রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুর পর টলিউডে যে ক্ষোভের আগুন জ্বালানো হয়েছিল, তা এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। রবিবার সন্ধ্যায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত আর্টিস্ট ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, লীনা গাঙ্গুলির প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ ও অর্গানিক স্টুডিওর কাছে সকল বকেয়া টাকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ফোরামের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শিল্পীদের কোনো টাকা বাকি থাকলে তা আইনি পদক্ষেপের আওতায় আনা হবে, এবং ফোরাম এ বিষয়ে একেবারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এই বৈঠকে টলিউডের অনেক বিশিষ্ট শিল্পী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ভরত কল, বিদীপ্তা চক্রবর্তী এবং আরও অনেকে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই সভায় জানান, শিল্পীদের মধ্যে একটি ভোটাভুটি হয়েছিল, যেখানে বেশিরভাগ শিল্পী জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা লীনা গাঙ্গুলি এবং তার সহযোগী শৈবালকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। রাহুলের মৃত্যু এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় তারা এসব ব্যাপারে সতর্ক। অভিনেতারা জানাচ্ছেন, তাঁদের মনে নিরাপত্তাহীনতার ভয় রয়েছে, যা কাজ করতে তাদের দ্বিধায় ফেলছে।
আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, যারা ম্যাজিক মোমেন্টস বা অর্গানিকের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাদের বকেয়া টাকা রয়েছে, তারা দ্রুত ই-মেল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য পাঠাবেন। এই তথ্যের মধ্যে থাকবে শিল্পীর নাম, কাজের নাম, মেম্বারশিপ নম্বর, শুটিংয়ের দিন সংখ্যা, প্রতিদিনের পারিশ্রমিক এবং বকেয়া টাকার পরিমাণ। ফোরাম জানিয়েছে, এই তথ্য পেলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ “রাহুলের মৃ’ত্যুর বিচার না পেলে, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ ও দুই কর্ণধারের সঙ্গে কাজ নয়” সাফ কথা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের! লীনাকে বাদ, প্রযোজক পরিবর্তনে চলতে পারে ‘চিরসখা’, বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত!
এই বৈঠক এবং পদক্ষেপের পর, টলিউডে বিশেষ করে লীনা গাঙ্গুলি এবং তার প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আরও অনেক তারকা মুখ খুলেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন অভিনেত্রী কনীনিকা ব্যানার্জি, যিনি তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, প্রায় আট বছর আগে যখন তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখনও ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ তার পারিশ্রমিক দেয়নি। শারীরিক সমস্যা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কনীনিকার এই অভিজ্ঞতা শুনে নেটিজেনরা হতবাক। তার এই শেয়ার করা ঘটনাটি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
রাহুলের মৃত্যু, নিরাপত্তাহীনতা এবং বকেয়া টাকা না পাওয়ার অভিযোগে টলিউড এখন দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেছে। একদিকে আছেন প্রযোজকরা, অন্যদিকে শিল্পীরা এবং কলাকুশলীরা। তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্য লড়াই করছেন। আর্টিস্ট ফোরামের এই কঠোর পদক্ষেপের পর, এখন দেখার বিষয় হলো, এ পদক্ষেপগুলি ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তন করে। শিল্পীরা কি তাদের অধিকার ফিরে পাবেন, নাকি এই সংকট আরও জটিল হবে?






