বিগ বস বাংলার ঘরে প্রতিদিনই বদলাচ্ছে প্রতিযোগীদের সমীকরণ। কখনও বন্ধুত্ব, কখনও প্রেম, আবার কখনও তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ঘিরে জমে উঠেছে রিয়্যালিটি শোয়ের লড়াই। বিশেষ করে জিতু কমল, নন্দিনী দত্ত ও রাজবীরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে এলিমিনেশনের পর নন্দিনীকে সিক্রেট রুমে পাঠানোর ঘটনায় নতুন করে আবেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মেয়ের খেলা এবং ঘরের প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন নন্দিনীর বাবা-মা। বিগ বসের ঘরে নন্দিনী দত্তের যাত্রা নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা হয়েছে।
রাজবীরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা, জিতু কমলের সঙ্গে মতবিরোধ এবং বিভিন্ন টাস্কে তাঁর ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে দর্শকদের আলোচনায়। সম্প্রতি এলিমিনেশনের মুখে পড়লেও তাঁকে সরাসরি শো থেকে বিদায় না দিয়ে সিক্রেট রুমে পাঠানো হয়েছে। নন্দিনীর বাবা-মা জানিয়েছেন, গোটা সপ্তাহ মেয়ের এলিমিনেশন নিয়ে তাঁরা প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে বিদায়ের মুহূর্তে রাজবীরের কান্না এবং অন্য প্রতিযোগীদের আবেগ দেখে মেয়েকে নিয়ে গর্ব অনুভব করেছেন তাঁরা। নন্দিনীর খেলা নিয়ে বলতে গিয়ে বাবা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এই সপ্তাহেও যথেষ্ট ভালো খেলেছে। বিশেষ করে জিতু কমলের মতো ব্যক্তিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সাহস দেখিয়েছে নন্দিনী।
অভিনেত্রীর বাবার অভিযোগ, জিতু বিগ বসের ঘরে এমন একটি ইমেজ নিয়ে প্রবেশ করেছেন, যেখানে তিনি চান সবাই তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করুক। যেন ঘরের অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় তাঁর অবস্থান আলাদা। জিতুকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিশেষ ইমেজের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কেউ সেভাবে সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারেনি বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর দাবি, একমাত্র নন্দিনীই প্রথম দিন থেকেই জিতুর কথার পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং চোখে চোখ রেখে নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছে। এখানেই থেমে থাকেননি নন্দিনীর বাবা। জিতুর আচরণ নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হয়েও জিতু একটি কমবয়সি মেয়েকে অপমান করেছেন। ছেলেদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া বা তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মেলামেশা করা নিয়েও নন্দিনীকে কটাক্ষ করেছেন অভিনেতা। নন্দিনীর বাবা মনে করেন, বিগ বসের ঘরে কাউকে ছোট করে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, জিতু নিজেকে এমন একটি জায়গায় রাখতে চান, যেখানে অন্যরা তাঁর কথার বিরোধিতা করবে না। অথচ নন্দিনী সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। শুধু তাই নয়, জিতু নিজের খেলার দিকে মন না দিয়ে সিজলা, রণিতার মতো প্রতিযোগীদের ফাইনালে যেতে না দেওয়ার কথা বলছেন বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, অন্যদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা না করে নিজের খেলায় মন দেওয়া উচিত জিতুর।
আরও পড়ুনঃ “একজন শিল্পীর সম্মান যদি না থাকে, তাহলে আর কী থাকে? টাকা-পয়সা একদিকে, সম্মানটাই আসল!” “ওনার ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা জীবনকে যেভাবে পরিচালিত করেছেন…” ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন জয়তী চক্রবর্তী! হারানো গৌরব ফিরে পাওয়া কঠিন, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে কি প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলার শিল্পীদের সম্মান? কি জানালেন গায়িকা?
অন্যদিকে, রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন বাবা-মা। তাঁদের বক্তব্য, মেয়ের ভালো থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজবীরের সঙ্গে সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নন্দিনীর। তবে রাজবীরের যত্নশীল আচরণ তাঁদের ভালো লেগেছে। পাশাপাশি রাজবীরকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাতেও আপত্তি জানিয়েছেন নন্দিনীর বাবা। তাঁর মতে, শারীরিক শক্তি থাকলেই কাউকে ভয় দেখানো যায় না। সব মিলিয়ে মেয়ের খেলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নন্দিনীর পরিবার। বিশেষ করে জিতু কমলের বিরুদ্ধে নন্দিনী যেভাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, সেটাকেই মেয়ের বড় সাফল্য বলে মনে করছেন তাঁরা।






