টলিউডে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর হঠাৎ মৃত্যুর পর। এই ঘটনায় শুধু তাঁর পরিবার বা কাছের মানুষ নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রিই স্তব্ধ। একই সঙ্গে উঠছে একাধিক প্রশ্ন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, আর কেন এখনও সঠিকভাবে সবকিছু জানা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসে নিজের মত জানালেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, কেন তাঁরা রাস্তায় নেমে ন্যায়বিচারের দাবি তুলতে বাধ্য হলেন।
সৃজিত খুব সহজ ভাষায় বলেন, শুরুতে তাঁদের সবারই মনে হয়েছিল তদন্ত দ্রুত এগোবে। কিন্তু দিন যেতে দেখা যায়, সেই গতি নেই। তাঁর কথায়, “যেভাবে এগোনোর কথা ছিল, সেভাবে এগোচ্ছে না।” এই কারণেই রাহুলের ঘনিষ্ঠ মানুষজন ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে উঠছিলেন। অনেকদিন ধরেই তাঁদের মনে হচ্ছিল কিছু একটা করা দরকার। শেষমেশ সহকর্মীদের কাছ থেকে যখন প্রতিবাদের কথা আসে, তখন তিনি বুঝতে পারেন এবার চুপ করে থাকলে চলবে না, প্রশ্ন তুলতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবাদ কোনও বড় সংগঠন বা দলের পক্ষ থেকে নয়। রাহুলের বন্ধু, সহকর্মী আর যারা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তারাই নিজেদের মতো করে একজোট হয়েছেন। কেউ আলাদা করে ডাকেনি, কিন্তু সবাই নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই এসেছে। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই তাঁকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, “কে এই মিছিল ডেকেছে?” তার উত্তরে সৃজিত স্পষ্ট করে বলেন, এটা কোনও সংগঠনের নয়, এটা ভালোবাসা আর দায়িত্ব থেকে তৈরি হওয়া একত্রিত হওয়া।
শুধু তদন্ত নয়, শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা খুব একটা শক্ত নয়। আগে থেকে অনেক সময় শিল্পীরা নিজেদের মতো করে কাজ সামলেছেন, নিজেদেরই সাবধানে থাকতে হয়েছে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। একটা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে সব নিয়ম মেনে সঠিক নিরাপত্তা থাকা খুবই জরুরি। তিনি আশা করেন, এই ঘটনার পর সবাই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: “আমাদের অক্সিজেন, জল, সূর্য আর পৃথিবী…” আবেগে ভাসলেন রাজা ও মধুবনী! ছেলে কেশবের পাঁচ বছরে জন্মদিনে ভালোবাসায় ভরা খোলা চিঠিতে কী লিখলেন তারকা দম্পতি?
শেষে সৃজিত রাহুলের একটা স্বপ্নের কথাও বলেন। রাহুল নাকি একটা ছবি পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন এবং সেই গল্প তিনি অনেকবার বন্ধুদের শুনিয়েছেন। সেই ছবির কাজ এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু সৃজিত চান, কোনও না কোনওভাবে সেই স্বপ্নটা পূরণ হোক। তাঁর মতে, কে পরিচালনা করবে সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু রাহুলের শেষ ইচ্ছে যেন বাস্তবে রূপ পায়, সেটাই সবচেয়ে জরুরি। এই ঘটনায় শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়, বরং অনেক না-বলা সমস্যাও সামনে এসেছে, যার সমাধান এখন খুবই দরকার, জানিয়েছেন পরিচালক।






