বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী মানসী সিনহা। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। পর্দায় কখনও হাস্যরসাত্মক, কখনও আবার রাগী ও ঝগড়ুটে চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী। তবে পর্দার বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বেশ অন্যরকম। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে নিজের ৩৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, স্বামী শঙ্খর সঙ্গে প্রেমের গল্প এবং সন্তানদের নিয়ে একাধিক অজানা কথা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন মানসী।
স্বামীর সঙ্গে প্রেমের শুরুটা ঠিক কীভাবে হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, থিয়েটার করতে গিয়েই শঙ্খর সঙ্গে তাঁর আলাপ। সেই সময় শঙ্খ অন্য একটি সম্পর্কে জড়ানোর কথা ভাবছিলেন। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হলেও কেউ কাউকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছিলেন না। দু’জনেই অপেক্ষা করছিলেন, কে আগে নিজের মনের কথা জানাবেন! এরই মধ্যে তাঁদের পরিচিত দু’জনের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। তখন শঙ্খ হঠাৎ বলে বসেন, “সবার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, আমাদের বিয়েটা কবে হবে?” মানসীও সরাসরি জানিয়ে দেন, দু’বাড়িতে বললেই বিয়ে হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত কোনও প্রথাগত প্রেমের প্রস্তাব ছাড়াই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ১৩ মার্চ বিয়ে হয় তাঁদের। দেখতে দেখতে একসঙ্গে ৩৩ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন দু’জনে।
তবে এত বছরের দাম্পত্যে স্বামীর কাছ থেকে খুব একটা রোমান্টিক মুহূর্ত পাননি বলেই মজার ছলে অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “জীবনে কোনওদিন হাতে ফুল নিয়ে এসে আমায় বলেনি, যেটা তোমার জন্য এনেছি।” এমনকি ৩৩ বছরে মাত্র একবার গাল টিপে দেওয়ার কথাও হাসতে হাসতে জানিয়েছেন তিনি। তবে শঙ্খ যে একেবারেই ভালোবাসা প্রকাশ করেননি, তা নয়। বিয়ের পর যাত্রায় অভিনয় করতে যাওয়ার সময় মানসীর জিনিসপত্রের মধ্যে একটি বড় টফি রেখে দিয়েছিলেন তিনি। সেই ছোট্ট উপহারই অভিনেত্রীর কাছে হয়ে উঠেছিল বিশেষ ভালোবাসার প্রকাশ। আর স্বামীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের আসল রসায়ন বোঝাতে গিয়ে মানসী বলেন, “আমাদের রোমান্টিসিজমটা কীরকম জানো, অ্যাডজাস্টমেন্ট।” তাঁর মতে, একে অপরকে বুঝতে পারা, না বললেও মনের কথা বুঝে নেওয়া এবং একসঙ্গে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মধ্যেই তাঁদের ভালোবাসা লুকিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, সন্তানদের নিয়ে জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী। মানসী জানান, দু’বার মিসক্যারেজ হওয়ার পর আর ঝুঁকি নিতে চাননি তাঁরা। তাঁদের দুই সন্তান মেঘা ও বৃষ্টি জৈবিক সন্তান নয়, তাঁরা দত্তক সন্তান। দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়ার সময় একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা মনে করে অভিনেত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্থার এক মহিলা তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁরা যমজ সন্তান নিতে আগ্রহী কি না। আশ্চর্যের বিষয়, সেই সময় মানসী ও শঙ্খ দু’জনেই একসঙ্গে কোনও দিকে না তাকিয়েই বলে উঠেছিলেন, “হ্যাঁ।” এই ঘটনাকেই নিজেদের সম্পর্কের গভীর বোঝাপড়ার অন্যতম উদাহরণ বলে মনে করেন মানসী। তাঁদের সন্তানরাও ছোটবেলা থেকেই দত্তক নেওয়ার বিষয়টি জানে এবং এই নিয়ে তাদের কোনও সমস্যা নেই।
আরও পড়ুনঃ টলিউড নয়, এবার সোজা বলিউডে অভিষেক প্রসেনজিৎ-পুত্র মিশুকের? ‘সাইয়ারা’র পরিচালক মোহিত সুরির হাত ধরেই বড়পর্দায় হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের? বিপরীতে নায়িকা হচ্ছেন কি অনীত পাড্ডা?
দীর্ঘ ৩৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে মানসীর উপলব্ধি, ভালোবাসা মানেই শুধু মুখে ‘আই লাভ ইউ’ বলা কিংবা দামি উপহার দেওয়া নয়। বরং একে অপরের মনের কথা বুঝতে পারা, বিপদের সময় পাশে থাকা এবং একসঙ্গে জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়াই সম্পর্ককে শক্ত করে। তাই আজকের দিনে দাঁড়িয়েও স্বামী শঙ্খর সঙ্গে তাঁর এই বোঝাপড়াকেই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে মনে করেন অভিনেত্রী।






