অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানালেন, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ আজও হয়নি, ফলে এই বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি। অনিন্দিতার কথায়, ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং গত বছরই দাম্পত্য জীবনের পঁচিশ বছর পূর্ণ হয়েছে। তাঁদের একটি উনিশ বছরের মেয়ে রয়েছে, যে বর্তমানে মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। এতদিন পারিবারিক সম্মান ও সন্তানের কথা ভেবে নীরব থাকলেও, সাম্প্রতিক ঘটনার পর আর চুপ করে থাকা সম্ভব হয়নি বলেই দাবি তাঁর।
অনিন্দিতা জানান, বহু বছর ধরেই তিনি ও তাঁর মেয়ে মানসিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। শুধুমাত্র শারীরিক আঘাতই যে অত্যাচার নয়, তা বোঝাতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা যন্ত্রণা। নিজেকে ইতিবাচক রাখতে তিনি কাজের মধ্যেই ডুবে থাকার চেষ্টা করেছেন। আগে তিনি বিশ্ববাংলায় কর্মরত ছিলেন, পরে চাকরি ছেড়ে নিজের ক্যাফে এবং শাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। কাজের ব্যস্ততাই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।
তাঁর আরও দাবি, তাঁরা পুরোপুরি আলাদা থাকতেন এমন কথাও তিনি জোর দিয়ে বলতে পারেন না। মাঝেমধ্যেই হিরণ খড়্গপুর থেকে কলকাতার বাইপাসের ফ্ল্যাটে আসতেন এবং মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেন। এমনকি এক মাস আগেও তিনি সেখানে এসেছিলেন বলে অনিন্দিতার বক্তব্য। নতুন বছর উদযাপনও তাঁরা একসঙ্গে করেছেন, যা তাঁকে আরও বিস্মিত করেছে। এই অবস্থায় হঠাৎ দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন।
অনিন্দিতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কানাঘুষোয় অন্য সম্পর্কের কথা শুনছিলেন তিনি। প্রশ্ন করলে হিরণ নাকি জানিয়েছিলেন, ওই তরুণী তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছে। কিন্তু এখন যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে অনিন্দিতার মনে গভীর ক্ষোভ ও আঘাত তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, ওই মেয়েটির বয়স প্রায় তাঁদের মেয়ের সমান। এই ঘটনা তাঁর মেয়ের মানসিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বেনারসের নতুন জীবনের শুরু! দ্বিতীয়বার বিয়ে সারলেন অভিনেতা হীরণ চট্টোপাধ্যায়! জানেন দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয়?
সবচেয়ে বড় কথা, অনিন্দিতার মতে এই বিয়ের কোনও আইনি বৈধতা নেই এবং তিনি বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারবেন না। এতদিন নিজের সম্মান ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নীরব ছিলেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি তাঁকে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে। আপাতত তাঁর একমাত্র লক্ষ্য মেয়েকে মানসিকভাবে সামলে রাখা এবং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। এই বিতর্ক ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।






