“মা’র খেতে খেতে যতক্ষণ না র’ক্ত বেরিয়ে যেত…দর্শকের হাততালিও পাই না, কু’ত্তার কপাল!” অ্যা’কশন থেকে সংলাপ, সব জায়গায় বঞ্চনার শিকার? নায়ককেন্দ্রিক ছবিতে খলনায়কের না-পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ সুমিত গাঙ্গোপাধ্যায়ের!

বাংলা বাণিজ্যিক ছবিতে বহু বছর ধরে খলনায়কের চরিত্রে অন্যতম পরিচিত মুখ ‘সুমিত গাঙ্গোপাধ্যায়’ (Sumit Ganguly)। এই মুহূর্তে তাঁকে সেইভাবে আর পর্দায় দেখা না গেলেও, তাঁর জনপ্রিয়তায় যে ভাঁটা পড়েনি এই কথা বলাই যায়। সম্প্রতি তিনি দীর্ঘদিন এই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। কথার ভঙ্গিতে ছিল হাস্যরস, কিন্তু তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল কিছু না-পাওয়া অনুভূতিও। নায়ককেন্দ্রিক ছবিতে খলনায়কদের জায়গা কতটা সীমিত? সেই প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।

অ্যাকশন দৃশ্যের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি মজার ছলে জানান, লড়াই শুরু হলেই তাঁর ভাগ্যে নাকি মারার থেকে মার খাওয়াই বেশি জোটে। বিশেষ করে প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে কাজের সময় এই অভিজ্ঞতা আরও স্পষ্ট। তাঁর ইঙ্গিত ছিল দেব ও জিৎ-এর মতো জনপ্রিয় নায়কদের দিকে। গল্পের চাহিদা মেনেই অবশ্য খলনায়ককে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হয় কিন্তু বারবার একইভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার দৃশ্য করতে করতে কখনও কখনও একঘেয়েমি আসে বলেও বোঝান তিনি।

দৃশ্য যত এগোয়, ততই খলনায়কের শক্তি কমতে থাকে এই চেনা ছক নিয়েই তাঁর রসিক মন্তব্য। তবে শুধু মারপিট নয়, সংলাপ নিয়েও তাঁর অন্যরকম অভিজ্ঞতা কম নয়। তিনি মনে করেন, কোনও দৃশ্যে যদি খলনায়কের সংলাপ বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন নায়কের কথায় সেটাকে ভারসাম্য করার চেষ্টা চলে। খলনায়কের সংলাপের পর এমন একটা সংলাপ দেওয়া হয় যে ফলে শেষ পর্যন্ত নায়কের সংলাপই বেশি প্রভাব ফেলে। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ না তুললেও, কথার ফাঁকে বোঝান যে দর্শকের হাততালি পাওয়ার সুযোগটা সব সময় সমানভাবে ভাগ হয় না।

একজন অভিনেতার কাছে দর্শকের প্রতিক্রিয়া বড় প্রাপ্তি, কিন্তু খলনায়কের চরিত্রে সেই মুহূর্ত অনেক সময়ই সীমিত। তাঁর কথায় হতাশা থাকলেও তা তিক্ত নয়। বরং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া বাস্তবতাকে “কু’ত্তার কপাল” বলে মেনে নিয়েছেন তিনি। বাংলা ছবিতে নায়ককে কেন্দ্র করে গল্প এগোনো নতুন কিছু নয়, তবু পার্শ্বচরিত্রদের অবদান যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই কথাই যেন ঘুরিয়ে বলতে চেয়েছেন তিনি। খলনায়ক না থাকলে নায়কের উত্থানও ততটা নাটকীয় হয় না, এই সহজ সত্যটাকেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ “ছেলে হিসাবে মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে পারছি না…একটা স্থায়ী আয় থাকলে সুবিধা হত” বিদেশে ডিগ্রি অর্জন করেও, মাসের পর মাস কাজ নেই খেয়ালি-অরিন্দম পুত্রের! বেকারত্ব ও অনুষার সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন আদিত্য!

তাঁর মন্তব্যে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রির চেনা কাঠামোর ইঙ্গিত। নায়ক-খলনায়কের লড়াই পর্দায় যতটা নাটকীয়, বাস্তবে তার পেছনের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। একজন অভিজ্ঞ অভিনেতার চোখ দিয়ে দেখা সেই বাস্তব ছবিটাই সাম্প্রতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর পাশাপাশি তিনি এও বোঝাতে চেয়েছেন, দর্শক অনেক সময় পর্দায় যেটা দেখেন, তার বাইরেও একটা আলাদা গল্প থেকে। ছবির ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে অনেক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়, যা সব চরিত্রের পক্ষে সমান সুবিধাজনক হয় না। তবু একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে তিনি সেই নিয়ম মেনেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

You cannot copy content of this page