স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘কুমকুম’ শুরু হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন মুখ্য চরিত্রের নবাগতা অভিনেত্রী ‘অনুষ্কা হালদার’ (Anushka Haldar)। এটাই তাঁর প্রথম টেলিভিশন ধারাবাহিক হলেও অভিনয় নিয়ে তাঁর স্বপ্ন অনেক দিনের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করতে চাইলেও প্রথমে নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি গান গাওয়া এবং ছবি আঁকাও তাঁর প্রিয়। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও পড়াশোনা ছাড়েননি অনুষ্কা। তিনি জানিয়েছেন, প্রাইভেটেই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নতুন ধারাবাহিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুটিং ফ্লোরের নানান অজানা গল্পও ভাগ করে নিয়েছেন।
অনুষ্কার কথায়, “খুব ভালো লাগছে কাজ করতে। এত এনার্জিটিক একটা টিম ‘কুমকুম’-এর। সকলে মিলে হইহই করে সারাদিন কাজ করি। সবাই সবাইকে আপন করে নিয়েছি বলেই হয়তো আরও বেশি ভালো লাগে।” তিনি জানান, শুটিংয়ের ফাঁকে নানান মজার মুহূর্ত তৈরি হয়। যদিও নিজের সম্পর্কে মজা করে বলেন, “সত্যি কথা বলতে আমি একটুও দুষ্টু নই। আমার খালি মাঝেমধ্যে একটু ঘুম পায়। আর গল্প একবার শুরু হলে আর শেষ হয় না। যেখানেই গল্প শুরু হয়, আমি গিয়ে ঢুকে যাই। আমি ছাড়া সব গসিপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।” তবে রাগী সহকর্মীর প্রশ্নে তিনি হেসেই বলেন, “না না, কেউ রাগী নয়। সবাই ভীষণ সুইট। আমি ছোট বলে সবাই খুব আদর করে।”
ধারাবাহিকের যৌথ পরিবারের পরিবেশের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনেরও অনেক মিল খুঁজে পান অনুষ্কা। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবারও অনেকটা এমনই। এখন শহরে ফ্ল্যাটে থাকলেও মায়ের বাড়ি হাবরায় গেলেই অন্যরকম অনুভূতি হয়। তাঁর কথায়, সেখানে কখন যে সময় কেটে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। অভিনয়ের কাজ নিয়েও তিনি যথেষ্ট সচেতন। আগে থেকেই ধারাবাহিক দেখার অভ্যাস ছিল বলে জানান অভিনেত্রী। এখন নিজের অভিনীত পর্বও নিয়মিত দেখেন। তিনি বলেন, “অনেকেই বলে নিজেই অভিনয় করি আবার নিজেই দেখি। কিন্তু এতে বুঝতে পারি কতটা ইমপ্রুভ করেছি, আরও কোথায় ভালো করার সুযোগ আছে।”
প্রথম দিন শুটিং ফ্লোরে পা রাখার অভিজ্ঞতাও ভাগ করেছেন অনুষ্কা। তিনি জানান, শুরুতে কিছুটা দুরুদুরু বুক থাকলেও সিনিয়র অভিনেতাদের ব্যবহার তাঁকে দ্রুত স্বচ্ছন্দ করে তোলে। আদৃত রায়কে আগে থেকেই একটু চিনতেন বলেও তাঁর ভয় কম ছিল। এখন পুরো টিমটাই তাঁর কাছে পরিবারের মতো। ভবিষ্যতে কার সঙ্গে কাজ করতে চান, সেই প্রশ্নে লজ্জা পেয়ে অভিনেত্রী বলেন, “বলিউডে শাহরুখ খান আর টলিউডে দেবের সঙ্গে অভিনয় করতে চাই। দেবকে যে আমার কী ভালো লাগে!” একই সঙ্গে আদৃতকে নিয়ে মজাও করেন। তাঁর কথায়, “আগে সবাই বলত এত সুন্দর ছেলের নাম উচ্ছেবাবু কী করে হয়! এখনকার উচ্ছেবাবু সাহেববাবু।
আদৃতদাকে বিদেশি থেকে বাঙালি বানানোর দায়িত্ব এখন আমার।” খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারেও বেশ খোলামেলা অনুষ্কা। তিনি বলেন, “খেতে আমি ভীষণ ভালোবাসি। কিছুদিন আগেও আমি গুবলু গাবলু ছিলাম। কয়েক মাস ডায়েট করার পরে এখন এই জায়গায় এসেছি।” বাড়িতে তৈরি বিরিয়ানি এবং মোমো তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার। যদিও প্রতিদিনই ভাবেন ডায়েট করবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পছন্দের খাবারই খাওয়া হয়ে যায়। অন্যদিকে ধারাবাহিকের টিআরপি প্রকাশের দিনটিও তাঁর কাছে ছিল বেশ চাপের। অভিনেত্রীর কথায়, “সকাল থেকে শুধু ঠাকুরকে ডেকেছি, টিআরপি যেন ভালো আসে। সবাই বলছিল ভালো ফল হবে। তবু মনের মধ্যে একটা ভয় তো থাকেই।”
আরও পড়ুনঃ বি*ষাক্ত পোকার কা’মড় নয়, দায় এড়াতে মিথ্যে রটানো হয়েছে? তবে কী হয়েছিল সেদিন শুটিং সেটে, কেন এমন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয় রাজেশ শর্মাকে? আপ্তসহায়কের কথায় সামনে এলো অভিনেতার এই ভ’য়াবহ অবস্থার আসল কারণ! এমন কেমন আছেন তিনি?
পরিবারের সমর্থন এবং বন্ধুদের উৎসাহকে নিজের সাফল্যের অন্যতম শক্তি বলে মনে করেন অনুষ্কা। তিনি জানান, বন্ধুরা তাঁকে পর্দায় দেখে খুব খুশি এবং নিয়মিত প্রশংসা করেন। শুটিং সেটেও নিজের বয়সি অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে, তাই কাজের ফাঁকে আড্ডা দিয়েই অনেকটা সময় কেটে যায়। তবে সবশেষে মায়ের কথাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলেন অভিনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, “আমার কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক আমার মা। পরিবারের সবাই পাশে ছিল, কিন্তু মা যদি না থাকত, এত বড় জায়গায় আমি কোনওদিনই পৌঁছতে পারতাম না।” নতুন পথচলায় পরিবারের এই সমর্থনই তাঁকে প্রতিদিন আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।






