তৃণমূল জমানা পাল্টাতেই স্বরূপ বিশ্বাসের ‘স্বরূপ’ উন্মোচন! “ম’রে যেতে ইচ্ছে করলে ম’রে যাও”, “মায়ের দেহ লাওয়ারিশ লা’শ হিসেবে পোড়াও!” কাজ না দেওয়া থেকে মায়ের মৃ’তদেহ নিয়েও অপমান, ফেডারেশনের বৈঠকে কেঁদে ফেললেন মহিলা টেকনিশিয়ান! আরও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন তিনি?

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই টলিউডের অন্দরের অশান্তি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বন্ধ করার কথা বলে আসছিলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। গত বুধবার সন্ধ্যায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হওয়া বিশেষ বৈঠকে সেই বার্তারই বাস্তব ছবি দেখা গেল। বহুদিন ধরে চলা টেকনিশিয়ান, প্রযোজক ও পরিচালকদের দ্বন্দ্ব মেটাতে দুই পক্ষকে একসঙ্গে বসিয়ে আলোচনা শুরু করেন রুদ্রনীল। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা।

পালাবদলের পর টলিপাড়ার বহু মানুষ প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেছেন বলেও এদিন উঠে আসে। বৈঠকে টলিউডের একাধিক টেকনিশিয়ান সরাসরি অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে ভয়, চাপ ও পক্ষপাতিত্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কেউ নিয়মের বাইরে গেলেই তাঁকে ‘ব্যান’, কাজ বন্ধ বা পুলিশি ঝামেলার মুখে পড়তে হত বলেও অভিযোগ ওঠে। অনেকের দাবি, কাউন্সিলর দিয়ে শাসানো থেকে শুরু করে খুনের হুমকিও দেওয়া হত! পালাবদলের পর সেই সব অভিজ্ঞতাই প্রকাশ্যে আনেন অনেকে। টলিউডে কারা কাজ করবেন, কারা কাজ পাবেন না, তা নাকি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হত বলেও দাবি করেন কয়েকজন।

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি স্বরূপ বিশ্বাস। পুরো বৈঠকেই তিনি নীরব থাকেন। প্রসঙ্গ, এদিন এক মহিলা টেকনিশিয়ানের বক্তব্য ঘিরে বৈঠকে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “বিগত দু’বছর ধরে কোনও কাজ নেই। কাজ আছে, তবু আমাকে কেন দেওয়া হচ্ছে না জানি না।” তাঁর অভিযোগ, ‘হেমা মালিনী’ নামের একটি ছবিতে কাজ করার সময় একজন নন গিল্ড ক্যামেরাম্যান থাকার কারণ দেখিয়ে তাঁকে হঠাৎ তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তিনি বলেন, “কোনরকম চিঠি পাইনি, মৌখিকভাবে বলা হয়।” এরপর তিনি স্বরূপ বিশ্বাসকে ফোন করে নিজের সংসারের পরিস্থিতির কথা জানান। তাঁর কথায়, “বাড়িতে মা এবং মেয়ে আছে।

আমি একমাত্র রোজগার করি, সেখানে যদি আমাকে কাজ না করতে দেন তো আ’ত্মহ’ত্যা ছাড়া কোনও রাস্তা দেখছি না।” অভিযোগ, সেই সময় স্বরূপ বিশ্বাস নাকি তাঁকে বলেন, “তোমার যদি মরতে ইচ্ছে করে তো মরে যাও।” মহিলা টেকনিশিয়ান আরও জানান, তাঁর মা হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মারা যাওয়ার পরও তিনি অপমানের মুখে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “যেদিন আমার মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন, আমি আমার সেক্রেটারিকে ফোন করি। সে আবার স্বরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক, জয়শ্রী দাস। আমার নাম বলতে এখন কোনও ভয় নেই।

তাকে সেদিন যখন ফোন করে বলি আমার মায়ের কোন ডকুমেন্ট নেই, যাতে শ্মশানে নিয়ে গেলে কোনও অসুবিধা না হয় যেন একটু স্বরূপ বিশ্বাসকে বলে সে।” তাঁর অভিযোগ, এরপর তাঁকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে জানানো হয়, “মায়ের দেহ লাওয়ারিশ লাশ হিসেবে যেন পোড়াই!” এই ঘটনার কথা বলতে গিয়েই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিভিন্ন ম্যানেজারদের ফোন করে বলে দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে যেন কোনও কাজ না দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ চোখে থেবড়ে লাগানো কাজল, ঠোঁটে গাঢ় করে লিপস্টিক! বয়স ঢাকতে উগ্রতাকে হাতি’য়ার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের? “নতুন সরকারের কাছে আবেদন, ওনারা ভয়ঙ্কর মেকআপ আর্টিস্টকে ব্যান করুন” “ভুতের মতো, রানু মন্ডলের বোন” ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটপাড়ায় তুমুল সমালোচনা!

বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই এই অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, এই বৈঠকে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত কেউ থাকুক ফেডারেশনের নেতৃত্বে।” অন্যদিকে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি তোলেন, “ব্যান সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।” বৈঠকের শেষে রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এখানে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্যের রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, টলিউডে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে কাজ থেকে দূরে রাখা বা ভয় দেখানোর সংস্কৃতি যাতে আর না থাকে, সেই দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

You cannot copy content of this page