বাংলা সিনেমার পর্দায় একসময় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০০ সালের আশেপাশে তিনি ছিলেন সকলের চেনা নাম। খ্যাতি, জনপ্রিয়তা আর সাফল্যের মাঝে একদিন হঠাৎই জীবনে এসে পড়ে এক ভিন্ন অধ্যায়। মঞ্চে নয়, সিনেমার পর্দায়ও নয়, সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতার আসরেই তার জীবনে প্রবেশ ঘটে এক বিশেষ মানুষের। যেখান থেকে শুরু হয়েছিল এক অবিস্মরণীয় সম্পর্কের গল্প।
সে বছর মিস ক্যালকাটা প্রতিযোগিতায় বিচারকের আসনে বসেছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিযোগী হিসেবে হাজির হন অনন্যা। সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে পড়েন অভিনেতা। কেবল পছন্দ নয়, কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। অনন্যাও সাড়া দেন সেই অনুভূতিতে। এরপর আসে বিয়ের প্রসঙ্গ। যদিও প্রথমে পরিবার রাজি ছিল না, কিন্তু জয়ের বাবাও অনন্যাকে দেখে মত বদলান। খুব সাদামাটা অনুষ্ঠানে, মাত্র পঞ্চাশজন অতিথির উপস্থিতিতে ২০০০ সালেই বিয়ে হয় দু’জনের।
প্রায় দশ বছর সুখের সংসার করার পরই জীবনে আসে প্রথম ভাঙন। তাদের কোনও সন্তান ছিল না, তবুও সম্পর্ক ছিল অটুট। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শে তৈরি হয় বড় ফাঁক। ২০১০ সালে অনন্যা যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। অন্যদিকে ২০১৪ সালে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেন বিজেপিতে। দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দলে থাকার কারণে ধীরে ধীরে এক ছাদের তলায় থাকা আর সম্ভব হয়নি। অবশেষে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এক সাক্ষাৎকারে জয় নিজেই বলেছিলেন—এই বিচ্ছেদের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক মতভেদ।
বিচ্ছেদের পর টানা প্রায় এক দশক কোনও যোগাযোগ ছিল না দু’জনের। কিন্তু ভাগ্যের খেলা ভিন্ন কিছু লিখে রেখেছিল। ২০২১ সালের দিকে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি থেকে সরে আসেন। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে আবার কথাবার্তা শুরু হয় তাদের। জয়ের শারীরিক অসুস্থতা তাদের আরও কাছাকাছি টেনে আনে। অবাক করার বিষয়, জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী অঙ্কিতাও কখনও এর প্রতিবন্ধক হননি। বরং অনন্যার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।
আরও পড়ুনঃ দিব্যজ্যোতিহীন অনুরাগের ছোঁয়া! বাংলা ধারাবাহিকে নজির, চলমান ধারাবহিক ফিরছে একেবারে নতুন আঙ্গিকে!তিয়াশা-রাহুল-স্বস্তিকাকে নিয়ে নতুন অধ্যায়ে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ আদৌ কি মন ছুঁতে পারবে দর্শকদের?
অবশেষে যখন জীবনের ইতি টানলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন চোখ ভিজল দুই নারীরই, তার বর্তমান ও প্রাক্তন স্ত্রী দুজনের। স্বামীর অন্তিম যাত্রায় অনন্যা ছিলেন পাশে। কাঁপা গলায় তিনি বলেছিলেন—“ও আমার জীবনের প্রথম পুরুষ, প্রথম প্রেম। সারাজীবন ও আমার মনে থেকেই যাবে। এই শেষ বিদায়টা ওর প্রাপ্য ছিল।” বিচ্ছেদের পর আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি অনন্যা। একাই লড়াই করে গিয়েছেন জীবনযুদ্ধে। তবে জয়ের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোকে তিনি আজও মনে রাখেন হৃদয়ের গভীরে।