“ইচ্ছে করেই করেছি…মতের অমিল ছিল, ব্যবসা করতে চাই না!” গোমাং’স বিতর্কে রাহুলের সঙ্গে বচসা, মাস না ঘুরতেই প্রয়াত অভিনেতা! অনন্যার প্রতিক্রিয়ায় উঠে এল অম্ল-মধুর স্মৃতি, নীরব থাকার কারণও জানালেন তিনি?

সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক এক সময় বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল শহরে। পার্কস্ট্রিটের একটি পরিচিত রেস্তরাঁয় গোমাংস নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়তেই নানা মতভেদ সামনে আসে। ঠিক সেই সময়েই টলিপাড়ার দুই পরিচিত মুখ অনন্যা গুহ এবং রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়। বিষয়টি ছোট হলেও তা দ্রুত বড় আকার নেয় এবং নেটমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। অনন্যা তখন অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং করতেন, আর রাহুল পডকাস্ট পরিচালনা করতেন। ফলে তাঁদের এই বিরোধ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও ছিল বেশি। মাসখানেক আগের সেই ঘটনা এখনও অনেকের মনে রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে।

হঠাৎ করেই সবকিছু থেমে যায় রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে। এক বিকেলে ফোনে স্ক্রোল করতে করতেই এই দুঃসংবাদ পান অনন্যা। সেই মুহূর্তে পুরনো স্মৃতিগুলো আবার মনে পড়ে যায় তাঁর। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনন্যা জানান, রাহুলের সঙ্গে তাঁর একটি কাজ হওয়ার কথা ছিল, যা অনেকদূর এগিয়েও শেষ পর্যন্ত হয়নি। এছাড়াও তাঁদের একসঙ্গে আরেকটি কাজও হয়েছিল। সেই সম্পর্কের কথা মনে করে অনন্যা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। যদিও তাঁদের মধ্যে মতভেদ ছিল, তবুও ব্যক্তিগতভাবে কোনও বিদ্বেষ ছিল না বলে জানান তিনি।

মাসখানেক আগে হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্ক নিয়ে এখনও আলোচনা চলে। অনেকেই সেই সময়ের কথোপকথন উপভোগ করেছিলেন। তবে অনন্যা বলেন, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে কারও ক্ষতি কামনা করা উচিত নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, সবাই একই ইন্ডাস্ট্রির অংশ, তাই পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি। ভবিষ্যতে হয়তো তাঁদের আবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগও আসতে পারত। সেই সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় অনন্যার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশে বিশ্বাসী নন।

রবিবার পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার উপকূলে তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন জলে তলিয়ে যান রাহুল। সঙ্গে থাকা সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে উদ্ধার করা গেলেও রাহুলকে খুঁজে পেতে সময় লাগে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই শোকাহত হয়ে পড়েছেন। বন্ধু, সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা গভীর দুঃখে ভেঙে পড়েছেন। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর স্মৃতিচারণ করছেন এবং নিজেদের আবেগ ভাগ করে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ “তুই সোজা শিরদাঁরা নিয়েই মহাপ্রস্থানে গেলি, লোকে একটা আস্ত মেরুদন্ড নিয়ে হাঁটতে পারছে না” রহস্য ঘনীভূত রাহুলের অকাল মৃ’ত্যুকে ঘিরে, প্রশ্নের মুখে প্রযোজনা সংস্থা! তবুও চুপ ইন্ডাস্ট্রি? দায় এড়ানোর অভিযোগে মুখ খুললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

তবে অনন্যা এই বিষয়ে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, এত মানুষ যখন পোস্ট করছেন, তখন বিষয়টি অনেকটা প্রদর্শনের মতো হয়ে যাচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়। তাই তিনি কোনও কিছু লেখেননি। তাঁর মতে, যারা সত্যিই রাহুলের কাছের মানুষ, তারা এই মুহূর্তে পোস্ট করার মানসিক অবস্থায় নেই। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় তিনি নিজেও আতঙ্কিত। কারণ শুটিংয়ের প্রয়োজনে নানা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়। বোলপুরে শুটিং করতে গিয়ে একবার ডোবায় পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত তাঁর।

You cannot copy content of this page