বাঙালির গর্ব শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিংবদন্তি উপন্যাস ‘পথের দাবী’ প্রকাশের শতবর্ষ উপলক্ষে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherji) তৈরি করছেন এক বিশেষ ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra) । স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তাল সময়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন আর সেই সময়কার সাহিত্যিকদের লেখনী– এই তিনকে মিলিয়ে এক নতুন অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন পরিচালক। ছবির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি শুধু উপন্যাসের পুনর্নির্মাণ নয় বরং পরিচালকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে সাজানো এক ঐতিহাসিক আখ্যান।
স্বাধীনতার টানাপোড়েনের মাঝেও সাহিত্য যে অস্ত্রের মতো কাজ করেছিল, সেই অনুভবকেই পর্দায় তুলে ধরতে চাইছেন তিনি। শুরুতে ছবির কাস্টিং নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল। আবির চট্টোপাধ্যায় আর টোটা রায়চৌধুরির নাম আগেই নিশ্চিত হয়ে গেলেও, সম্প্রতি জানা গিয়েছে সোহিনী সরকারের বদলে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন মিমি চক্রবর্তী। এই প্রজেক্টের মাধ্যমেই প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করতে চলেছেন মিমি ও সৃজিত। পরিচালক জানিয়েছিলেন, গল্পের আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করবেন অভিনেত্রী।
এছাড়াও রুদ্রনীল ঘোষ, কাঞ্চন মল্লিক, দিব্যাণী মণ্ডল সহ আরও অনেকে থাকছেন এই ছবিতে। তবু যেটা সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি করছে, তা হল– সব্যসাচীর ভূমিকায় কাকে দেখা যাবে? সৃজিত আপাতত সেই নাম গোপনই রেখেছেন। এদিকে ছবির প্রযোজনাতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রথমে এসভিএফ এবং দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া এই ছবিকে প্রযোজনা করবে বলে শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়েছে নন্দী মুভিজ। প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দী জানিয়েছেন, এই ছবি তাঁদের কাছে শুধু একটি প্রজেক্ট নয়, শরৎচন্দ্রের মতো সাহিত্যিকের সম্মান জানানোর এক অভিনব উদ্যোগ।
তাঁর কথায়, এমন গল্পই তাঁরা তৈরি করতে চান যা দর্শককে ভাবতে বাধ্য করবে, অনুপ্রেরণা দেবে এবং শিল্পের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। তাই এই ছবি তাঁদের কাছে এক ধরনের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা। অন্যদিকে, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ছবিটি নিয়ে নিজের ভাবনা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ এমন এক গল্প, যেখানে কলম আর তলোয়ার মুখোমুখি দাঁড়ায় প্রতীকী শক্তি হয়ে। বাস্তবতা ও কল্পনার সূক্ষ্ম মিশ্রণে তিনি তুলে ধরতে চান সেই সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাধারণ মানুষের মানসিক টানাপোড়েন এবং উপনিবেশিক শাসনের ছায়া।
আরও পড়ুনঃ ছেলেবেলায় মাকে চোখের সামনে হারিয়েছেন, দু’র্ঘট’নায় হারিয়েছেন প্রথম স্বামীকেও! ‘কম্পাসে’র বড় বৌদি অন্বেষা রায় মুখোপাধ্যায়ের জীবনের গল্প চোখে জল আনবে আপনার
স্বাধীনতার বীজ কোথায় বোনা হয়েছিল, সেই ইতিহাসকেই নতুনভাবে ব্যাখ্যা করবে এই ছবি, এটাই তাঁর লক্ষ্য। আরও একটি বড় চমক, এই ছবির সংগীত পরিচালনার দায়িত্বও নিজেই নিয়েছেন সৃজিত। অর্থাৎ এই ছবিতেই সুরকার হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ। পরিচালনার পাশাপাশি সংগীতে তাঁর এই নতুন ভূমিকার কারণে ছবিটি নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। আগামী জানুয়ারি থেকে শুটিং শুরুর কথা এবং লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০২৬ সালের মে মাস, পথের দাবী প্রকাশের শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময়েই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। সব মিলিয়ে, এই ছবি টলিউডে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা অনেকের।






