আজকের দিনটি বাংলায় এক ধরনের উৎসবের দিন, কারণ ভোট পরবর্তী আঙুলে কালি লাগানোর ছবি পোস্ট করতে ব্যস্ত সবাই। কিন্তু ঠিক এই সময়েই অভিনেতা জিতু কমল স্মরণ করিয়ে দিলেন, আজ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হয়েছে। স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক “ভোলে বাবা পার করেগা”-এর শ্যুটিংয়ের সময় সমুদ্রে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল রাহুলের। তার মৃত্যুর পর নানা অভিযোগ সামনে আসে, প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতি ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা নিয়ে। জানা গেছে, শ্যুটিং চলছিল সমুদ্রে, অথচ কোনও ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
রাহুলের মৃত্যুর পর এফআইআরও দায়ের হয়েছে। এদিকে, রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই অভিনেতা জিতু কমল তার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। জিতু কমল এক সময় আর্টিস্ট ফোরামের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে জোর করে শ্যুটিং করানো হয়েছিল। পরে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তার বিশ্রামের জন্য প্রযোজনা সংস্থা ছুটি দিতে রাজি হয়নি। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার আর্টিস্ট ফোরামকে অভিযোগ জানানোর পরও কোনও জবাব না পাওয়ায় তিনি প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।
রাহুলের মৃত্যুর পর, নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে একাধিক তারকার বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি। আজ, রাহুলের মৃত্যু উপলক্ষে এক ফেসবুক পোস্টে জিতু লেখেন, “মাস খানেক হল সবে, ঠিক আজকের দিনে, মৃত্যুর পর পরই এত আত্মীয় সংখ্যা গজিয়ে উঠেছিল, তা দেখে তো আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। একটা মৃত্যু নাকি সবকিছু নাড়িয়ে দিতে পারে, হায় রে বাঙালি।” জিতু এখানে বলতে চেয়েছেন, মৃত্যুর পরই সবাই কতটা আবেগ দেখান, অথচ জীবিত অবস্থায় রাহুলের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি।
তিনি আরও লিখেছেন, “মৃত্যু না হলে আপনারা নড়তেন না, তা তো আপনারাই স্পষ্ট করছেন।” এছাড়া, নিজের একক প্রতিবাদ নিয়ে জিতু আরও লিখেছেন, “আমার তো একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য বলুন! আপনাদের মনে না হোক, আমার সৌজন্যেই ওই রুমে রাহুলদার একটা ফটো জায়গা পেয়েছে।” এখানেও তিনি ইঙ্গিত করেছেন, রাহুলের ছবি প্রথমে গাছতলায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে সেই ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছিল আর্টিস্ট ফোরামের অফিসে। এই প্রতিবাদে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

যেখানে রাহুলের মৃত্যু পরবর্তী আচরণ ও তার নিজস্ব প্রতিবাদকে আরও একবার তুলে ধরেছেন। অবশেষে, গণতন্ত্রের উৎসবের মধ্যে জিতু কমল আবারও নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন, “আজ তো আবার আঙুলে কালি লাগিয়ে ছবি তোলার দিন। গণতন্ত্রের উৎসব। সেই গণতান্ত্রিক দেশেই আমি বাস করি যেখানে, প্রতিবাদ করার দিনক্ষণ ঠিক করে দেবেন আপনি।” তিনি এই মন্তব্যের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, সমাজে প্রতিবাদ করা কতটা কঠিন, যেখানে একজন ব্যক্তিকে তার প্রতিবাদের সময় এবং আকার নির্ধারণ করতে বাধ্য করা হয়।






