“আমার বাবাকে বলতেন মেয়েকে ভালো সুযোগ দেব, আট বছর ধরে অমায় দিনের পর দিন…” শারীরিক হেন’স্থার অভিযোগ! প্রতিবাদ পোস্ট মুছতে দেওয়া হচ্ছে হু’মকি? প্রযোজক সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে সরাসরি মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ অভিনেত্রী! পাল্টা কী জানালেন টেন্ট সিনেমার কর্ণধার?

বাংলা টেলিভিশন দুনিয়ায় পরিচিত প্রযোজনা সংস্থা টেন্ট সিনেমা এবং তার কর্ণধার সুশান্ত দাসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহুদিন ধরেই তাঁর প্রযোজিত ধারাবাহিক দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং টিআরপি তালিকাতেও ভালো ফল করেছে। কিন্তু এবার সেই পরিচিত নামের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক অভিনেত্রী। অভিযোগ করেছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। প্রথমে তিনি নিজের অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেলে তিনি সরাসরি ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেনের দ্বারস্থ হন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে টেলিভিশন মহলে। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। ঘটনাটি এখন বড় আকার নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সুকন্যা দত্ত গুহ জানিয়েছেন, প্রায় আট বছর ধরে তিনি নানা ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, সুশান্ত দাস তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ফেলেছেন। তিনি বলেন, “প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস।” সেই সময় তিনি সুশান্ত দাসের প্রযোজনায় “দীপ জ্বেলে যাই” ধারাবাহিকে কাজ করতেন। তাঁর কথায়, কাজের সময় তাঁকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয় যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। তিনি জানান, “তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন, যদি রাজি না হই, তাহলে সিনটা বাদ দিয়ে দেবে।” এই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানান। তবে তিনি নিজের সম্মান বজায় রেখে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

অভিনেত্রীর দাবি, সেই ঘটনার পরেই তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ শুরু হয়। তিনি বলেন, “তবুও শিল্পের মর্যাদা করেছি, রাজি হইনি। বাদ যায় আমার সিনটা, শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। আর এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার।” শুধু তাই নয়, তাঁর পরিবারকেও বারবার প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তিনি জানান, “আমার বাবাকে বারবার বলতেন মেয়েকে ভাল সুযোগ করিয়ে দেব।” সুকন্যার কথায়, তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক এবং মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, “আমায় দিনের পর দিন শারীরিক, মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।” এতদিন তিনি চুপ ছিলেন, কারণ তাঁর পরিবার ভয় পেয়েছিল। বিশেষ করে তিনি মফস্বলের মেয়ে হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন ছিল বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, “এত বছর মুখ বুঝে ছিলাম। কারণ মফস্বলের মেয়ে আমি, বাবা মা ভয় পেয়েছিল, যদি আমার কোনও ক্ষতি হয়ে যায়।” তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর স্বামী তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন এবং নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি মুখ খুলেছেন। সুকন্যা জানান, “কিন্তু এখন আমার স্বামী সবটা শুনে মনে জোর দিয়েছে, আমার চার মাসের সন্তানের মুখ চেয়ে আজ প্রতিবাদ করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে চুপ করানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “শুনতে পাচ্ছি, উনি প্রভাব খাটিয়ে আমায় দমিয়ে দিতে চাইছেন।” এমনকি তাঁর বাবাকে বারবার ফোন করে পোস্ট মুছে ফেলার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “রক্ষি’তার নাম তো রাখেননি, সংবিধান মান্যতা দিল না?” বিচ্ছেদ না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, মনোনয়নপত্রে প্রথম স্ত্রীর নাম পাশে লেখা ‘সেপারেটেড’! হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে এক হাত নিলেন অনিন্দিতা!

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার অভিযোগ যদি মিথ্যে হয় তাহলে সেদিন ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে প্রায় ১২ বার আমার বাবাকে কেন ফোন করেছেন?” তিনি আরও দাবি করেন, “পোস্ট ডিলিট করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। একপ্রকার হুমকি দিয়েছেন আমার বাড়ির লোকদের।” সুকন্যা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি আর চুপ থাকবেন না। তাঁর কথায়, “আর চুপ করে থাকব না। মহিলা কমিশনের কাছে সমস্ত প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ করেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার কেরিয়ার পর্যন্ত শেষ করে দিয়েছেন, আর কীসের ভয়?” অন্যদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে সুশান্ত দাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছেন এবং বড় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

You cannot copy content of this page