“মেকআপ রুমে ভিড়, এই বয়সে বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সংসারটা তো চালাতে হবে” “আমি তো সিনিয়র আর্টিস্ট, আমার কি কাজের প্রয়োজন নেই?” ১৪ ঘণ্টা শুটিং, ঠিক মতো ডেটও দেয় না? শুটিং ফ্লোরের ক’ষ্টকর অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল!

অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন জগতে কাজ করে আসছেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষত টেলিভিশন নাটকে। বর্তমানে তিনি জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল “আনন্দী”-তে অভিনয় করছেন, যেখানে নায়কের ঠাম্মির চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এই চরিত্রটিও দর্শকদের কাছ থেকে ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরও, কাজের চাপ কমছে না, এমনটাই জানালেন কল্যাণী মণ্ডল। তিনি বলেন, “বয়স বাড়লেও কাজের চাপ কমছে না, বরং বেড়েছে।”

কল্যাণী মণ্ডল জানান, বর্তমানে শুটিংয়ের সময় প্রায় ১৪ ঘণ্টা হয়ে থাকে, যা অনেক সময় একদিনের কাজের থেকে বেশি হতে পারে। শুটিংয়ে তার সিন থাকুক বা না থাকুক, শিডিউল মেনে ফ্লোরে উপস্থিত থাকতে হয়। অনেক সময় তো পুরো দিনটাই শুধু বসে থাকতে হয়। তিনি মজা করে বলেন, “আমরা বসে থাকার জন্য টাকা পাই, সেটা না হলে কাজ তো হবে না।” শুটিংয়ের সময়ের চাপ এমন, যে কখনো কখনো একদিনের কাজ করতে করতে পুরো দিন চলে যায়, আর সেই সময়টাও বসে বসে কাটাতে হয়।

গরমের সময় শুটিং করা অনেক কঠিন হয়ে ওঠে। কল্যাণী মণ্ডল জানিয়েছেন, গরমের দিনে কখনো কখনো মেকআপ রুমে জায়গা না পেয়ে বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে, তাঁর মতো বয়সী শিল্পীদের জন্য একটাই সমস্যা, তা হলো বসার জায়গার অভাব। কল্যাণী মণ্ডল নিজেও জানালেন, “এ বয়সে প্লাস্টিকের চেয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা কতটা কষ্টকর, সেটা সবাই জানে।” একসময় শুটিংয়ের পরিবেশ আরও আরামদায়ক ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।

একটি বিশেষ মজার ঘটনা শেয়ার করে কল্যাণী মণ্ডল বলেন, “কখনো কখনো মনে হয়, যেন ইডি ডেকে নিয়ে গিয়েছে। জেরা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়, ঠিক তেমনই মনে হয়।” শুটিংয়ের মাঝে এমন কষ্টের মুহূর্ত প্রায়ই আসে, কিন্তু শিল্পীরা সেই পরিস্থিতি মেনে নিয়েই কাজ করতে বাধ্য হন। কল্যাণী মণ্ডলের মতে, শুটিংয়ের কাজ কখনোই সহজ নয়, কিন্তু তবুও এর মধ্যেই রয়েছে অনেক ভালোবাসা ও সাপোর্ট।

আরও পড়ুনঃ “যদি কাজটা না হয়, খাওয়া হবে না” ফিশ ফ্রাইয়ের লোভে রাজি হয়েছিলেন পাপিয়া অধিকারী! নস্টালজিয়ায় মোড়া ‘বিবি পায়রা’ গানের আড়ালে লুকিয়ে আছে চমকে দেওয়া সত্যি? কীভাবে তৈরি হয়েছিল সেই আইকনিক চরিত্র?

আনন্দী সিরিয়ালের কাজে কল্যাণী মণ্ডল আগেও একদিন কাজ করতে গিয়ে পুরো মাস ধরে বসে ছিলেন। এমনকি একদিনের ডেটও পাওয়া যায়নি, অথচ মাসে ১৫ দিন কাজের কথা বলা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “আমি তো সিনিয়র আর্টিস্ট, আমার কি কাজের প্রয়োজন নেই? কিন্তু বাস্তবে, শুটিং তো করতেই হবে।” শেষপর্যন্ত, ফ্লোরের সব সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো, কিন্তু তিনি তার অসুবিধাগুলো জানাতে লজ্জাবোধ করেন না।

You cannot copy content of this page