“কটা দুর্গাপুজো করেই নিজেদের আন্তর্জাতিক তারকার সমকক্ষ ভাবছে, এভাবে কোমর ধরাটা শিক্ষার অভাব!” “বাংলার মানুষদের ভবিষ্যতে এভাবে টাকা ঢালার আগে ভাবা উচিৎ!” কলকাতা হ্যাংলামিতেই সেরা, মেসি অনুষ্ঠান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া চন্দন সেনের!

ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ‘চন্দন সেন’ (Chandan Sen) বরাবরই নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডির বাইরে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁর অভিনয়জীবনের দিকে লক্ষ করলেই বোঝা যাবে, তিনি যে ধরনের চরিত্র করেন, সেগুলো যেন বাস্তবের প্রতিচ্ছবি! নানান বিতর্ক, সমালোচনা আর ব্যক্তিগত মতাদর্শের কারণে বারবার আক্রমণের মুখে পড়লেও শিল্পীর দায়িত্ব থেকে কখনও সরে যাননি। সম্প্রতি মেসিকে (Messi Kolkata) ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন আসে তাঁর কাছেও। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে!

গত শনিবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে এসেছিলেন ফুটবলের জাদুকরকে এক ঝলক দেখবেন বলে। কিন্তু বাস্তবটা দাঁড়াল সম্পূর্ণ উল্টো। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষমতা প্রদর্শন, অগোছালো ব্যবস্থাপনায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি! খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। জলের বোতল ছোড়া, চেয়ার ভাঙা বা মাঠজুড়ে ভাঙচুরে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন আয়োজনের দায় কার?

এই প্রসঙ্গে চন্দন সেন স্পষ্ট ভাষায় দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথাই তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একই আয়োজক হায়দ্রাবাদেও মেসির অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে কোনও বিশৃঙ্খলা হয়নি। তিনি বলেন, “বাংলায় যিনি আয়োজক ছিলেন, তিনিই হায়দ্রাবাদেও আয়োজন করেছিলেন। তাহলে এখানে কেন হলো না, যেটা ওখানে হলো? আসলে এখানে, নেতা মন্ত্রীদের শিক্ষার অভাব, শৃঙ্খলার অভাব! এখানে কটা দুর্গা-কালী পুজো করেই নেতারা নিজেদের সেরা ভাবে। রাহুল গান্ধী হায়দ্রাবাদে মেসিকে ঘনঘন জড়িয়ে ধরেননি, যেটা হ্যাংলামীর বসে বাংলার কিছুজন করেছেন।

মেসির ম্যানেজিং কমিটির থেকেই তো জানানো হয়েছে যে, উনি বিরক্ত হয়েই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। কারণ একজন রাজনৈতিক নেতা বারবার তাঁকে স্পর্শ করছিলেন!” কলকাতার ঘটনার ঠিক উল্টো ছবি ধরা পড়েছে হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বইয়ে। সেখানে মেসি মাঠে নেমে দর্শকদের উদ্দেশে ফুটবল খেলেছেন, সবার সঙ্গে দেখা করেছেন। মুম্বইয়ে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, হাতে ভারতের পতাকা মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা যে অভিজ্ঞতা আশা করেছিলেন, সেটাই তারা পেয়েছেন।

এই তুলনাতেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলার ঘাটতিটা কোথায় ছিল? চন্দন সেন সেই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “বাংলার মানুষের এইসব প্রতিশ্রুতিতে ভবিষ্যতে বিবেচনা করে পা বাড়ানো উচিৎ। অতীতেও সারদা-নারদাকে ভরসা করে সৎ পথে উপার্জন করা টাকা লুট হয়েছিল, তার জন্য এই প্রশাসন গঠন সম্ভব হয়েছে। এবারও মেসিকে দেখানোর নাম করে সেটাই হলো। আয়োজকের তো নিজের কোনও দল নেই, তাঁকে বাধ্য হয়ে শাসক দলের সাহায্য নিতে হয়েছে আর সেখানেই তিনি ব্যর্থ হলেন।”

আরও পড়ুনঃ ‘চার-পাঁচ মাস ধরে কাজ নেই…আমি যোগ্য না হলে পাব না, মতাদর্শ পাল্টে কাজ পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না!’ ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না, স্পষ্ট বার্তা মানসী সিনহার! রাজনৈতিক মতাদর্শ বনাম শিল্পীর যোগ্যতা নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তুললেন তিনি!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়া ভাঙচুর নিয়েও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে গভীর আক্ষেপ। তাঁর মতে, এই ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, আবেগেরও! তিনি বলেন, “এই যে এতগুলো চেয়ার ভেঙে ফেলা বা এমন দুরবস্থায় সবথেকে বেশি আঘাত পেতেন সুভাষ চক্রবর্তী। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে এটা সহ্য করতে পারতেন না। একবার ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের খেলায় অনেকে চেয়ার ভাঙছিল, সুভাষ চক্রবর্তী বলেছিলেন তাঁর বুকে মারতে! নিজের হাতে তৈরি করেছেন উনি এই ক্রীড়াঙ্গন।”

You cannot copy content of this page