‘বাবা কোন‌ও দায়িত্ব না নিলেও, সন্তানের উপর নাকি প্রথম অধিকার বাবার!’ ‘মা হয়ে একা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না?’ বিচ্ছে’দের পর, মেয়ের পদবী বদলানো নিয়ে আইনি জটিলতায় স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়! সামনে এল কঠিন বাস্তব!

অভিনয়ের জগৎ থেকে আজ স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায় (Swaralipi Chatterjee) অনেকটাই দূরে। এক সময় অভিনয়ের সূত্রেই সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Shoumo Banerjee) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ব্যক্তিগত জীবনের কেন্দ্রে চলে আসে। সেই সম্পর্ক ভাঙার পর বহু প্রশ্ন, জল্পনার মধ্যেও স্বরলিপি নিজেকে গুটিয়ে নেননি। বরং মেয়ে ‘সহচরী’কে সঙ্গে নিয়ে নতুনভাবে বাঁচার পথ খুঁজেছেন। আজ তিনি জনপ্রিয় ক্যাফে ‘আবার বৈঠক’-এর উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত।

কিছুদিন আগেই এক আলাপচারিতায় স্বরলিপি নিজের দাম্পত্য জীবনের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। দীর্ঘদিনের লিভ-ইনের পর পরিবারের চাপে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, কিন্তু বিয়ের পরই বাস্তবটা অন্য রকম হয়ে উঠতে শুরু করে। কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য, কখনও অবহেলার অনুভূতি মিলিয়ে সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। স্বরলিপির কথায়, তখন তিনি নিজেকে ক্রমশ ছোট হয়ে যেতে দেখছিলেন, অথচ পরিস্থিতির কারণে প্রতিবাদ করার জায়গাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

গর্ভাবস্থার সময়টা তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি বলে মনে করেন স্বরলিপি। শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে মানসিক চাপ একসঙ্গে বইতে হয়েছে তাঁকে। পাশে দাঁড়ানোর মানুষের অভাব, সাহায্য চেয়েও উত্তর না পাওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে ভিতরে ভিতরে ভেঙে দিয়েছিল। কখনও কখনও মনে হতো, সংসারে তাঁর উপস্থিতি যেন অপ্রয়োজনীয়। সেই সময়েই তিনি স্বামীর জীবনে অন্য নারীর উপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

তবুও এই সবকিছুর মাঝেই সন্তানের কথা ভেবে নিজেকে সামলে রেখেছিলেন তিনি। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ব্যক্তিগত আঘাত, দুটোই সমানভাবে সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। মেয়েকে কেন্দ্র করেই নিজের শক্তিটা ফিরে পেয়েছেন তিনি। ঠিক করেছেন অতীতের সব ক্ষতকে সামনে না এনে নিজের মতো করে বাঁচবেন। প্রসঙ্গত, এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সন্তানের পদবী পরিবর্তনের চেষ্টা!

আরও পড়ুনঃ আমার দু’বার বিয়ে! সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাতই আলোচনায় সুদীপার জীবন! নিজের অজানা অধ্যায়ের কথা সামনে আনলেন নিজেই

এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে বলে জানান স্বরলিপি। তাঁর কথায়, “আমায় বলা হয়, সন্তানের উপর প্রথম অধিকার তার বাবার! তাই আমি যখন পদবী পরিবর্তন করতে গেলাম, বলা হলো তাহলে আমার বাবার পদবী ব্যবহার করতে হবে। আমি বলি কোনও পদবী লাগবে না! তখন জানানো হয়, সেক্ষেত্রে বাচ্চার মা এবং বাবা দুইজনেরই সম্মতি লাগবে। যতই তুমি বিচ্ছেদ নাও, সন্তানের সব সিদ্ধান্তেই বাবাকে লাগবে। অবাক হয়েছি এটা জেনে যে, মেয়ের বাবা যদি পদবী পরিবর্তনের কথা বলতো সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যেত। যেহেতু আমি মা, তাই একার সিদ্ধান্তে হবে না!” তবুও স্বরলিপি জানিয়েছেন, মেয়েকে নিয়েই তাঁর ভবিষ্যৎ, সেই পথেই তিনি এগোতে চান।

You cannot copy content of this page