“খুব ভালো অভিনেতা ছিল…’পিয়া রে’ গানটা শুনলেই ওর কথা মনে পড়ছে” মৃ’ত্যুর পরে প্রথম ছবির নায়কের ভূয়সী প্রশংসায় রাজ চক্রবর্তী! “রাহুল না সব বলে গেছে, তাই চুপ থাকুন!” “একটা নোং’রা ছেলের কথা আপনার মনে পড়ছিল? স্ট্রেঞ্জ!” বেঁচে থাকতে বদনাম ও এখন সুনাম, পরিচালকের দ্বিচারিতায় নেটপাড়ায় সমালোচনা!

টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্কের টানাপোড়েন যেন নতুন করে সামনে এনে দিয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার। এই ছবির মাধ্যমেই যাত্রা শুরু হয়েছিল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee), প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং পরিচালক ‘রাজ চক্রবর্তী’র (Raj Chakraborty)। কিন্তু পর্দার সফল প্রেমকাহিনির আড়ালে বাস্তবে যে একটা অস্বস্তিকর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা মৃ’ত্যুর কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি জানিয়েছিলেন রাহুল। তাঁর কথায়, প্রথম সুযোগ পাওয়ার পরও তিনি পরিচালকের বিশ্বাস হারাচ্ছিলেন, যা একজন নবাগত অভিনেতার মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

এমনকি একটি বড় সংবাদ মাধ্যমে তাঁকে “অসৎ” বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যা তাঁর আত্মবিশ্বাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। এই অভিজ্ঞতা রাহুলের কাছে শুধুই পেশাগত সমস্যা ছিল না, বরং ব্যক্তিগত স্তরেও তা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। খুব অল্প বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখে, চারপাশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ার চাপটা তিনি প্রতিদিন অনুভব করতেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সেই সময়ের পরিস্থিতি তাঁর কাছে এতটাই কঠিন ছিল যে, সেই সম্পর্ক আর কোনওদিন স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি।

ফলে ছবির জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, এর নেপথ্যে থাকা অস্বস্তি কখনও মুছে যায়নি। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই আসে দুঃসংবাদ, ৪২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রাহুল। শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় তাঁর মৃ’ত্যু টলিউডকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতেই সামনে আসে রাজের প্রতিক্রিয়া, যা অনেককেই অবাক করেছে। তিনি বলেন, “রাহুলের এই ঘটনাটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। এখনও ট্রমা থেকে বেরোতে পারিনি। ৪২ বছরের একটা ছেলে। আমাদের একসঙ্গে প্রথম ছবি, খুব ভাল অভিনেতা ছিল। ভাল লিখত, ভাল থিয়েটার আর্টিস্ট ছিল। এটা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। সবাই খুবই হতাশ।”

একইসঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ না সত্যিটা উঠে আসছে ততক্ষণ মন্তব্য করা উচিত হবে না। তবে, নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরও বুঝে নিতে হবে। সেটা অন্যের উপর নিজেকে ছেড়ে দেব না। আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে সন্তান আর স্ত্রীর কাছে, সেটা মাথায় রাখতে হবে। নিরাপত্তা সবার দরকার, সে একজন টেকনিশিয়ান হতে পারে, একজন শিল্পী, একজন গাড়িচালক হতে পারে। নিজে নিরাপদ থাকলেই অন্যকে নিরাপদ থাকতে পারব। আরও একটা রাহুলের ঘটনা যেন না হয় তাই নিজের নিরাপত্তা নিজে বুঝে নাও।”

তবে এখানেই শেষ নয়, এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই রাজের এই মন্তব্যকে সহজভাবে নিতে পারছেন না, বরং তাঁর অতীত মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের ফারাক তুলে ধরে কটাক্ষ করছেন। একজন লিখেছেন, “যে রাহুলকে অসৎ বলেছিলেন তার সম্পর্কে আজ এই কথা? শুনেও ভালো লাগলো। তবে মুখোশ আগামীদিনে সবার খুলবে আশা রাখি।” আবার আরেকজনের বক্তব্য, “রাহুল না সব বলে গেছে আপনার বিষয়ে। তাই চুপ থাকুন। মৃত ব্যক্তি শুনতে পারছেনা সত্যি। আমরা কিন্তু জীবিত আছি।”

আরও পড়ুনঃ “কী হল ওর? কোথায় গেল?” “আর তো পারা যাচ্ছে না, শোক আর শক্ নেবারও সীমা থাকে” মুখ খুললেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী! রাহুলের অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর শোক এখনও তাজা, এরই মাঝে নিখোঁজ জনপ্রিয় পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়! টলিউডে একের পর এক রহস্যজনক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা?

কেউ আরও সরাসরি বলেন, “অবাক লাগে, যে মানুষ একজন বেঁচে থাকতে তার বদনাম করেছে সেই আজ “রাহুল কি ভালো মানুষ ছিলো। আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম!” এ সব বলে বাইট দিচ্ছে! কি হিপোক্রিট!” আবার কেউ কেউ তীব্র ব্যঙ্গের সুরে লিখেছেন, “সেকি!? একটা নোংরা ছেলের কথা আপানার মনে পড়ছিল? স্ট্রেঞ্জ!” এই গোটা ঘটনাটা এখন শুধুমাত্র একজন অভিনেতার অকাল প্রয়াণের শোকেই সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে রাহুলের বক্তব্য, অন্যদিকে তাঁর মৃ’ত্যুর পর প্রশংসায় ভরা রাজের প্রতিক্রিয়া, দুইয়ের দ্বন্দ্বই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

You cannot copy content of this page