“শ্বশুর বাড়িতে প্রথম দিকে ন্যায্য সম্মান পাইনি, কাজেও প্রডিউসার-ডিরেক্টরের প্রলোভনের পাত্রী হতে পারিনি, তাই হিরোইন নই” জীবনের টানাপোড়েনের ফাঁস করলেন অভিনেত্রী রিতু রায়! ঠিক কী কী অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছেন তিনি?

বিনোদন দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দিক নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। রঙিন পর্দার ঝলক, সাফল্যের আলো, জনপ্রিয়তার হাতছানি—সব কিছুর মাঝেই বহু অভিনেত্রীকে প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় কুপ্রস্তাব, প্রলোভন আর আপসের চাপের। কখনও তা সরাসরি, কখনও আবার ঘুরপথে। এই বাস্তবতা শুধু বিনোদন জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রেই কমবেশি ছড়িয়ে আছে বলে মনে করেন অনেকেই। তবে শেষ পর্যন্ত কে কোন পথে হাঁটবেন, সেটাই নাকি ঠিক করে দেয় ভবিষ্যৎ।

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক জগদ্ধাত্রীতে মেহেন্দি চরিত্রে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী রিতু রায়। ছোট হলেও তাঁর চরিত্রের অভিনয় ছাপ ফেলেছিল দর্শকমনে। শুধু এই ধারাবাহিক নয়, টেলিভিশন ও বিনোদন জগতের নানা গল্পে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। চেনা মুখ হয়েও এখনও মূলধারার নায়িকার তকমা পাননি রিতু—এই বিষয়টি নিয়েই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অকপটে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও লড়াই কম ছিল না রিতুর। সাত বছর আগে তাঁর জীবনে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল বিয়ে—এমনটাই মনে করেন তিনি। তবে দাম্পত্য জীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। বিয়ের পর প্রথম দিকে শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল, তাঁকে সহজে মেনে নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবুও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলেছে, পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত হয়েছে, আর সেই সঙ্গে জীবনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রিতু স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “শুধু বিনোদন জগতে নয়, সব জায়গাতেই কুপ্রস্তাব পাওয়া যায়। কিন্তু তুমি নিজেকে কতটা দিচ্ছ, তার উপরেই ভালো-মন্দ নির্ভর করে।” তাঁর মতে, পরিস্থিতির মুখোমুখি সবাইকেই হতে হয়, কিন্তু কোন সীমারেখা টানা হবে, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত।

আরও পড়ুনঃ “আমার সিঁদুর লাগা গয়নাটা বন্ধক দিয়েছে, একদিনও পরতে দেয়নি!” “ছেলে মা’রা গেলে সম্পত্তির মালকিন হবে বৌমা, এই ভয়েই রেজিস্ট্রিও করতে দেয়নি!” দেবলীনাদের দাম্পত্যে অশান্তির কেন্দ্রবিন্দু শাশুড়ির মানসিকতা! মায়ের জন্যই ভাঙনের মুখে প্রবাহর সংসার?

সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যে অভিনেত্রী জানান, “প্রডিউসার আর ডিরেক্টরের প্রলোভনের পাত্রী হতে পারিনি বলেই হয়তো আজ হিরোইন হইনি।” কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর কণ্ঠে। বরং নিজের মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলার আত্মবিশ্বাসই ফুটে উঠেছে রিতুর কথায়। সাফল্যের সংজ্ঞা যে শুধুই বড় চরিত্র বা খ্যাতি নয়, সেই বার্তাই যেন তাঁর জীবনের গল্পে স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page