বাংলা অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ রজত গাঙ্গুলী। থিয়েটার, টেলিভিশন থেকে বড় পর্দা সব জায়গাতেই নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করেছেন তিনি। বহুরূপী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু, তারপর ধীরে ধীরে ধারাবাহিক, সিনেমা সব ক্ষেত্রেই নিজের জায়গা পাকা করেছেন অভিনেতা। একসময় ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি অভিনয়ে আসার সাহস দেখিয়েছিলেন, আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই আজও কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর। বরং তাঁর কথায়, “যা পেয়েছি, প্রত্যাশার থেকেও বেশি।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে শোনা গেল তাঁকে। তাঁর মতে, আগে একটি সিনেমা যতটা যত্ন করে তৈরি হতো, এখন সেই জায়গাটা অনেকটাই বদলে গেছে। একসময় যেখানে একটি ছবির শুটিং চলত ৩০-৪০ দিন, এখন অনেক ক্ষেত্রেই ১০-১২ দিনের মধ্যে শেষ করতে হচ্ছে। এতে ছবির মান যে কমছে, তা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “সব কিছু যেন তাড়াহুড়োর মধ্যে হচ্ছে, ফলে সেই গভীরতা আর থাকছে না।
সম্প্রতি অপর্ণা সেন-এর একটি মন্তব্য নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছিল, যেখানে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশার কথা বলেন। সেই প্রসঙ্গে রজত গাঙ্গুলীও একপ্রকার সুর মিলিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা সত্যিই খুব একটা ভালো নয়। ভালো গল্প, ভালো অভিনেতা থাকা সত্ত্বেও, সঠিকভাবে কাজের পরিবেশ বা পরিকল্পনার অভাবে অনেক কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেছেন বর্তমান কাজের ধরণ নিয়ে। তাঁর কথায়, এখন সিনেমা তৈরির প্রক্রিয়াটা অনেকটাই “ফ্যাক্টরি”-র মতো হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার চাপ, বাজেটের সীমাবদ্ধতা সব মিলিয়ে শিল্পের জায়গাটা কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে। “অন্তঃসারশূন্য সিনেমা তৈরি হচ্ছে,” এই মন্তব্য করে তিনি স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর হতাশা। শুধু তাই নয়, এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতেও আর আগের মতো আগ্রহ পান না বলেও জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: “ফুসফুসের ওই অবস্থাতেও…ভাল থেকো বাবা” “আদরের মানুষগুলো আর থাকছে না কাছে” য’ক্ষ্মায় প্রিয়জনের মৃ’ত্যু! সংবাদ পেতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্র!
একসময় শুটিংয়ে যাওয়া মানেই ছিল আলাদা উত্তেজনা, নতুন কিছু করার আনন্দ। কিন্তু এখন সেই অনুভূতিটা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে করেন রজত গাঙ্গুলী। তাঁর মতে, কাজের ধরণ, গল্পের মান এবং পুরো সিস্টেম সব মিলিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে শিল্পীর নিজের কাজের প্রতিও আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তবে সব কিছুর পরেও তিনি বিশ্বাস করেন, যদি আবার ভালো গল্প, স্বাধীনতা আর সঠিক পরিকল্পনা ফিরে আসে, তাহলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আবার নিজের পুরনো জায়গায় ফিরতে পারবে।






