্রতি বছর কখনও পার্কস্ট্রিট, কখনও বা কোনও ক্লাবে গিয়ে উদ্যাপন করা তাঁদের নিয়ম। কিন্তু এ বছর পরিবারের এক অসুস্থতার কারণে আনন্দ যেন খানিক ম্লান।
দোলনের মা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি, আর সেই চিন্তাই যেন সব পরিকল্পনাকে ছাপিয়ে গেছে। কাছের মানুষ অসুস্থ থাকলে উৎসবের আনন্দ মন থেকে আসে না, সেটাই এখন তাঁদের বাস্তবতা। বয়সও বাড়ছে, দায়িত্বও বাড়ছে, আর তার সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ। তাই এ বছর কোনও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। শুধু মন ভালো থাকুক, প্রিয় মানুষ সুস্থ থাকুক, এই প্রার্থনাই প্রধান হয়ে উঠেছে।
তবু ভালোবাসার প্রকাশ থেমে থাকে না। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, ছোট ছোট যত্নের মধ্যে থেকেই উঠে আসে সম্পর্কের গভীরতা। তাই আগেভাগেই দোলনের জন্য কিছু প্রিয় উপহার কিনে রাখা হয়েছে। তিনি গয়না ভালোবাসেন বলে জন্মদিনে দেওয়ার জন্য একটি সুন্দর মুক্তোর সেটও রাখা হয়েছে। আনন্দ না থাকলেও ভালোবাসার এই প্রস্তুতি যেন এক নীরব আশ্বাস।
আরও পড়ুনঃ “আমার ছোটবেলাটা যেন এক ছোট্ট ভারতের মধ্যে কেটেছে!” হঠাৎ এমন কথা কেন বললেন কাঞ্চন মল্লিক? শৈশবের কোন অজানা অধ্যায় সামনে আনলেন বিধায়ক-অভিনেতা?
দিনটা হয়তো খুব ধুমধাম করে কাটবে না, কিন্তু সুযোগ পেলে রাতে বাইরে খেতে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি চিকেন পছন্দ করেন, আর দোলনের জন্য অর্ডার দেওয়া হবে তাঁর প্রিয় কাঁকড়া। বাড়িতে কোনও বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা না থাকলেও একসঙ্গে সময় কাটানোই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্যাপন। এই ছোট ছোট মুহূর্তেই ধরা থাকে সম্পর্কের আসল রঙ।
শেষ পর্যন্ত সব আয়োজন, সব পরিকল্পনার ঊর্ধ্বে রয়েছে একটাই প্রার্থনা। আগামী দিনগুলো যেন শান্তিতে কাটে, সবাই যেন সুস্থ থাকে, আর জীবন যেন এইভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে। আনন্দের সংজ্ঞা বদলে গেছে, এখন সুখ মানে প্রিয় মানুষদের ভাল থাকা। আর সেই সহজ প্রার্থনাই হয়ে উঠেছে এ বছরের জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার।






