নেটপাড়ায় কটাক্ষের (Social Media Trolling) ভাষা যে কতটা নির্মম হতে পারে, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ। একের পর এক ব্যক্তিগত ঘটনাকে জুড়ে দিয়ে তাঁকে ঘিরে যে মন্তব্য ছড়াচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, “ডিভোর্স স্পেশালিস্ট” (Divorce Specialist) তকমা। আগেও যেমন তাঁকে দায়ী করা হয়েছিল নিজের দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও সুস্মিতা রায়ের বিচ্ছেদের জন্য, ঠিক তেমনই এবার দেবলীনা নন্দীর (Debolina Nandy) জীবনের কঠিন সময়ের সঙ্গেও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে সায়কের নাম।
অথচ বাস্তবের পরিস্থিতি এতটা সরল বা একরৈখিক নয়। নতুন বছরের শুরুতেই দেবলীনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অনেককেই নাড়িয়ে দিয়েছিল। মানসিক চাপে ভেঙে পড়া এক মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে কেউ দেখেছেন বন্ধুত্ব হিসেবে, আবার কেউ সেখানে খুঁজে পেয়েছেন অন্য গল্পের রং। দেবলীনার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং ঘটনার সেই মুহূর্তে সয়ককে ফোন করার কথা, সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই প্রশ্নের সঙ্গে পুরনো গুঞ্জন জুড়ে দিয়ে নেটপাড়ায় ফের শুরু হয় দোষারোপ।
এই আবহেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় নানান সমালোচনা, কটাক্ষ আর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ঝড়। সায়াকের প্রতিটি পোস্টের কমেন্টে ভরে যেতে থাকে এইসব। তারই মধ্যে, ভাইরাল হয় একটি কটাক্ষ। এক নেটিজেন ব্যঙ্গ করে লেখেন, “বলছিলাম ভাই আমার একজন বন্ধুর ডিভোর্স করাতে হবে তুমি একটু আসবে? জনগণ বলছে তুমি নাকি ‘ডিভোর্স স্পেশালিস্ট’! যা টাকা লাগবে দিয়ে দেবো কাজটা হলে।” এমন মন্তব্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতেন, কিন্তু সায়ক বেছে নিলেন অন্য পথ!

ঠান্ডা মাথায়, ব্যঙ্গের সুরেই তিনি জবাব দিলেন, বিনে পয়সায় তো একদমই নয়! করাতে হলে লাগবে ৯০,০০০ টাকা! এই উত্তরই মুহূর্তে ঘুরে যায় আলোচনার অভিমুখ। সায়কের এই সংযত অথচ তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন বহু মানুষ। একজন মন্তব্য করেছেন, “যেমন রোগ, তেমন ওষুধ। তুমি ঠিক করেছো সায়ক!” সমর্থকদের মতে, এই ভাষাতেই এমন কটাক্ষের জবাব দেওয়া উচিত! কেউ কেউ আবার লিখেছেন, অহেতুক অপবাদ আর ব্যক্তিগত আক্রমণের সামনে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে কথা বলাটাই আসল পরিণত মানসিকতার পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ টানা এক বছর উঠে দাঁড়াতেও পারতেন না! সায়াটিকার অসহনীয় যন্ত্র’ণায় থমকে গিয়েছিল সৌমিতৃষার জীবন! দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, ভাগ করলেন ভ’য়ংকর অভিজ্ঞতা! এই রো’গ কেনই এত কষ্টকর?
সায়ক চাইলেই এখানে তীব্র প্রতিবাদ বা আবেগী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন, কিন্তু তিনি সেটি করেননি আর এটাই অনেকের চোখে তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। উল্লেখ্য, এর আগেও অভিনেতা জানিয়েছিলেন যে এই ধরনের মন্তব্য তাঁর কাছে নতুন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব দেখার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। তবু দিনের শেষে তিনিও একজন মানুষ। খারাপ লাগা তাঁকেও ছুঁয়ে যায়। তাই সমাজ মাধ্যম যতটা মুক্ত, আমাদের ভাষা আর দৃষ্টিভঙ্গিকেও ততটাই দায়িত্বশীল হতে হবে। কৌতূহল আর বিনোদনের নামে যেন অজান্তেই কাউকে মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে না দেওয়া হয়। এই সচেতনতার দিকেই এবার প্রশ্ন তুলে দিল সায়কের সংযত অথচ অর্থপূর্ণ জবাব।






“তুমি নাকি ডিভোর্স স্পেশালিস্ট!” বারবার দোষারোপ, কটা’ক্ষে বি’দ্ধ সায়ক! নেটিজেনের খোঁচায় এমন জবাব দিলেন ভ্লগার-অভিনেতা, মুহূর্তে বদলে গেল আলোচনা! কী বললেন তিনি?