“আমি কথা বলব…আমি তো ঠিক আছি, রাহুলদা ঠিক আছে তো?” শ্বেতার কণ্ঠে আ’তঙ্ক, ভিডিও ভাইরাল হতেই সামনে এল দিদির বার্তা! বোনের পাশে দাঁড়িয়ে কী অনুরোধ সালোনির? রাহুলের প্রয়া’ণে শ্বেতার মানসিক অবস্থার কেমন, জানালেন তিনি?

রবিবারের সেই বিকেলটা যেন আচমকাই অন্য রঙে রঙিন হয়ে উঠল। দিঘার কাছেই তালসারি সমুদ্রতটে শুটিং চলছিল, সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। কাজের ফাঁকে হাসি-মজার মধ্যেই সময় কাটাচ্ছিলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee) এবং সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র (Sweta Mishra)। কিন্তু হঠাৎই সেই স্বাভাবিকতার মধ্যে ছেদ পড়ে। জলের ধারে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবতে শুরু করেন রাহুল। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এমনভাবে বদলে যায়, যা কেউই কল্পনা করতে পারেননি। উপস্থিত সকলে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনার সবচেয়ে নাড়া দেওয়া দিকগুলোর একটি ছিল শ্বেতার প্রতিক্রিয়া। হাসপাতালে বসে তাঁর কথাগুলো যেন এখনও কানে বাজে, কিছুক্ষণ আগেও যাঁর সঙ্গে কাজ করছিলেন, সেই মানুষটাই আর নেই, এই বাস্তবতা যেন তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। বারবার তিনি জানতে চাইছিলেন রাহুল ঠিক আছেন কি না। তাঁর কণ্ঠে ছিল বিভ্রান্তি, আতঙ্ক আর একরাশ অবিশ্বাস। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর সেই অসহায় প্রশ্ন, তিনি নিজে ঠিক আছেন, অথচ রাহুল কেন নেই? অনেকের মনেই গভীর দাগ কেটেছে।

ঘটনার পর থেকেই শ্বেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে সামনে আসেন তাঁর দিদি সালোনি মিশ্র। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি অনুরোধ করেন, যেন ওই ভিডিওটি আর ছড়িয়ে না দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, এই কঠিন সময়ে শ্বেতার প্রয়োজন একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ, কিছুটা ব্যক্তিগত পরিসর। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কৌতূহল মেটানোর চেয়ে একজন মানুষের মানসিক অবস্থাকে সম্মান করা অনেক বেশি জরুরি।

এদিকে, পুরো টলিউড ইন্ডাস্ট্রি শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে এই আকস্মিক ঘটনায়। সহকর্মী, বন্ধু এবং পরিবার সকলেই যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, এত দ্রুত সবকিছু শেষ হয়ে যেতে পারে। সোমবার কেওড়াতলা শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে রাহুলের শে’ষকৃত্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বহু পরিচিত মুখ, তবে সবার চোখেমুখেই ছিল একটাই প্রশ্ন, ঠিক কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? এই আকস্মিক মৃ’ত্যু যেন আরও অনেক প্রশ্ন রেখে গেল।

আরও পড়ুন: “আমার ১২ বছরের ছেলে বলছে, মা তুমি এগিয়ে যাও, রাহুল আঙ্কেলর যারা ক্ষতি করেছে…” ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্যের পরও, কাজ হারানোর ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন অনেকে? কাদের উদ্যেশ্যে পরোক্ষ খোঁচা অভিনেত্রীর রূপাঞ্জনা মিত্রের?

সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছেন রাহুলের পরিবার। তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এই সময় সকলের কাছে সংবেদনশীল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবার এখন ভীষণ কঠিন সময় পার করছে, বিশেষ করে তাঁদের সন্তানের জন্য এই ক্ষতি আরও গভীর। একইসঙ্গে শ্বেতার মানসিক অবস্থাও যে ভীষণ দুর্বল, তা স্পষ্ট। কয়েক ঘণ্টা আগেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, আর এখন সেই স্মৃতিই যেন সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে সকলকে।

You cannot copy content of this page