টলিউড অভিনেত্রী ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’র (Rituparna Sengupta) নতুন ছবি নেভার মাইন্ড-এর প্রিমিয়ারে তাঁর বেগুনি রঙের বডি হাগিং গাউন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই দাবি করেছেন, সেই পোশাকে অভিনেত্রীকে বেশ অস্বস্তিতে লাগছিল। ছবি ও ভিডিও দেখে কেউ বলেছেন, তিনি স্বাভাবিকভাবে পোজও দিতে পারছিলেন না। তবে এই বিতর্কের মাঝেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের (Mamata Shankar) বক্তব্য। কারণ, অতীতে নারীদের পোশাক, শাড়ির আঁচল কিংবা ক্লিভেজ নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও, এবার ঋতুপর্ণার ক্ষেত্রে একেবারেই ভিন্ন সুর শোনা গেল তাঁর গলায়!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর স্পষ্ট বলেন, “আমার যদি কিছু বলার থাকে, সেটা আমি ওঁর দিদি হিসাবে ওকে আলাদাভাবে বলব। সেখানে আমার কোনও মতামত থাকলে তা ফলাও না করে, ট্রোলড না করে, মানুষকে ভালো কথায় তাঁকে বুঝিয়ে বলব।” তিনি আরও বলেন, “যারা ট্রোলড করেছে, তারা আগে দেখুক ঋতুপর্ণা মানুষ হিসাবে কেমন। ঋতু যে কী বড় মনের মানুষ, কী ভালো মেয়ে, সেটা ওর পোশাককেও ছাপিয়ে যায়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রকাশ্যে সমালোচনা নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দেওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তবে এই মন্তব্যের পরই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক নেটিজেন। কারণ, এর আগে শাড়ির আঁচল, খোলামেলা পোশাক, ক্লিভেজ, এমনকি স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন বা নারীদের পোশাক নিয়ে মমতা শঙ্করের নানান মন্তব্য ঘিরে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সব মন্তব্যে তিনি সমাজে নারীদের পোশাক নিয়ে সংযমের কথাই বেশি বলেছিলেন বলে সমালোচনা উঠেছিল। কিন্তু ঋতুপর্ণার ক্ষেত্রে তিনি ট্রোলের বিরোধিতা করে পাশে দাঁড়ানোয় অনেকেই বলছেন, কাছের মানুষের প্রসঙ্গ আসতেই তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গেল কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।
অন্যদিকে, ঋতুপর্ণার সেই বেগুনি গাউন নিয়েও আলোচনা থামছে না। ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ছবিতে অনেকেরই মনে হয়েছে, পোশাকটি পরে তিনি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। কেউ কেউ বলেছেন, নিজের আরামের বিষয়টি হয়তো আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। যদিও অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, ছবির চরিত্রের থিম মাথায় রেখেই তিনি এই পোশাক বেছে নিয়েছিলেন। এর আগে মেকআপ নিয়েও তাঁকে ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের চেয়ে তাঁর লুক ও স্টাইল নিয়েই বেশি চর্চা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “রীতিমত পায়ে ধরেছিলাম, আমাদের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়, এটাই আমাদের প্রেম ভাঙার মূল কারণ…” সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পায়ে ধরেও রক্ষা পাননি স্বস্তিকা! সম্পর্কে থাকাকালীন বাংলার নতুন ‘দিদি নম্বর ১’ পরিচালকের সঙ্গে কী এমন করেছিলেন?
সব মিলিয়ে ঋতুপর্ণার পোশাক বিতর্ক এখন শুধুমাত্র ফ্যাশনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। মমতা শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একাংশ মনে করছেন, তিনি একজন সিনিয়র শিল্পী হিসেবে সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আবার অন্যদের প্রশ্ন, অতীতে সাধারণ নারীদের পোশাক নিয়ে যিনি এত মন্তব্য করেছেন, তাঁর কাছের অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে এত সংযত অবস্থান কেন? ফলে ঋতুপর্ণার বেগুনি গাউন যেমন আলোচনার কেন্দ্রে, তেমনই মমতা শঙ্করের এই অবস্থানও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সমানভাবে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।






