ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুটিংয়ের জন্য কোনও পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয় থানাকেও বিষয়টি আগে থেকে জানানো হয়নি বলে দাবি পুলিশের। ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, তার আগের দুদিন ধরেই ওই এলাকায় শুটিং চলছিল। পুলিশের বক্তব্য সামনে আসতেই বড় প্রশ্ন উঠছে, এত বড় ইউনিট কীভাবে নিয়ম না মেনে কাজ করছিল। এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তার কোনও নিয়মই ঠিকমতো মানা হয়নি। সমুদ্রসৈকতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কাজ করার সময় সাধারণত লাইফগার্ড, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেইসব নিয়ম মানা হয়নি বলেই দাবি করা হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল বলে মনে করছেন অনেকে। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের দাবি উঠলেও পুলিশ বলছে, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর অভিনেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে তোলার পর রাহুলকে দিঘা সাব ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তালসারি থেকে এই হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে সেই ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। এই মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সবাই। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা জানার অপেক্ষা চলছে।
রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুতে টলিউডে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সরাসরি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি শিল্পী সংগঠনের কাছেও জবাবদিহি চেয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি জানতে চান, এই ঘটনার পর ফোরাম কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও জানান তিনি। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, এই মৃত্যু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় ক্ষতি। তাঁর এই বক্তব্যে অনেকেই সহমত প্রকাশ করেছেন। গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “উপার্জন আর ক্ষমতার আতশকাঁচ দিয়ে যাঁরা মানুষকে দেখেন, তাঁদের মত অশিক্ষিত দুনিয়ায় আর কেউ নেই” ৪৩-এই থেমে গেল সব, পিতৃহারা ছোট্ট সহজ! মৃ’ত্যুর আগে শেষ চিঠিতে কী লিখে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়? শেষ দিন পর্যন্ত সন্তানের জন্য রেখে গেলেন জীবনের পাঠ?
ঘটনার সময় রাহুলের সঙ্গে থাকা তাঁর ড্রাইভার বাবলুও পুরো বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি জানান, শুটিংয়ের একটি দৃশ্যে নায়িকার হাত ধরে জলে এগোচ্ছিলেন রাহুল। হঠাৎই জলের স্রোতে তিনি তলিয়ে যেতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে টেকনিশিয়ানরা ছুটে গিয়ে দুজনকেই উদ্ধার করেন। তখনও তাঁর শরীরে প্রাণ ছিল বলে দাবি বাবলুর। কিন্তু প্রচুর জল ঢুকে যাওয়ায় অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও শুটিং ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা বজায় রাখার আবেদন জানান।






“জা’নোয়ারেরও অধম, জু’তিয়ে সিধে করা উচিত…বামপন্থী হতেই পারে, কারুর পাকা ধানে মই দিতে যায়নি!” রাহুল অরুণোদয়ের আকস্মিক মৃ’ত্যুতে রাজনৈতিক আদর্শ টেনে, নেটিজেনদের অশ্লীলতা ও উল্লাসে তোপ কুণাল ঘোষের!