বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে ক’জনের নাম উচ্চারিত হলেই এক গভীর শ্রদ্ধা নেমে আসে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁদের অন্যতম। শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, আবৃত্তিকার, কবি, অনুবাদক হিসেবেও তিনি ছিলেন এক অনন্য শিল্পী। আজও তাঁর কথা স্মরণ করতে গেলে মনে পড়ে যায় সেই মানুষটিকে, যিনি শিল্পকে কখনও পেশা হিসেবে নয়, বরং জীবনদর্শন হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। পর্দার বাইরে থেকেও তিনি ছিলেন এক চিন্তাশীল, সংবেদনশীল মনের মানুষ।
ষাট বছরেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করা সৌমিত্র প্রথমবার ক্যামেরার সামনে আসেন সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। তাঁর বিপরীতে প্রথম কাজ করেন শর্মিলা ঠাকুর, অপর্ণা সেনের মতো অভিনেত্রীরা, যাঁরাও পরবর্তীতে কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা থেকে তপন সিংহ, মৃণাল সেন, অজয় কর— একের পর এক প্রখ্যাত পরিচালকের ছবিতে তাঁর অভিনয় বাংলা সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
তবে এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। উত্তম কুমারের সঙ্গে একই সময়ে কাজ করে দর্শকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা, কখনও নায়ক আবার কখনও খলনায়কের চরিত্র— সবকিছু সামলে নিজের অভিনয়সত্তাকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সৌমিত্র। থিয়েটারের প্রতি তাঁর আজন্ম টান ছিল এতটাই গভীর যে শুটিং ফাঁকি দিয়ে মঞ্চে ফিরে যাওয়ার গল্প আজও শিল্পীমহলে কিংবদন্তির মতোই ঘোরে।
বিবাহিত জীবন, সংসারের দায়িত্ব— সবই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন অভিনেতা। কিন্তু তাঁর কবিতা, গান কিংবা সাক্ষাৎকারে বারবার উঠে এসেছে একাকিত্বের কথা, প্রেমের কথা। ‘প্রেমে পড়েন না?’— এমন প্রশ্নে তিনি বলতেন, একজন শিল্পী প্রতিমুহূর্তে প্রেমে পড়েন— কখনও প্রকৃতির সঙ্গে, কখনও মানুষের সঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ ‘থ’লথলে চেহারা…এ কেমন পোশাক!’ সমাজ মাধ্যমে চরম সমালোচনার মুখে আইরা খান! আমির কন্যার পাশে দাঁড়ালেন অভিনব শুক্লা!
তবু সেই ‘মানুষটি’ কে, সে রহস্য কোনওদিনই ভাঙেননি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সহ-অভিনেত্রীদের ঘিরে গুঞ্জন থাকলেও, তিনি নিজে থেকে কখনও কিছু বলেননি। হয়তো এই নীরবতাই তাঁর শিল্পীসত্তার সবচেয়ে গভীর কবিতা— যা আজও দর্শককে ভাবতে শেখায়, ভালোবাসা কি সব সময় নাম নিয়ে প্রকাশ পায়?






