“কেউ মোটা বললে আমি থ্যাঙ্ক ইউ বলি”— বডি শেমিংকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ মানসী সিনহার! “বর্তমান প্রজন্ম রিল লাইফ আর রিয়েল লাইফ গুলিয়ে ফেলছে, যা উদ্বেগের”- বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার কারণ জানালেন অভিনেত্রী!

২০২৬-এর শুরুতেই বড় পর্দায় আসতে চলেছে উইন্ডোজ প্রোডাকশনের প্রথম ছবি “ভানুপ্রিয়া ভুতের হোটেল”। আগামী ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলা এই সিনেমা নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে কৌতূহল তুঙ্গে। ভৌতিক গল্পের মোড়কে তৈরি এই ছবিতে একাধিক পরিচিত তারকার উপস্থিতি থাকলেও, বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মানসী সিনহার অভিনয়। দীর্ঘদিন পর তাঁকে একেবারে অন্য রকম এক চরিত্রে দেখা যাবে বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই।

থিয়েটার, টেলিভিশন থেকে সিনেমা— সব মাধ্যমেই সমান স্বচ্ছন্দ মানসী সিনহা। শুধু অভিনেত্রী নন, দক্ষ পরিচালক হিসেবেও তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বহু বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত মানসী একসময় বয়স্ক চরিত্রেই বেশি দেখা গিয়েছেন। কিন্তু এই ছবিতে সেই পরিচিত গণ্ডি ভেঙে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি, যা তাঁর কাছেও আলাদা করে আনন্দের।

নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে মানসী বলেন, এই সিনেমা না করলে তিনি বুঝতেই পারতেন না যে এই বয়সেও একটি ছবিকে এতটা নিজের কাঁধে নিয়ে যেতে পারবেন। এতদিন বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করলেও, এখানে তেমন কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। বরং নিজেকে একটু সাজিয়ে, নতুনভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

একইসঙ্গে অভিনেত্রী ও পরিচালক— এই দুই ভূমিকায় কাজ করতে অসুবিধা হয় কি না, সে প্রশ্নেও স্পষ্ট মানসী। তাঁর কথায়, আড়াই বছর বয়স থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা আর অভিনয় একসঙ্গে সামলেছেন। তাই পরিচালনার সময় তিনি পুরোপুরি ডিরেক্টর, আর অভিনয়ের সময় শুধু পরিচালকের নির্দেশ মেনেই নিজের চরিত্র নিয়ে ভাবেন।

আরও পড়ুনঃ আমাদের ডিভোর্সই হয়নি, হিরণের এই বিয়ে তো বেআইনি, বিস্ফোরক দাবি প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার

কর্মজগতের রাজনীতি, সমাজ ও বর্তমান প্রজন্ম নিয়েও খোলাখুলি মত রাখেন মানসী। বিনোদন দুনিয়ায় নানা মতাদর্শ থাকলেও, কাজের জায়গায় তা কোনও প্রভাব ফেলে না বলেই তাঁর বিশ্বাস। সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম রিল লাইফ আর রিয়েল লাইফ গুলিয়ে ফেলছে, যা উদ্বেগের। দুই সন্তানের মা হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি চিন্তিত। তবে আত্মবিশ্বাসের জায়গায় তিনি অনড়— কেউ তাঁকে মোটা বললে, হাসিমুখে বলেন, “থ্যাঙ্ক ইউ।”

You cannot copy content of this page