বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতাদের নাম উঠলে প্রথম সারিতেই থাকেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ছোট পর্দার ‘তোপশে’ থেকে শুরু করে বলিউডের আইকনিক ‘বব বিশ্বাস’ নিজের অভিনয় দক্ষতায় বারবার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রেও সমান দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন এই অভিনেতা। প্রখ্যাত অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সন্তান হলেও নিজের পরিচয় তিনি তৈরি করেছেন সম্পূর্ণ নিজের দক্ষতায়। দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয় জীবনে তিনি যেমন অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন, তেমনই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন দিক নিয়েও বারবার খোলাখুলি মতামত প্রকাশ করেছেন।
শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বরাবরই স্পষ্ট কথা বলতে ভালোবাসেন। টলিউডের পরিবর্তন, দর্শকের রুচি কিংবা সিনেমার মান নানা বিষয় নিয়ে তাঁকে বহুবার সরাসরি মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ৯০-এর দশকের বাংলা সিনেমা নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তাঁর মতে, একটা সময় বাংলা ছবির গুণগত মান এতটাই কমে গিয়েছিল যে দর্শক ধীরে ধীরে সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। আর সেই কারণেই একের পর এক হল বন্ধ হয়ে যেতে থাকে।
সাক্ষাৎকারে শাশ্বত বলেন, “একটা সময় সত্যিই ভালো ছবি হচ্ছিল না। আমি নিজে নিয়ম করে বিভিন্ন সিনেমা হলে ঘুরে ঘুরে বাংলা ছবি দেখতাম। উজ্জ্বলা, বিজলী, ইন্দিরা, বসুশ্রী, ভারতী, প্রায় সব হলেই যেতাম।” অভিনেতার কথায়, তখন অনেক ছবিতেই এমন গান বা দৃশ্য রাখা হত, যা দর্শকের মনে দাগ কাটার মতো ছিল না। ধীরে ধীরে সিনেমাগুলোর মধ্যে থেকে গল্পের শক্তি হারিয়ে যেতে শুরু করে। তিনি মনে করেন, সেই সময় ছবিতে শুধুই মারপিট বা কিছু নির্দিষ্ট এলিমেন্টের উপর জোর দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু পারিবারিক দর্শকদের কথা ভাবা হচ্ছিল না।
শাশ্বতের মতে, বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ‘ফ্যামিলি অডিয়েন্স’। অর্থাৎ এমন ছবি, যা পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন। তিনি বলেন, “বাড়ির মহিলারা যদি সিনেমা দেখতে না যান, তাহলে একটা বড় দর্শকশ্রেণি হারিয়ে যায়। কারণ একজন মহিলা গেলে সঙ্গে স্বামী, ছেলে-মেয়েও যায়।” তাঁর বক্তব্য, সেই পারিবারিক আবহের সিনেমা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছিল। ফলে সিনেমা হলের দর্শকও কমে যায়। অভিনেতার মতে, শুধুমাত্র তরুণ দর্শকদের মাথায় রেখে ছবি বানালে চলবে না, সব বয়সের দর্শকের কথা ভেবেই সিনেমা তৈরি করতে হয়।
আরও পড়ুন: “কাজ দেওয়ার ক্ষমতা যখন নেই, তাহলে কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কে দিল?” ক্ষ’তি হল আর্টিস্ট ফোরামের সভ্যদের! রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর দেড় মাস পর আর্টিস্ট ফোরামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের! ধারাবাহিক বন্ধের জেরে বেকার অসংখ নির্দোষ টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের দুর্দ’শা নিয়ে কী বললেন অভিনেতা?
তবে বর্তমান সময়ে বাংলা সিনেমার পরিবর্তন নিয়েও আশাবাদী শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এখন আবার কনটেন্টভিত্তিক ছবি তৈরি হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা নানা ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করছেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছেন, ভালো গল্প এবং পরিবারের সবাই মিলে দেখার মতো সিনেমাই শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। আর সেই কারণেই বাংলা সিনেমাকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হলে দর্শকের আবেগ, সম্পর্ক এবং পারিবারিক বিনোদনের দিকটাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলেই মনে করেন তিনি।






“স্ত্রী হিসেবে ওর সঙ্গে থাকা যায় না” দেবশ্রী রায়কে নিয়ে বি’স্ফোরক মিঠুন চক্রবর্তী, দিলেন ‘খামখেয়ালী ও খিটকেল’ তকমা! প্রসেনজিতের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর, দ্বিতীয়বার সংসার পাতেননি অভিনেত্রী! হঠাৎ তাঁকে নিয়েই বর্ষীয়ান অভিনেতার এমন মন্তব্যের নেপথ্যে কী কারণ?