নতুন বছরের শুরুতেই টলিপাড়ায় এমন একটা খবর এল, যা অনেকেই হয়তো আগে থেকে আন্দাজ করলেও বিশ্বাস করতে সাহস পাননি। ‘দেশু’র (Desu) নতুন ছবি ঘোষণার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে দেব (Dev) এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly)। কারণ, ২০২৬-এর পুজোর ছবির ঘোষণার পরদিনই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন শুভশ্রী। মূলত, এদিন তিনি তাঁর সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র জন্য গিয়েছিলেন হল ভিজিটে। সেখানেই তাঁকে ‘দেশু’র নতুন ছবি নিয়ে উত্তেজনা এবং প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, দেব-শুভশ্রী সম্পর্কের অতীত যে মোটেই মধুর ছিল না, তা ভক্ত থেকে শুরু করে টলিপাড়ার কারও অজানা নয়। দীর্ঘদিন মুখ দেখাদেখি বন্ধ, হাজার ভুল বোঝাবুঝি এবং অভিমানের পরেও, ২০২৫ এ ‘ধূমকেতু’-র প্রচারে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার পরেও যেন দূরত্ব পুরো মেটেনি! তবে, এদিন শুভশ্রীর কথাবার্তায় সেই অতীতের ভার টেনে আনার কোনও চেষ্টা ছিল না। বরং তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে পেশাদারিত্বের জায়গাটা। সময় বদলায়, মানুষ বদলায় কিন্তু কাজের জায়গায় দায়িত্ববোধটাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়, এই বার্তাই যেন তিনি দিতে চেয়েছেন।
এদিন কিন্তু প্রত্যাশিত উত্তেজনা বা স্পষ্ট হ্যাঁ-না কোনওটাই শোনা গেল না তাঁর মুখে! বরং খুব স্বাভাবিক এবং সংযত ভঙ্গিতে তিনি জানালেন, এখনই কিছু বলার সময় আসেনি, একটু অপেক্ষা করলেই নাকি আরও চমক সামনে আসবে! এই সংযত মন্তব্যটাই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিল। এদিন শুভশ্রীর কথার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে ছিল অনেক ইঙ্গিত, আবার একইসঙ্গে ছিল এক ধরনের নিশ্চিন্ত ভরসা। এত বছর পর ‘দেশু’কে আবার নতুন ছবিতে দেখা যাবে, এই প্রসঙ্গে তাঁর হালকা হাসি আর ‘তোমরা খুশি তাই আমিও খুশি’ উত্তরই বুঝিয়ে দিল, তাঁর উত্তেজনার মাত্রা।
যদিও তিনি নিজে খুব সচেতনভাবেই সবটা খোলসা করতে চাননি। বরাবরের মতোই অপ্রয়োজনীয় নাটক না করে, নিজের অবস্থানটা রাখলেন পরিমিত। আসলে শুভশ্রীর এই নীরব সম্মতিই ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় খবর। কারণ এত বছরে বহুবার দেব-শুভশ্রী জুটির ফিরে আসা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বাস্তব রূপ পায়নি। এবার তাঁর কথায় স্পষ্ট, তিনি কোনও তাড়াহুড়ো করতে চান না, আবার দরজাও বন্ধ করে দিচ্ছেন না। তিনি জানেন এই জুটি শুধু দুই অভিনেতার নয়, অনেক দর্শকের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক সময়ের প্রতিনিধি।
আরও পড়ুনঃ কিছু হলেই আ’ত্মহ’ত্যা করে নিচ্ছে! প্লুটো থেকে শুরু এখন বাবিল! অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখাতে গিয়ে কী সমাজে বিপজ্জনক বার্তা ছড়াচ্ছে চিরসখা? আ’ত্মহ’ননের প্রবণতা কেন বারবার ফিরছে গল্পে, প্রশ্ন তুলছেন দর্শকরা
তবে শেষ পর্যন্ত এটুকুই বলা যায় যে শুভশ্রী খুব সাবধানে, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই নিজের অবস্থানটা জানিয়ে দিয়েছেন। না অতিরিক্ত আবেগ, না কোনও বাড়তি উত্তেজনা, শুধু এটুকু ইঙ্গিত যে আবার একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তটা হঠকারিতায় নেওয়া হয়নি, বরং অনেক ভেবে চিন্তে নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত। এবার পুজোয় কী অপেক্ষা করছে, সেটা সময়ই বলবে। তবে শুভশ্রীর কথায় এটুকু স্পষ্ট, পুরনো অধ্যায় নতুনভাবে শুরু হলে তাতেও তিনি আপত্তিহীন। আর সেটাই হয়তো ভক্তদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি!






