“জন্ডিস, জরায়ুর মুখ খুলে গিয়েছিল! ডাক্তার বলেছিল নয় সন্তান বাঁচবে নয় আমি” কৃষভির এক বছরে জানুন শ্রীময়ীর জীবনের অলৌকিক গল্প

গত বছর কালীপুজোর সময়টা আজও ভুলতে পারেন না অভিনেত্রী শ্রীময়ী। সকাল থেকে একবারও সন্তানের নড়াচড়া অনুভব করছিলেন না তিনি। আতঙ্কে স্বামী কাঞ্চন মল্লিক তাঁকে নিয়ে ছুটে যান হাসপাতালে। চিকিৎসক তখনই সতর্ক করেন — হয় মা, নয় মেয়ে, এক জনই বাঁচতে পারে! সেই সময় অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার আগে কাঞ্চনকে সই করতে হয় বন্ডে। আজ সেই ভয়াবহ দিনের এক বছর পরে, সুস্থ কৃষভিকে কোলে নিয়ে শ্রীময়ী বলেন, “সবটাই যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়।”

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন শ্রীময়ী। মাঝেমাঝে রাগ, কান্না, ভয়—সব মিলিয়ে মেজাজের ওঠানামা চলত। “অনেক দিন এমন গিয়েছে, যখন কাঞ্চনকে বলেছি, তুমি আমার জীবন থেকে চলে যাও, আমি একাই থাকব,” বলেন তিনি। কিন্তু কাঞ্চন ও তাঁর চিকিৎসক দু’জনেই ধৈর্য ধরে পাশে ছিলেন। শ্রীময়ী বলেন, “আমার জন্য ওদের খুব বকুনি খেতে হয়েছিল।”

সেই সময় তাঁর জরায়ুর পর্দা ফেটে গিয়েছিল, বারবার ‘ওয়াটার ব্রেক’ হচ্ছিল। তাতেই বাড়ে বিপদ। এর উপর জন্ডিসও ধরা পড়ে। পুরো ন’মাস ধরে জন্ডিসে ভুগেছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলেন, এই অবস্থায় মা ও শিশুর জীবন দু’জনেরই ঝুঁকিতে ছিল। তবু শ্রীময়ীর একটাই প্রার্থনা ছিল—“আমার সন্তান যেন বাঁচে, সুস্থ হয়।” আজ কৃষভিকে দেখে মনে হয়, সেই প্রার্থনা যেন ঈশ্বর শুনেছিলেন।

এক বছর পরে এখন চিকিৎসককে দেখলে হাসিমুখে বলেন শ্রীময়ী, “আপনার জন্যই আবার দ্বিতীয়বার মা হতে ইচ্ছা করছে।” এই দিনটা তাঁর কাছে শুধু সন্তানের জন্মদিন নয়, জীবনের জয়ও। তাই কৃষভির প্রথম জন্মদিনে সবচেয়ে আগে কেক কাটলেন সেই চিকিৎসকের সঙ্গেই, যিনি তাঁকে মা হতে সাহায্য করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ “পৌষালী আমার সঙ্গে অসভ্যতামি করেছে, সবকিছু বাবার সম্পত্তি না!” “অনেক শিল্পীকে আসতে দেখেছি, মাটিতে মিশতে দেখেছি, অহংকারের শেষ ভালো নয়!”— ক্ষোভে ফেটে পড়লেন জোজো মুখোপাধ্যায়, নবীন শিল্পীর ব্যবহারে চরম কড়া ভাষায় বার্তা তাঁর! ঠিক কী ঘটেছে সংগীত শিল্পীর সঙ্গে?

জন্মদিনে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন শ্রীময়ী। মেয়ের জন্য নিজেই রান্না করবেন মাছ, যদিও এখনও মাংস খেতে দেননি। কাঞ্চন মেয়ের জন্য কিনে এনেছেন রুপোর থালা, বাটি, গ্লাস—সেই থালাতেই সাজবে পছন্দের খাবার। সন্ধেবেলা কেক কাটা হবে সবার সঙ্গে। শ্রীময়ীর চোখে এখন শুধু একটাই ইচ্ছে—“আমার কৃষভি যেন বড় হয়ে ভাল মানুষ হয়, এই আশাই করি।”

You cannot copy content of this page