অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে চিনতে বোধহয় তাঁর নামটাই যথেষ্ট। তাঁর সিনেমার গৌরবের মতোই, ব্যক্তিগত জীবনও নানা কারণে শিরোনামে ছিল। একসময়, মিঠুনের জীবনে এমন একটি অধ্যায় এসেছিল যা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। শোনা যায়, অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সঙ্গে মিঠুনের সম্পর্ক ছিল এতটাই গোপন, যে সেটি বউ যোগিতার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। যখন যোগিতা এই সম্পর্কের কথা জানলেন, তখন তিনি আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেছিলেন! ঠিক কী ঘটেছিল?
মিঠুনের ব্যক্তিগত জীবনে প্রথম বিয়ে হয়েছিল মডেল হেলেনা লিউকের সঙ্গে, তবে সেটি মাত্র সাত মাস চলেছিল। তারপর ১৯৭৯ সালে যোগিতা বালির সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। যোগিতার জন্য এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে, কারণ তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল কিংবদন্তি কিশোর কুমারের সঙ্গে, কিন্তু সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথম দিকে মিঠুন-যোগিতার সম্পর্ক বেশ ভালো চললেও, শ্রীদেবীর সঙ্গে মিঠুনের সম্পর্কের কারণে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
১৯৮৫ সালে মিঠুন ও শ্রীদেবী একসঙ্গে অভিনয় শুরু করেন, এবং শোনা যায়, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি, শ্রীদেবী মিঠুনকে একটি মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। এই খবর শুনে যোগিতা খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে, যোগিতা একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি মিঠুনের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন, তবে শ্রীদেবী ও মিঠুনের সম্পর্কের ঘূর্ণন কিছুই ঠিক হওয়ার সুযোগ দেয়নি।
যখন শ্রীদেবীর কাছে মিঠুন চলে যান, তখন যোগিতা একেবারেই একা হয়ে পড়েছিলেন। এই সম্পর্কের পরে, শ্রীদেবী বুঝতে পারেন যে মিঠুন এবং যোগিতার সম্পর্ক এখনও অটুট। তারপর ১৯৮৮ সালের দিকে, শ্রীদেবী মিঠুনের সঙ্গে বিচ্ছেদ নেন। মিঠুন চেষ্টা করলেও, তিনি শ্রীদেবীকে তার জীবনে রাখতে পারেননি। তবে, শ্রীদেবী চলে যাওয়ার পর মিঠুন আবার যোগিতার কাছে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুনঃ “সব আমাদের হয়ে কাজ করছে, প্রচার করছে…দেখুন না, কাজ করে কী রোগা হয়ে গেছে” দিব্যজ্যোতি দত্তের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে চিন্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! অভিনেতা পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ, কী বললেন তিনি?
এরপর তাদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। মিঠুন চক্রবর্তী এবং শ্রীদেবীর সম্পর্কের এই ঘটনা চলচ্চিত্র জগতে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। তবে, অবশেষে মিঠুন যোগিতার কাছেই ফিরে আসেন। এই চক্র এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে এটি পরিষ্কার যে মিঠুনের ব্যক্তিগত জীবনও তাঁর পরিচয়ের মত কম আলোচ্য নয়।






