“বাংলা দখল করব বলেই হবে না, বাংলাকে জানতে হবে” যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যে, পাল্টা আ’ক্রমণ রাজ চক্রবর্তীর! প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কী বললেন টলিউড পরিচালক?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মোদী বলেন, একসময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হত, যেখানে জাতীয়তাবাদ ছিল মূল ভিত্তি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল প্রার্থী ও ‘হোক কলরব’ ছবির পরিচালক রাজ চক্রবর্তী মোদীর বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

রাজ চক্রবর্তী বলেন, “যদি বাংলার বিষয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে বাংলার সংস্কৃতি এবং আবেগ বোঝা দরকার।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্পর্কে মোদী যেভাবে মন্তব্য করেছেন, তা সঠিক নয়। রাজ আরও বলেন, “বাংলা সম্পর্কে না জানলে, এমন মন্তব্য করা উচিত নয়।” তাঁর মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা যথেষ্ট মেধাবী, এবং তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যাদবপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মেধা ও ব্যক্তিত্বকে আলাদা চোখে দেখা হয়।

মোদি যখন যাদবপুরের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন, তখন রাজ চক্রবর্তী তাঁর পরিচালিত ছবি ‘হোক কলরব’ এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ছবির গল্প যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে তৈরি একটি কাল্পনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া র‍্যাগিংয়ের ঘটনা নিয়ে। তবে রাজ স্পষ্ট করেন, এই ছবির সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বা শিক্ষার গুণমান নিয়ে তাঁর ছবিতে কিছু বলা হয়নি। বরং, ছবির মূল বিষয় ছিল ছাত্রদের মধ্যে হওয়া র‍্যাগিংয়ের ঘটনা।

রাজ চক্রবর্তী আরও জানান, বাংলার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ আলাদা। তিনি বলেন, “এখানে পাড়ার রক, চায়ের দোকান, কলেজের কমন রুম, সব জায়গাতেই রাজনীতি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক সময় সেই আলোচনা গঠনমূলকও হয়।” রাজের মতে, বাংলায় ছাত্ররা কলেজের ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে অংশ নেয়, এবং সেখানে নিজেদের মতামত প্রকাশ করা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই পরিবেশে যদি কেউ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে, তবে তা দোষের কিছু নয়।

আরও পড়ুন: “মা-বোনকে নিয়ে ওইদিনই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি…দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল, ওইভাবে থাকলে সব শেষ হয়ে যেত” বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, বি’স্ফোরক বর্ণিনী চক্রবর্তী! কোন পরিস্থিতিতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত অভিনেত্রীর? তীব্র কষ্টে কেটেছে দিন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর অবশেষে পেয়েছেন পরিচিতি !

শেষে রাজ বলেন, “যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের যদি কেউ সন্দেহের চোখে দেখে, তবে তা একেবারেই ভুল। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্ররা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় কোনো অংশে কম নয়।” তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী যদি বাংলার সংস্কৃতি বা যাদবপুর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে থাকেন, তবে তা তাঁর অজ্ঞতার পরিচায়ক। রাজের এই মন্তব্যটি বাংলা রাজনীতি ও সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।

You cannot copy content of this page