“যতদিন পর্যন্ত সম্ভব সমাজ মাধ্যম থেকে দূরে রাখব, টেকনোলজির বাইরে জীবন শিখুক সন্তান।”— সন্তানের মানসিক বিকাশে সমাজ মাধ্যম নয়, বাস্তব জীবনের উপর জোর দিচ্ছেন পিয়া চক্রবর্তী!

দ্বিতীয়বারের জন্য ঘর বাঁধার এক বছর হতে না হতেই জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন ‘পিয়া চক্রবর্তী’ (Piya Chakraborty) এবং ‘পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়’ (Parambrata Chatterjee)। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাঁদের চার হাত এক হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ভাগ করে নেন পিয়া আর জুন মাসেই তাঁদের ঘরে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। এই বিশেষ মুহূর্তের জন্য একেবারে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পিয়া। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই তিনি নিয়েছেন নিজের ছন্দে, সেটা বিয়ে হোক বা মাতৃত্ব।

এত বছর পর মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না তাঁর মধ্যে। পিয়া কখনওই মাতৃত্বকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখেননি। বরং নিজের মানসিক পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছেন। তাঁর মতে, মা হওয়ার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া যায় না, এটি একান্তই মানসিক প্রস্তুতির বিষয়। তাই একটু দেরিতে হলেও অসুবিধা নেই পরিণত বয়সে এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে আরও গ্রহণযোগ্য বলেই মনে হয়েছে।

পেশায় পিয়া একজন মনোসমাজকর্মী, বিশেষত মহিলাদের এবং তরুণদের মানসিক স্থিতি নিয়ে কাজ করেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছেন, সন্তানকে যতটা সম্ভব সমাজ মাধ্যম থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়। তিনি বলেছেন মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য অনেক পড়াশোনা করতে হয়। প্রেগন্যান্ট অবস্থাতেও অনেক সেমিনার এটেন্ড করেছেন তিনি। সেখান থেকেই জানতে পেরেছেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে দিনে কত ঘন্টা একজন তরুণ সমাজ মাধ্যমে কাটায় সেটাই তার আচার-আচরণে প্রতিফলিত হয়।

তিনি আরো জানান নিজের শিশুকে যতটা বয়স পর্যন্ত সম্ভব সমাজ মাধ্যম থেকে দূরেই রাখবেন। পিয়া বলেন, “একজন কিশোর বা তরুণ দিনে যত ঘণ্টা সমাজ মাধ্যমে ব্যয় করে তার থেকে কিছুটা সময় কমালেও মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়, পজিটিভিটি বাড়ে।” পিয়া আর পরমব্রত চান যে তাদের সন্তান যেন জানে যে টেকনোলজি বা সমাজ মাধ্যমের বাইরেও একটা জীবন আছে। তাই নিজেদের পোষ্যর সাথে সন্তানকে বড় করতে চান, যাতে বড় হতে একজন পরিণত মানুষ তৈরী হয়।

আরও পড়ুনঃ “আমি তো চাই কাজে ফিরতে”, “ফোন আসে, ছবি চায়, কিন্তু কাজ দেয় না”— সফল অভিনেত্রী হয়েও নেই কাজ! সংসারের টানাপোড়েন, কাজের অভাব! হতাশাগ্রস্ত অভিনেত্রী অবন্তী দত্ত!

পিয়া এছাড়াও কথা বলেছেন মেয়েদের মা হওয়ার সঠিক সময় নিয়েও। তিনি বলেছেন, অনেক মহিলাই কম বয়সে মা হয়ে পরে অনুতপ্ত হন। পরিণত বয়সে সিদ্ধান্ত নিলে আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্থিরতা বেশি থাকে। সেই কারণেই নিজের সময় মতো সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সর্বতোভাবে সমর্থন করেন এবং অন্য মহিলাদেরও সেই পরামর্শ দেন। আপনাদের কি মতামত মা হিসেবে পিয়ার মতাদর্শ যথাযথ?

You cannot copy content of this page