‘বিগ বস’-এর ঘরে রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্তর সম্পর্ক নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কখনও একে অপরের কাছাকাছি আসছেন, আবার কখনও সামান্য বিষয়েই শুরু হচ্ছে তীব্র অশান্তি। তবে এবারের ঘটনা যেন সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেল। ভ্যাম্পায়ার ও মানুষের লাক্সারি বাজেট টাস্কের পর নন্দিনীর আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাজবীর। সৃজলার সঙ্গে তাঁর ঝামেলার সময় রাজবীর কেন সৃজলাকে কড়া ভাষায় কিছু বলেননি, কেন তাঁর হয়ে প্রতিবাদ করেননি, সেই অভিযোগ তুলতে শুরু করেন নন্দিনী। আর সেই অভিমান থেকেই রাজবীরের গায়ে হাত তুলতে থাকেন তিনি। একের পর এক চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি নখ দিয়ে আঁচড়াতেও থাকেন। প্রথমদিকে রাজবীর বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করলেও নন্দিনীর আক্রমণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি যে আর নিছক মজা বা খুনসুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা স্পষ্ট হয়ে যায় দুজনের আচরণেই।
একসময় আর নিজেকে সামলাতে পারেননি রাজবীর। নন্দিনীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে তাঁকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেও নন্দিনী ফের রাজবীরের দিকে এগিয়ে যান এবং আবারও মারতে উদ্যত হন। এরপর দ্বিতীয়বার ঝটকা দিয়ে তাঁকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেন রাজবীর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে নিজের গায়েই চড় মারতে শুরু করেন তিনি। পরপর কয়েকটি চড় নিজেকে মেরে নন্দিনীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর গায়ে যেন আর হাত না তোলা হয়। রাজবীরের কথায়, “আমার গায়ে কিন্তু হাত তুলবে না। অনেকক্ষণ ধরে দেখছি… তুমি সরে যাও নইলে কিন্তু নিজেকেই মারতে থাকব আমি।” এরপর কোনওরকমে নিজেকে শান্ত করে নন্দিনীর কাছ থেকে উঠে চলে যান তিনি। কিন্তু তাতেও থামেননি নন্দিনী। রাজবীরকে আটকানোর চেষ্টা করে তিনি বলেন, “এখন আমার সামনে থেকে চলে গেলে আমাদের মধ্যে কিন্তু সব শেষ হয়ে যাবে।” তবে নন্দিনীর এই হুঁশিয়ারিতেও নিজের সিদ্ধান্ত বদলাননি রাজবীর।
বরং ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অত্যন্ত শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় রাজবীর জানিয়ে দেন, “আমাদের মধ্যে এমনিতেও সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্যে দুজনের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এবারের ঘটনায় শুধু রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কের সমীকরণ নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ভালোবাসার সম্পর্ক থাকলেই কি একজন মানুষের অন্যজনের গায়ে হাত তোলার অধিকার তৈরি হয়ে যায়? নন্দিনী রাজবীরকে যেভাবে বারবার চড় মারছেন, আঁচড়াচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করছেন, সেটিকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক আচরণ বলে মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। অনেকের প্রশ্ন, এই একই ঘটনা যদি উল্টো দিকে ঘটত, অর্থাৎ রাজবীর যদি নন্দিনীকে এভাবে মারতেন, তাহলে কি বিষয়টিকে এতটাই স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হত? কোনও পুরুষের গায়ে হাত তোলাও যে সমানভাবে অসম্মানজনক, সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন দর্শকদের একাংশ।
দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, মহিলারা যখন জেন্ডার ইকুয়ালিটি বা লিঙ্গ সমতার কথা বলেন, তখন সেই সমতার বিষয়টি সব ক্ষেত্রেই বজায় রাখা প্রয়োজন। একজন মেয়ের যেমন সম্মান রয়েছে, তেমনই একজন ছেলেরও সম্মান এবং শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করার অধিকার রয়েছে। পুরুষ বলে তাঁর গায়ে হাত তোলা যাবে কিংবা তিনি প্রতিবাদ না করে সবকিছু সহ্য করবেন, এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, অভিমান, রাগ কিংবা ঈর্ষা তৈরি হতেই পারে। কিন্তু সেই অনুভূতির প্রকাশ কখনওই শারীরিক আক্রমণের মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। নন্দিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দর্শকরা বলছেন, ভালোবাসার অর্থ কাউকে নিজের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা নয়। ভালোবাসার মানুষের উপর অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু সেই অধিকারের নামে তাঁর সম্মান নষ্ট করা বা যখন তখন গায়ে হাত তোলা যায় না। বিশেষ করে রাজবীর বারবার নিজের আপত্তি জানানো সত্ত্বেও নন্দিনী যেভাবে তাঁকে আক্রমণ করে যাচ্ছিলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ “বিয়ে বা জীবনসঙ্গী পাওয়ার বিরুদ্ধে নই, তবে…” তাহলে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না কেন? একাই জীবন কাটাতে চান সোহিনী? ৩৯ বছর বয়সেও সংসার বা সন্তান নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কী জানালেন, প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের কন্যা?
এমনকী দর্শকদের একাংশের মতে, নন্দিনীর নিজের সীমারেখা বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সম্পর্কের মধ্যে কোনও বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা নিয়ে কথা বলা যায়, প্রতিবাদ করা যায়, প্রয়োজনে সম্পর্ক থেকেও সরে আসা যায়। কিন্তু কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করে নিজের ভালোবাসা বা অধিকার প্রমাণ করা যায় না। রাজবীর যদি একইভাবে নন্দিনীর সঙ্গে আচরণ করতেন, তাহলে এতক্ষণে তাঁকে নিয়ে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হত বলেও মনে করছেন অনেকে। তাই পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত, এমনটাই দাবি দর্শকদের। নন্দিনীর এই আচরণকে ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখতে নারাজ তাঁরা। বরং বিগ বসের ঘরে প্রকাশ্যে এমন শারীরিক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন দর্শকদের একাংশ। অন্যদিকে রাজবীরের ‘আমাদের মধ্যে সবকিছু শেষ’ মন্তব্যের পর তাঁদের সম্পর্ক সত্যিই কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। এই ঘটনার পর বিগ বসের ঘরে দুজনের সমীকরণে যে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।






