বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ ‘কণীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Koneenica Banerjee) বহু বছর ধরেই অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, দুই মাধ্যমেই সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। বর্তমানে সিনেমার কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মাঝেমধ্যেই আলোচনায় উঠে আসেন অভিনেত্রী। স্বামী সুরজিৎ এবং মেয়ে কিয়ারাকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই দেখা যায়। তবে অনেকেই জানেন না, এই সংসারের আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রয়েছেন। তিনি হলেন কণীনিকার সৎ ছেলে দ্রোণ, যাকে নিয়েই এবার প্রথমবার বিস্তারিত কথা বললেন অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে কণীনিকা জানান, সুরজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল একটি ছবির শুটিংয়ের সময়। সেই সম্পর্কই পরে বিয়েতে গড়ায়। ২০১৭ সালে তাঁরা সাতপাকে বাঁধা পড়েন। সুরজিৎ আগে বিবাহিত ছিলেন এবং আগের পক্ষের একটি ছেলে রয়েছে তাঁর। বিয়ের পর সেই ছেলেও নতুন সংসারেরই অংশ হয়ে ওঠে। তখন তাঁর বয়স প্রায় ১১। অভিনেত্রীর কথায়, দ্রোণ তাঁকে কখনও আলাদা চোখে দেখেনি, বরং নিজের মায়ের মতোই সম্মান এবং ভালোবাসা দিয়েছে। আর সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা তিনি প্রতিদিন করেন।
কণীনিকা জানান, সংসারে তিনি কখনও দুই সন্তানের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ করেন না। মেয়ে কিয়ারার জন্য যা করেন, ঠিক একইভাবে দ্রোণের জন্যও করেন। রান্না হোক বা যত্ন, দুজনের ক্ষেত্রেই তাঁর দায়িত্ববোধ সমান। তবে সমাজের কিছু মানুষের মন্তব্য যে কখনও কখনও দ্রোণের কানে পৌঁছায়, সেটাও এড়িয়ে যান না অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “অনেকেই কটাক্ষ করে দ্রোণকে বলে ‘ও তো সৎ মা’।” কিন্তু সেইসব কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁদের সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক এবং সুন্দর রাখার চেষ্টা করেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, পরিবারের সবাই ভালো থাকাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
আরও পড়ুন: টেলিপাড়ায় দুঃসংবাদ! শুটিং ফ্লোরেই ভয়’ঙ্কর দুর্ঘ’টনা! গুরুতর আ’হত হয়েছেন তৃণা সাহা? এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?
দ্রোণের প্রতি নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে কণীনিকা স্পষ্ট জানান, তিনি দ্রোণের কাছে কৃতজ্ঞ সে তাকে মায়ের জায়গা দিয়েছে। তিনিও সৎ ছেলেকে নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করেন। নিজের মেয়েকে যেমন শাসন করেন তেমনই সৎ ছেলেকেও। তবে তিনি খেয়াল রাখেন সে যেন আঘাত না পায়। এই কথাতেই ধরা পড়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা। তাঁর কাছে ‘সৎ ছেলে’ শব্দটি শুধু সম্পর্কের পরিচয়, কিন্তু আচরণে বা ভালোবাসায় কোনও আলাদা জায়গা নেই। দুই সন্তানকেই সমান স্নেহ আর দায়িত্ব নিয়ে বড় করে তোলাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারের শেষে মজার ছলেই সংসারের একটি ছোট্ট ঘটনার কথা শোনান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “আমি তো বকা দেই। তারপর বলি আবার তো পরে বলবি নিজের মা না!” এই কথার মধ্যেই যেমন হাসির মুহূর্ত রয়েছে, তেমনই লুকিয়ে রয়েছে একজন মায়ের আন্তরিকতা। কণীনিকার বিশ্বাস, শুধু সম্পর্কের নাম দিয়ে কোনও মানুষকে বিচার করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, সব সৎ মা খারাপ হন না। ভালোবাসা, বিশ্বাস আর যত্ন থাকলে যে কোনও সম্পর্কই সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে উঠতে পারে।






