দীর্ঘদিন পর আবার স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের (Subhashree Ganguly) ছবি পরিচালনায় ‘রাজ চক্রবর্তী’ (Raj Chakraborty) আর তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই টলিপাড়ায় চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন ২৩ তারিখ মুক্তির আগেই ‘হোক কলরব’ ছবিকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক পেরিয়ে এবার তিনি ফিরেছেন একেবারে আলাদা গল্প নিয়ে! বহুদিন বাদে রাজ-শুভশ্রী জুটি পর্দায়, তবে সাম্প্রতিককালে একাধিক বিতর্ক যেন, বারবার তাঁদের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এবারও সেই বিতর্কের মুখে তাঁরা, নতুন প্রেক্ষাপটে। এই ছবিতে শুভশ্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন অঙ্কুশ হাজরা। দীর্ধ ১২ বছর বাধে দুজনকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার আনন্দ আলাদা হলেও, নির্মাতারা শুরু থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ছবির আসল শক্তি তার গল্প। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে, রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবির নাম ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ (Lakshmi Elo Ghore), যার নামেই যেন ইঙ্গিত রয়েছে মূল বক্তব্যের।
প্রসঙ্গত, এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক কৃষক পরিবার। সদ্য বিবাহিতা এক তরুণীর জীবন মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়, যখন কাজ করতে গিয়ে আচমকাই মৃ’ত্যু হয় তাঁর স্বামীর। স্বামীর অন্তিম ক্রিয়ার আগেই, সামাজিক রীতির নামে শুরু হয় নিষ্ঠুর বাস্তবতা। সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলা হয় নব বিবাহিতা স্ত্রীর আর সেই সঙ্গে শাশুড়ির গঞ্জনা। এই শাশুড়ির চরিত্রে রয়েছেন সোহিনী সেনগুপ্ত, আর বৌমার ভূমিকায় অবশ্যই শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
তবে গল্পটা শুধু কষ্টের মধ্যেই আটকে থাকে না। অভাব আর অবহেলার মাঝেও বৌমা হার মানতে জানে না। সে সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায় রাজ্য সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধির কাছে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গল্পে প্রবেশ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথীর মতো প্রকল্পগুলি। কীভাবে এই উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের জীবনে ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে, আর সংকটের সময়ে সংসারে নতুন আশার আলো জ্বালায়, সেটাই ছবির মূল বক্তব্য।
আরও পড়ুনঃ “হাসপাতালটা আমার বাবার না!” “নজরে আসতে পরিকল্পিতভাবে আমাকে ভিলেন বানিয়েছে…ভুল করেছি, মিথ্যে অপবাদ সহ্য করব না!” ভিডিওগ্রাফারদের পারিশ্রমিক বি’তর্কে মুখ খুললেন দেবলীনা নন্দী! ফাঁস করলেন, দফায় দফায় টাকা পাঠানোর হিসেব! প্রকাশ্যে বি’স্ফোরক তথ্য!
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এটি কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্যের কমার্শিয়াল ছবি নয়, এক ঘণ্টার স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এমন বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করায় ছবিটি রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। গতকাল নন্দন-২ প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির বিশেষ স্ক্রিনিং হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এই ছবি তুলে ধরবে, কিভাবে সরকার বৌমা এবং শ্বাশুড়ির দূরত্ব ঘুচিয়েছে।” এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন, টলিউডের একাধিক মানুষ।






